ট্রেন যাত্রা উপভোগ করতে জীবন্ত ক্যানভাস তৈরি করেছেন দুই ব্যক্তি

ঢাকা, রোববার   ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১,   ফাল্গুন ১৫ ১৪২৭,   ১৫ রজব ১৪৪২

ট্রেন যাত্রা উপভোগ করতে জীবন্ত ক্যানভাস তৈরি করেছেন দুই ব্যক্তি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৩ ১৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২৩ ১৪ নভেম্বর ২০২০

ছবি: ট্রেন লাইনের ধারে তৈরি করা হয়েছে এমন বাস্তব সব চিত্র

ছবি: ট্রেন লাইনের ধারে তৈরি করা হয়েছে এমন বাস্তব সব চিত্র

ঘুরে বেড়াতে কে না পছন্দ করেন। ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে এটি এক ধরনের নেশা বলতে পারেন। সেটা হোক পাহাড় কিংবা সমুদ্র। একেকজনের পছন্দ একেক রকম। আচ্ছা, যাই হোক ভ্রমণে কেউ বাস, ট্রেন আবার প্লেনে চড়েন কেউ কেউ।  

যাত্রাপথে আপনি কি করেন বলুন তো? হয় মোবাইলের স্ক্রিনে অনলাইনে ডুবে থাকেন না হয় ঘুমিয়ে পার করেন পুরোটা পথ। কেউ কেউ আবার গান শোনা বা বই পড়তে পছন্দ করেন এসময়। আবার জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখেন কেউ। তবে কতক্ষণ আর গাছপালা, মাঠ দেখতে ভালো লাগে। তাই তো বিকল্প পথ খুঁজে বের করেন সবাই।

ট্রেনে যেতে যেতেই এসব দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরাতবে জার্মানিদের ট্রেন ভ্রমণ কিন্তু খুবই আনন্দের বিষয়। কেননা ট্রেনে যেতে যেতে তারা দেখেন নানা রকম দৃশ্য। বলতে পারেন আর্ট গ্যালারি বা টিভি স্ক্রিন ছাড়াই তারা এগুলো দেখতে পান। এই ব্যবস্থা করেছেন জন হিন্টজার ও জ্যাকব হাফনার নামে দুইজন ব্যক্তি। মূলত ট্রেন যাত্রীদের আনন্দ দেয়ার লক্ষ্যেই তারা এই অভাবনীব উপায় বের করেন।

আরো পড়ুন: তিন মাছ যেভাবে বদলে দিয়েছে দেশের মৎস্য উৎপাদনের চিত্র

কেউ মাঠে মাটি খুঁড়ছেন কেউ বা ধান কাটছেন জন ও জ্যাকব দুইজনই মিডিয়া আর্টিস্ট এবং জার্মানির বহাস ইউনিভার্সিটির ওয়েইমারের প্রফেসর। আর্ট নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা  বুঝতে পারেন মানুষেরা এগুলো দেখে খুব আনন্দ পাচ্ছেন। তবে সেটা সাময়িক। দূরে কোথাও যেতে হলে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সবাই। কেননা এটি তারা থিয়েটার বা কোনো গ্যালারীতে প্রদর্শন করছেন। 

আবার যাত্রা পথে এক দৃশ্য দেখে দেখে একঘেয়েমি চলে এসেছে সবার মধ্যে। আর তাই তো এই দুই আর্টিস্ট বের করলেন দারুণ এক আইডিয়া। ট্রেনে চড়ে যে যাত্রীরা যাবে তাদের জন্য বেওয়েগটেজ ল্যান্ড নামে বিশাল এক মাঠজুড়ে তৈরি করলেন জীবন্ত আর্ট প্রজেক্ট। ট্রেনে যেতে যেতেই তারা দেখতে পাবেন বিশাল এই আর্ট একজিবেশন।

কেউ আবার ট্রেনের সঙ্গেই লেগে যাচ্ছেন দৌড় প্রতিযোগিতায় এই মাঠজুড়ে রয়েছে শুকনো ঘাস, লেক আর ধানক্ষেত। এক ক্যানভাসেই সাজানো হয়েছে মনোরম এই দৃশ্য। এর বিষয় বস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে গ্রামের পরিচিত দৃশ্যগুলো। যেখানে সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে সবুজ। নানা ধরনের দৃশ্য দেখতে পাবেন এই দৃশ্যে। কোথাও কৃষক মাটি খুঁড়ছেন, আবার কোথাও দেখবেন মাটির তল থেকে বেরিয়ে আসছে পানির ফোয়ারা। সাদা একটি বাড়ি মুহূর্তেই হয়ে যাচ্ছে নীল, গাছের ঝোপের মধ্যে দিয়ে ট্রেনের চলার দৃশ্য।

আরো পড়ুন: সাদামাটা কাজলের বিখ্যাত হয়ে ওঠা

আবার মাঠের মাঝেই হয়তো দেখতে পাবেন ট্রাফিক লাইট। সাইকেল চালানোর দৃশ্য। কেউ বা ট্রেনের সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করছেন। লেকের পানিতে দেখা যাবে বিশাল তিমি মাছ। ভুলে পানিতে পড়লে সোজা তিমির পেটে। না না বাস্তবে নয়, সবই দৃশ্যায়িত হবে জন আর জ্যাকবের পরিকল্পনা মতো। তবে সবকিছু কল্পনায় নয় দৃশ্যায়িত হবে সত্যি মানুষদের দ্বারা। তবে তা অভিনয়। বলতে পারেন অনেকটা মঞ্চ নাটকের মতোই।

একবার পানিতে পড়লে সোজা তিমির পেটে এই অভিনব ব্যাপারটি ২০১৭ সালে তৈরি করা হয়। জার্মানির স্যালে ভ্যালের মাঝ্য দিয়ে চলা ৩০ কিলোমিটার জিনা-নমবার্গ রেললাইন দিয়ে চলাচল করা ট্রেন যাত্রীরা নিয়মিত উপভোগ করেন এমন সব দৃশ্য। এই অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মানুষের বসবাস। এই প্রজেক্টের নাম দেয়া হয় মুভিং ল্যান্ড আর্ট প্রজেক্ট। জীবন্ত আর্টগুলো নির্মাণ করতে দিনরাত কাজ করেছেন ৪০০ ভলেন্টিয়ার। এরা সবাই ভ্যালের বাসিন্দা। এদের কেউ কেউ আছেন রেলেই কাজ করেন, বাকিরা গ্রামের সাধারণ মানুষ। সবাই মিলে যাত্রীদের জন্য প্রায় ৫০ ধরনের দৃশ্য প্রদর্শন করেন।  

এই কাজে যুক্ত আছেন প্রায় ৪০০ ভলেন্টিয়ারস্থানীয়রা এই প্রদর্শনীতে পারফর্ম করতে প্রতিটি শোয়ের জন্য সময় পান মাত্র ঘন্টাখানিক। কারণ কিছু সময় পর পরই এই রাস্তায় ট্রেন চলে। দৃশ্যগুলো খুব কম সময়ে প্রদর্শীত হলেও খুব সহজেই এটি বোঝা যায়। কেননা এতোটা সাবলীল থাকে সবার অভিনয় যে আপনি একে বাস্তব ভেবে ভুল করতে বাধ্য হবেন।  

আরো পড়ুন: বিশ্বের ভয়ংকর এসব কারাগার এখন দর্শনীয় স্থান

ভ্যালে অঞ্চলটি টুরিস্ট এলাকার মধ্যে পড়ে না। তবুও এই মজার সব দৃশ্য দেখতেই মানুষ বারবার এখানে ফিরে আসেন। একবার এইসব কিছু উপভোগ করেন যাওয়ার পথে আবার ফিরতি পথেও আরেকবার দেখার সুযোগ তো থাকছে আপনার জন্য।  

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে/জেএমএস