এক কোটি টাকা হলেই দেখা যাবে আসল টাইটানিক জাহাজ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৭ রবিউস সানি ১৪৪২

এক কোটি টাকা হলেই দেখা যাবে আসল টাইটানিক জাহাজ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪২ ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:০৪ ২১ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

টাইটানিক নামটি শোনেনি, এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা! বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই জাহাজ সম্পর্কে তখন বলা হয়েছিল সেটি কখনও ডুববে না। অতঃপর ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে বরফের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তর আটলান্টিক সমুদ্রে ডুবে যায় বিশাল এই জাহাজ।

আরো পড়ুন: ‘মেরুপ্রভার’ কারণেই ডুবে যায় টাইটানিক, রহস্য উদ্ঘাটন

টাইটানিক জাহাজ নিয়ে সিনেমা হওয়ার পর থেকে এটি নিয়ে বিশ্ববাসীর মনে জল্পনা-কল্পনা বেড়ে যায়। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার প্রায় ৮০ বছর পর এর খোঁজ মেলে। ব্রিটিশ এই জাহাজের ধ্বংসস্তূপ প্রথম আবিষ্কার করা হয় ১৯৮৫ সালে। 

আরো পড়ুন: টাইটানিক থেকে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়া শেষ ব্যক্তির পরিণতি

বর্তমানে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখার সুযোগ হচ্ছে পর্যটকদের। তবে এর জন্য একজন পর্যটককে খরচ করতে হবে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা।  

ডুবে যাওয়া টাইটানিকসমুদ্রতল থেকে প্রায় ১২ হাজার ৪৬৭ ফুট নিচে গেলে দেখা যাবে সেই ধ্বংসস্তূপ। সমুদ্রের নিচের জগত অন্বেষণকারী একটি সংস্থা টাইটানিক জরিপ অভিযান ২০২১ ঘোষণা করেছে। এই সময়ের মধ্যে মানুষের টাইটানিকের ধ্বংসস্তূপের একটি ট্যুর করানো হবে।

আরো পড়ুন: সত্যি কি সেদিন টাইটানিক ডুবেছিল? জানুন এর আসল রহস্য

ওসানগেট অভিযানের প্রকল্পটি বেসামরিক বিশেষজ্ঞদের পানির তলায় টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার ও গবেষণার জন্য মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রশিক্ষণ দেবে। ওসানগেটের মতে, এই মিশনের বেসামরিক বিজ্ঞানী ও অন্বেষীদের ধ্বংসস্তূপে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রথম পর্যায়ে আগামী বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে মে শেষ পর্যন্ত চলবে। এর জন্য ছয়টি মিশন নির্ধারিত রয়েছে। প্রতিটি মিশন ১০ দিন করে হবে এবং ৫ টি সাবমেরিন ডাইভারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যা বেসামরিক বিজ্ঞানী এবং এক্সপ্লোরারদের ধ্বংসের স্থানে নিয়ে যাবে। ওসানগেটের মতে, সিরিজের আরও একটি সেট ২০২২ এর গ্রীষ্মে শুরু হবে।

টাইটানিকে ধ্বংসাবশেষ৯ জন যোগ্য বিজ্ঞানী প্রতিটি মিশনে যাওয়ার জন্য অনুমোদন পাবেন। পাঁচ জনের মধ্যে কেবল তিনজন মিশন বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেয়া হবে।

এর আগে চলতি বছরের প্রথম দিকে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ রক্ষার্থে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিবিসি’র এক প্রতিবেদন জানায়, হিমশৈলে ধাক্কা লেগে তলিয়ে যাওয়ার ১০৭ বছর পরে ঐতিহাসিক জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ বাঁচাতে এই প্রথম  আন্তর্জাতিক চুক্তি এবছরই হয়। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ ও মার্কিন সরকার টাইটানিকের রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

টাইটানিক যেভাবে ডুবেছিল

বিজ্ঞানীদের মতে, টাইটানিক যাত্রা পথে এক বিশাল বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, আকাশে আলোর খেলারে কারণেই ডুবে যায় টাইটানিক। ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ডুবে যায় বিশ্বখ্যাত জাহাজ আর.এম.এস. টাইটানিক। সেদিন আকাশে চাঁদ না উঠলেও, একেবারের নিকষ অন্ধকারও ছিল না। বরং আকাশে ছিল নর্দার্ন লাইটস বা মেরুপ্রভা।

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষবিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্সের প্রতিবেদক মিন্ডি ওইবার্জারের মতে, সৌর ঝড়ে সৃষ্ট ওই আলোর কারণে ম্যাগনেটিক সিগন্যাল ও রেডিও ওয়েভ হতে পারে বাধাগ্রস্ত। এই রকম বিঘ্নের ওপর ভর দিয়েই, টাইটানিক নিয়ে গবেষণারত স্বাধীন গবেষক মিলা জিনকোভা সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন।

ওয়েদার জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, অপার্থিব ওই আলোর কারণেই ডুবে গেছে টাইটানিক। পাশাপাশি আরো অনেক কারণও রয়েছে। গবেষণার তথ্য মতে, এ কারণেই জাহাজটির কম্পাস ঠিকমতো কাজ করছিল না। 

তাই টাইটানিক ডোবার জন্য দায়ী করা হয় হিমবাহ বা আইসবার্গকে, সেটির সঙ্গে জাহাজটির সংঘাত এড়াতে পারেননি এর নাবিক। কম্পাসটিকে যদি মাত্র এক ডিগ্রিও সরানো যেত, তাহলে ইতিহাস হতো অন্য রকম।

সূত্র: ফক্স নিউজ/ স্মার্ট নিউজ ম্যাগাজিন

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস