আদিম তিন মানবের পায়ের ছাপ আবিষ্কার হলো ১৩০০০ বছর পর

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আদিম তিন মানবের পায়ের ছাপ আবিষ্কার হলো ১৩০০০ বছর পর

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১০ ১৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৪:১৭ ১৮ অক্টোবর ২০২০

ছবি: পায়ের ছাপ

ছবি: পায়ের ছাপ

১৩০০০ বছর আগের পায়ের ছাপও এতোদিন রয়ে গেছে। ভাবতেই নিশ্চয় অবাক লাগছে! এমনই পায়ের ছাপের সন্ধান মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস ন্যাশনাল পার্কের একটি শুকিয়ে যাওয়া নদীখাতে। 

সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে ১৩০০০ বছর আগের আদিম মানুষের জীবাশ্মে পরিণত হয়ে যাওয়া পায়ের ছাপ। একটি-দুটি নয়, একসঙ্গে অনেকগুলো পায়ের ছাপের জীবাশ্ম পেয়েছেন নৃতত্ত্ববিদরা। 

অনেকগুলো পায়ের ছাপ আবিষ্কার হয়েছেঁতারা বলছেন, এই সব পায়ের ছাপ এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ, এক প্রাপ্তবয়স্কা নারী এবং একটি শিশুর। জীবাশ্মগুলো পরীক্ষা করে নৃতত্ত্ববিদরা বলছেন, প্রচণ্ড তাড়াহুড়োর মধ্যে তারা দৌড়ে গেছেন। তবে কীভাবে নৃতত্ত্ববিদরা বুঝলেন এই পরিবার প্রচণ্ড তাড়াহুড়ের মধ্যে ছিল?

জীবাশ্মগুলোকে ভালোভাবে পরীক্ষা করে তারা দেখেছেন, এই আদিম পুরুষ এবং নারীর প্রতি সেকেন্ডে পদক্ষেপের গতি ছিল ১.৭ মিটার।

মা শিশুকে কোলে নিয়ে দ্রুত হাঁটছিলেনসাধারণত ধীরে-সুস্থে হাঁটলে পদক্ষেপের গতি হওয়ার কথা প্রতি সেকেন্ডে ১.২ মিটার; বড়জোর ১.৫ মিটার। তবে এক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে যা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে এই পরিবার তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিল।

নৃতত্ত্ববিদরা আরও জানিয়েছেন, এই দম্পতির পায়ের ছাপের মাঝে আচমকাই এক কোলের শিশুর পায়ের ছাপও দেখা গিয়েছে। 

১৩০০০ বছর আগের পায়ের ছাপএ থেকে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, হয়তো মা ক্লান্ত হয়ে একটু হাঁফ ছাড়ার জন্য সন্তানকে ক্ষণিকের জন্য কোল থেকে নামিয়েছিলেন! এর ভিত্তিতে নৃতত্ত্ববিদরা বলছেন যে এই আদিম পরিবারের তাড়াহুড়োর কারণও ওই শিশু এবং তার নিরাপত্তা।

নৃতত্ত্ববিদদের দাবি, ১৩০০০ বছর আগে মানুষের চেয়ে অন্য প্রাণীরা ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। হয়তো তাদের হাত থেকে সুরক্ষার জন্য বা অন্য কোনো কারণে এই পরিবারের শিশুটিকে একটি নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন হয়েছিল। 

পায়ের ছাপসেই জন্যই তাড়াহুড়ো করে তাকে কোথাও রেখে এসে আবার আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছিলেন দম্পতি। তাই ফেরার পথে আর শিশুটির পায়ের ছাপ দেখা যায়নি!

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস