পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ফুল

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ফুল

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০০ ১৭ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১১:০১ ১৮ নভেম্বর ২০২০

ছবি: সুজিপানা

ছবি: সুজিপানা

পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯০০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ প্রজাতিই ফুল দেয়। সবচেয়ে বেশি ফুল পাওয়া যায় নেদারল্যান্ডে। সেখানে রয়েছে অনেক প্রজাতির ফুল, তার ভেতরে টিউলিপ অন্যতম। অনেকেই বলেন টিউলিপের বাগান দেখে নাকি মন শুদ্ধ হয়। তবে এই টিউলিপের বাগান কিন্তু পৃথিবীর বেশ কয়েকটি জায়গায় রয়েছে। 

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুলের নাম রাফলেশিয়া আর্নল্ডি। এর ওজন হয় প্রায় ছয় থেকে সাত কিলো পর্যন্ত। এই ফুল ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, সুমাত্রায় পাওয়া যায়। এমনকি এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফুল। এ ফুলের সাধারণত মোটা মোটা পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুলের ব্যাস দেড় থেকে তিন ফুট পর্যন্ত হয়।

পুকুর জলাশয়ে সচরাচর দেখা মেলে এদের

কর্পস ফ্লাওয়ারের সৌন্দর্য ফুলপ্রেমীদের মুগ্ধ করলেও এর গন্ধ মানুষকে কোনোভাবেই আকৃষ্ট করে না। কাছে গেলে ফুলটি থেকে পচা মাংসের দুর্গন্ধ আসে। এ কারণেই অনেকে কর্পস ফ্লাওয়ারকে ‘মৃতফুল’ বলে অভিহিত করে। মানুষের কাছে কর্পস ফ্লাওয়ারের গন্ধ দুর্গন্ধ মনে হলেও কীটপতঙ্গের কাছে এটি সুগন্ধি ফুল। তবে মাত্র কয়েক দিনের জন্যে ফোটে এই ফুল। 

আরো পড়ুন: তিন মাছ যেভাবে বদলে দিয়েছে দেশের মৎস্য উৎপাদনের চিত্র

ফুলের এই বিশাল সাম্রাজ্য নেদারল্যান্ডসকে পৃথিবীর ফুলশিল্পে একচ্ছত্র আধিপত্য দান করেছে। নেদারল্যান্ড একাই সারা বিশ্বের প্রয়োজনীয় ফুলের ৬৫ শতাংশ সরবরাহ করে। বিশ্বের বৃহত্তম ফুল নিলাম প্রতিষ্ঠান আলসমিয়ার ফ্লাওয়ার অকশনও নেদারল্যান্ডেই অবস্থিত। আচ্ছা এ তো গেল বড় ফুলের কথা। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম ফুল কোনটি জানেন কি? পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ফুল হচ্ছে সুজিপানা।

এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র হয় যে একটি কণা দেখতে মাইক্রোস্কোপ দরকার হবে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বর্গের লেমনেসিয়া গোত্রের অন্তর্গত অবাধ ভাসমান জলজ সপুষ্পক উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম ওলফিয়া আরিজাহ। নাম খুব কঠিন মনে হলেও এটির সঙ্গে কিন্তু সবাই কমবেশি পরিচিত আমরা। প্রায় পুকুর বা জলাশয়ে এটি দেখে থাকবেন। এক ধরনের শ্যাওলা বলতে পারেন একে। তবে এগুলো এক ধরনের ফুল। যেগুলো অনেক বেশি ক্ষুদ্র হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন: ৫০০০ বছর ধরে মৃত মা সন্তানকে জড়িয়ে রেখেছেন পরম আদরে 

পানিতে চরে বেড়ানো পাখিদের প্রিয়খাদ্য এটি। দ্রুত বংশবৃদ্ধিতে অন্যান্য গাছগাছালিকে সহজেই ছাড়িযে যায় এবং খরা, ঠান্ডা, খাদ্যাভাব ইত্যাদি পরিবেশগত দুর্যোগেও টিকে থাকতে পারে। শুধু যে পাখিদের খাদ্য তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে এটি। সালাদ হিসেবে খাদ্যযোগ্য প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘বি’ সমৃদ্ধ। মায়ানমার, লাওস ও উত্তর থাইল্যান্ডে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়সপুষ্পক হলেও সুজিপানায় দৈবাৎ ফুল ফোটে, বংশবৃদ্ধি মূলত অঙ্গজ-মুকুলে। এগুলো বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আছে গত এক শতক ধরে। এই ক্ষুদ্র ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদটি হচ্ছে থ্যালাস (যে উদ্ভিদ পাতা, শাখা-প্রশাখা এবং মূলে বিন্যস্ত নয়) প্রজাতির উদ্ভিদ। সবুজ বা হলুদাভ সবুজ বর্ণের এই উদ্ভিদটির কোনো মূল নেই। উদ্ভিদটির দৈর্ঘ্য ১ থেকে ৫ মি.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর কোনো স্বতন্ত্র কাণ্ড ও পাতা নেই। গোটা উদ্ভিদটাই আসলে চ্যাপ্টা ছোট একটি পত্রকল্প কাঠামো বা ফ্রন্ড। এ ফ্রন্ড নিচে ঝুলন্ত এক বা একাধিক কৈশিক মূলসহ একক বা দলবদ্ধ থাকে।

ফুল সাধারণত উদ্ভিদটির ওপরের স্তরে জন্মে থাকে। এর একটি করে পুংকেশর ও গর্ভকেশর থাকে। এর সম্পূর্ণ পুষ্পবিন্যাসের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১ মি.মি. হয়ে থাকে। ওলফিয়া শতকরা ৮০ ভাগ প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি উদ্ভিদ। আদর্শ পরিবেশে এগুলোর জীবনকাল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে