মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের ‘আনন্দালয়’ পেল ওবেল পুরস্কার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বাংলাদেশের ‘আনন্দালয়’ পেল ওবেল পুরস্কার

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৯ ২৫ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪১ ২৫ অক্টোবর ২০২০

কমিউনিটি থেরাপি কেন্দ্র ও টেক্সটাইল কারখানা ‘আনন্দালয়’; ছবিঃ সংগৃহীত

কমিউনিটি থেরাপি কেন্দ্র ও টেক্সটাইল কারখানা ‘আনন্দালয়’; ছবিঃ সংগৃহীত

দিনাজপুরে নির্মিত কমিউনিটি থেরাপি কেন্দ্র ও টেক্সটাইল কারখানা ‘আনন্দালয়’-এর স্থাপত্য শৈলীর জন্য এ বছরের খ্যাতনামা ওবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন জার্মান স্থপতি আনা হেরিংগার।

প্রতিবছর ভবন ও স্থাপত্য শিল্প শৈলীর স্বীকৃতি হিসেবে এ ডেনিশ আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি প্রদান করা হয়ে থাকে। আর এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করে থাকে কোপেনহেগেন ভিত্তিক দ্য হেনরিক ফ্রোড ওবেল ফাউন্ডেশন।

বেসরকারি সংগঠন ‘দ্বীপশিখা’র গড়ে তোলা ‘আনন্দালয়’ মূলত প্রতিবন্ধীদের জন্য কমিউনিটি থেরাপি সেন্টার। নান্দনিক স্থাপত্য-সৌন্দর্যে গড়ে তোলা ভবনটিতে স্থানীয় নারীদের জন্য একটি টেক্সটাইল ওয়ার্কশপও স্থাপন করা হয়েছে।

কাদামাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ভবনটির ভেতরের দৃশ্যকাদামাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি ভবনটির মূল কারিগর জার্মান স্থপতি আনা হেরিংগার। আনা হেরিংগার জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর আর্থেন আর্কিটেকচার, বিল্ডিং কালচার্স ও সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান। বাংলাদেশে তিনি তার জীবনের কিছু সময় অতিবাহিত করেন। সেসময় স্থানীয় আদি রীতির ঘর তৈরির কৌশল ব্যবহার করে ভবনটির নকশা ও নির্মাণ করেন তিনি।

দ্বি-তল বিশিষ্ট ভবনটির নিচতলা প্রতিবন্ধীদের থেরাপি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত টেক্সটাইল ওয়ার্কশপে কাজ করেন স্থানীয় নারীরা।

ওবেল পুরস্কারের জুরি বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, আনন্দালয় ভবন শুধু মৌলিক ও নির্দিষ্ট কমিউনিটির প্রয়োজনের সমাধান নয়, এটি টেকসই, সামাজিক ও স্থাপত্য নকশার কঠিনতর চ্যালেঞ্জের বহুমাত্রিক সমাধান।

জার্মান স্থপতি আনা হেরিংগারআনন্দালয় নির্মাণের স্থাপত্য শৈলী নিয়ে বলতে গিয়ে হেরিংগার বলেন, এর মূল অনুপ্রেরণা হলো স্থাপত্য শিল্পকে জীবনের উন্নতির জন্য কাজে লাগানো। ভবনটি নির্মাণে মূলত প্রাকৃতিক ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

৪৩ বছর বয়সী এ নারী আরো বলেন, অনুসন্ধান করাই হচ্ছে কাজের পেছনে আমার চিন্তা ও প্রেরণার জায়গা। আমার কাজের পেছনে মূল প্রেরণা হিসেবে সংস্কৃতি ও নিজস্ব আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালীকরণ কাজ করেছে। স্থানীয়দের আর্থিক সামর্থ্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যকে উৎসাহিত করার একটি মাধ্যম হিসেবে এ স্থাপত্য শৈলীর অন্বেষণ ও ব্যবহার করা হয়েছে। আনন্দময় জীবনযাত্রা একটি সৃজনশীল ও সক্রিয় প্রক্রিয়া এবং আমি আমাদের সমাজ ও নির্মিত পরিবেশের টেকসই বিকাশে ভীষণ আগ্রহী।

‘আনন্দালয়’ ভবনদিনাজপুরে দ্বীপশিখা চত্বরে অবস্থিত প্রকৃতিবান্ধব, ভিন্নধর্মী নির্মাণশৈলী দিয়ে নির্মিত আরেকটি ‘মেটি স্কুল’ নির্মাণের পেছনেও ছিল হেরিংগার অনন্য অবদান। ভিন্নধর্মী স্থাপত্য শিল্পের জন্য স্কুলটি এবং তিনি ২০০৭ সালে জিতে নিয়েছিলেন প্রখ্যাত আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড।

উল্লেখ্য, জার্মানির দক্ষিণে বাভারিয়ারে বেড়ে উঠেন এ স্থপতি। অস্ট্রিয়ার লিনজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা এবং শিল্প নকশা বিভাগের স্থাপত্য বিষয়ে ২০০৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। তার আগে ১৯৯৭ সালের দিকে বাংলাদেশকে নিয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি দিনাজপুরের বেসরকারি সংগঠন ‘দ্বীপশিখা’র সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ