জলে জন্ম জলেই মৃত্যু, জীবন কাটে যেভাবে

ঢাকা, সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৭,   ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

জলে জন্ম জলেই মৃত্যু, জীবন কাটে যেভাবে

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৩০ ১৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:৪৬ ১৯ অক্টোবর ২০২০

জলে জন্ম জলেই মৃত্যু, জীবন কাটে যেভাবে-ফাইল ছবি।

জলে জন্ম জলেই মৃত্যু, জীবন কাটে যেভাবে-ফাইল ছবি।

জলে জন্ম, জলেই মৃত্যু। আয় শেষে জলের ওপর নৌকায় বসবাস। এটি বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের নিয়মিত জীবন। খেয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে কোনো বাড়তি চাহিদা নেই তাদের। প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে ডাঙায় পদচারণ করেন বেদে পল্লীর নারীরা। মাঝে মধ্যে পুরুষরাও কাজ করে থাকে। তবে পশ্চিম আকাশে সূর্য হেলে পড়লেই আবারো ঘরমুখো হয় তারা। এ বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের অঞ্চল ভেদে নানা নামে ডাকা হয়।

কথিত আছে ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে শরণার্থী আরাকানরাজ বল্লাল রাজার সঙ্গে ঢাকায় এসেছিল বেদে পল্লীর পূর্ব পুরুষরা। তারা প্রথমে বিক্রমপুরে বসবাস শুরু করে। এরপর ঢাকার সাভারসহ বরিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, ছাতকসহ দেশের অনেক জেলাতে নদীর ঘাটে নৌকায় অথবা পতিত জায়গায় তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করতে শুরু করে তারা। 

বেদে পল্লীর পরিবারগুলোর প্রধান উপার্জনকারী নারীরাই। নারীদের সিংহভাগ আয় আসে সিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা ফেলানোসহ ঝাড়-ফুঁক করে। উপার্জন করতে তাদের ছুটতে হয় পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম থেকে গ্রামে। মাঝে মাঝে বেদে পল্লীর পুরুষরা নদীতে মাছ শিকার এবং সাপের খেলা দেখায়।

সাভার বেদে পল্লীর নেওয়াজ আলী বললেন, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে জলের ওপর হয়। একেক দলে ২৫/৩০টি সারিবদ্ধ নৌকায় পরিবার নিয়ে একেক স্থানে ১০-১২ দিন অবস্থান করি। এক একটি নৌকায় ৫-৬ জন করে থাকি। রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব নৌকাতেই করতে হয়। তিনি জানালেন, তাদের ছেলেমেয়েরা এখনো লেখাপড়ায় অনেক দূর এগিয়ে গেলেও তাদের মানুষ ঘৃণার চোখেই দেখে।

তিনি আরো জানান, জন্মসূত্রেই সাপখেলা দেখানোর পেশায় আছি। তবে ২০০০ সালের পর থেকে অন্যান্য পেশার প্রতিও লোকরা ঝুঁকতে শুরু করেছে। ইদানিং মেয়েরা বাংলা সিনেমাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং সুনামও অর্জন করছে। বেদ উপাধি মূলত কোনো শাস্ত্রে নেই। সাপ ধরি বলে মানুষজন বিভিন্ন নামে আমাদের ডাকে। যেমন বিক্রমপুরে বলা হয় ‘মাল, কুমিল্লায় ‘বাইদ্যা’, সিলেটে ‘বেজ’, আবার বইতে লেখে ‘বেদে’।’

বেদে পল্লীতে সকাল-সন্ধ্যা সাপের হাট বসার কথা হয়তো সবার জানা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সারিসারি বক্স নিয়ে বিক্রেতারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সাপ বিক্রি করতো। উত্তরাঞ্চলের সাঁওতালরা ও সাপুড়েরা এখানে পাইকারি মূল্যে সাপ বিক্রিয় করতে আসতো। কিন্তু বনবিভাগের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত দু’বছর ধরে সেটা হয় লুকিয়ে। জানা যায়, সাপের আকার আর জাত হিসেবে মূল্য নির্ধারণ হতো।

অনেক অজানা ও ভিন্ন সংস্কৃতির কিছু কথা শুনতে চাইলে ঢাকার নিকটস্থ সাভার বেদে পল্লী থেকে ঘুরে আসতে পারেন। ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে সাভার গিয়ে অটো নিয়ে যেতে পারেন রেডিও কলোনি। সেখান থেকে রিকশায় যাওয়া যায় বেদে পল্লী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ