ক্যান্সার প্রতিরোধী গাছ চুকুরের নতুন এক জাত উদ্ভাবন হলো দেশেই

ঢাকা, বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৭,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ক্যান্সার প্রতিরোধী গাছ চুকুরের নতুন এক জাত উদ্ভাবন হলো দেশেই

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪০ ২৩ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: চুকুর গাছ

ছবি: চুকুর গাছ

পৃথিবীর অনেক দেশেই খাদ্য হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় চুকুর। ইংরেজি রোজেল নামের শস্যটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চুকাই, অম্স্নমধু, চুকুল, হইলফা, মেডশ, আমিলা, পুং, উতমুখরই, খড়গুলা নামেও পরিচিত। 

টক-স্বাদের শস্যটি দেশের সর্বত্রই জন্মে। তবে বাণিজ্যিক চাষ হয় না। তাই বাণিজ্যিক কৃষির বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি বিইউ রোজেল-১ নামে চুকুরের একটি জাত উদ্ভাবিত হয়েছ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (গবেষণা) ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম এই চুকুরের জাত উদ্ভাবন করেছেন। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় চুকুরের জাতটি অবমুক্ত হয়েছে। ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম জানান, জাতটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এর গাছ ঝাপাল, খাট আকৃতির এবং গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল দেয়। 

এছাড়া ফলের বৃতি মোটা, বড় ও মাংসাল, ফলন (প্রতি হেক্টরে ৩.৫-৪.০ টন) বেশি। যেখানে দেশীয় বা অন্যান্য জাতের চুকুরের অঙ্গজ বৃদ্ধি ও ফলের সংখ্যা কম, আকৃতি ছোট, বৃতি পাতলা হওয়ায় ফলন কম এবং জীবনকাল ১৮০-২১০ দিন। 

চুকুর গাছতবে বিইউ রোজেল-১ জাতটির জীবনকাল ১২০-১৫০ দিন। উঁচু, মাঝারি উঁচু জমিতে, বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করা যায়। জানা যায়, চুকুর পাতা ও ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, কেরোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে। 

এর বীজ থেকে ২০ শতাংশের বেশি খাবার (ভোজ্য) তেল পাওয়া যায়। এছাড়াও চুকুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। যা শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে, ওজন কমাতে এবং বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে।

জাতটির উদ্ভাবকের মতে, কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি চুকুর প্রক্রিয়াজাত করেও ব্যবহার করা যায়। চুকুর দিয়ে উৎপাদিত চা, জ্যাম, জেলি, জুস, আচার ইত্যাদি বাজারজাত করা গেলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতির চিত্র। 

এছাড়া বিদেশে চুকুর এর প্রচুর চাহিদা থাকায় চুকুর থেকে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য রফতানি করে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিকভাবে চুকুর চাষ করছে, পাশাপাশি নতুন নতুন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কলকারখানা স্থাপন করছে। 

দেশের কৃষক ও জনগণকে এই ফসলের উপকারিতা সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলতে পারলে চুকুর বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিণত হবে।

চুকুরের গাছএ সম্পর্কে কর্নেল (অব.) তানভীর জায়গীরদার জানান, ড. আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে বীজ নিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গে (পঞ্চগড়) চুকুর চাষ করছেন। এতে তিনি ভালো ফলন পাচ্ছেন। 

এর আগে তিনি ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে রোজেল চা, জ্যাম এবং জেলি খেয়ে এর চাষে আগ্রহী হয়েছেন। আমিনুলের সহায়তা নিয়ে এর ওপর তিন বছর ধরে তিনি কাজ করেছেন। এই জাতের কলেবর বৃদ্ধি করে চা, জ্যাম ও জেলি তৈরি করতে প্রকল্প হাতে নিচ্ছেন বলেও জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া জানান, এ যাবৎ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন শস্যের প্রায় ৫০টির মতো জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। 

এর মধ্যে চুকুরের নতুন এই জাতটিও বেশ সম্ভাবনাময় একটি শস্য। আমাদের দেশে এখনো এর চাষ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। 

তবে চীন, মালয়েশিয়া, সুদান, ইথিওপিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দেশে এর চাষ হয় এবং এ থেকে উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস