হাজার বছর পেরিয়ে এখনো যুদ্ধের রণসাজে একজন যোদ্ধা

ঢাকা, শনিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৭,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

হাজার বছর পেরিয়ে এখনো যুদ্ধের রণসাজে একজন যোদ্ধা

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ২০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৩ ২০ অক্টোবর ২০২০

ছবি: এক যোদ্ধার সমাধি

ছবি: এক যোদ্ধার সমাধি

দক্ষিণ ইংল্যান্ডের আবিষ্কার হয় এক আশ্চর্য সমাধির। এক যোদ্ধার সমাধি এটি। যিনি এখনো আছেন যুদ্ধের রণসজ্জায়। সঙ্গে ঢাল তলোয়ার আর পরনে যুদ্ধের পোশাক। এমন আরো অনেক সমাধির খোঁজ মিলেছে বিভিন্ন সময়। তবে এবারের এই সমাধি তুলে ধরেছে অনেক চমকপ্রদ সব তথ্য। 

দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বার্কশায়ার শহরের নিকটবর্তী একস্থানে চলছিল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দলের খননকাজ। সেসময় মেটাল ডিটেক্টর সংকেত আসে কিছু একটা আছে মাটির তলায়। খুড়তেই মিলল একটি কঙ্কাল। স্বভাবতই গবেষকরা নেমে পড়লেন তাদের গবেষণায়। একে একে পাওয়া যেতে থাকে চমকপ্রদ সব জিনিস। সমাধিটি একজন পুরুষের।

দক্ষিণ ইংল্যান্ডের বার্কশায়ার শহরের নিকটবর্তী একস্থানে পাওয়া যায় সমাধিটিদসে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর জানা গেল এটি অ্যাংলো-স্যাকসন যুগের। অর্থাৎ ঠিক যখন রোমান সাম্রাজ্যের পতনের কয়েক দশক পরের সেসময়কার। সমাধিতে কঙ্কালের সঙ্গে ছিল তলোয়ার সহ বেশ কয়েকটি অস্ত্র। ব্রিটেনের পুরুষদের গড় উচ্চতা সাধারণত হয়ে থাকে ৬ ফিট পর্যন্ত। তবে এই ব্যক্তির উচ্চতা ছিল ৫ ফিট ৭ ইঞ্চি।

আরো পড়ুন: পেরুর নাজকা লাইনে ২২০০ বছর আগের আঁকা রহস্যময় বিড়ালের ছবি  

ব্রোঞ্জের বাটি এবং লোহার বর্শা এছাড়াও এই অঞ্চলে আরো দুটি ব্রোঞ্জের বাটি, লোহার বর্শা পাওয়া যায়। এই সবকিছুই রাখা হয়েছে  ব্রিটিশ যাদুঘর এবং ওয়েলস ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ ওয়েলসে। সমাধিতে পাওয়া তলোয়ারটি ছিল লোহার তৈরি। চামড়া, কাঠ এবং ব্রোঞ্জ দিয়ে কারুকার্য করা ছিল। ব্যক্তির পরনে ছিল ঘোড়ার পিঠে চড়ে যুদ্ধ করার সময় যে পোশাক পড়েন যোদ্ধারা সেগুলো। এই ব্যক্তিকে গবেষকরা নাম দিয়েছেন মার্লো ওয়ার্লর্ড।

সমাধিতে পাওয়া তলোয়ারপ্রত্নতাত্ত্বিক দলের প্রধান টমাস এবং ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের গবেষকরা  এখন মার্লো ওয়ার্লর্ডের সমাধিতে থাকা বস্তুগুলো নিয়ে বিস্তর গবেষণা করে যাচ্ছেন। টমাস বলেন, এটি সেসময়কার একজন যোদ্ধার সমাধি। হয়তো যুদ্ধের সময় তিনি মারা গিয়েছিলেন। তাই তাকে সম্মান প্রদর্শন করতেই এই পোশাকে সমাহিত করা হয়। সঙ্গে তার সঙ্গী তলোয়ারটি দিতেও ভোলেননি কেউ।   

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে