আশির দশকে সাড়া জাগানো দেশীয় ১০ বিজ্ঞাপন

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আশির দশকে সাড়া জাগানো দেশীয় ১০ বিজ্ঞাপন

ফিচার ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৮ ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩২ ১ অক্টোবর ২০২০

আশির দশকে ফিলিপস টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন।

আশির দশকে ফিলিপস টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশে ব্যবসা বণিজ্যের বেশ প্রসার ঘটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে বিদেশে পাড়ি জমায় দেশের জনশক্তি। ধীরে ধীরে মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। তাই পণ্য ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবা প্রচারের জন্য ১৯৮০ সালে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচারের আশ্রয় নেয়। তখন দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকার পাতায় প্রচারিত সৃজনশীল বিজ্ঞাপনগুলো বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। এমনকি বিজ্ঞাপনের জোরে দ্রুত লাভের মুখ দেখে বিজ্ঞাপন প্রচার করা কোম্পানিগুলো।

আজ আশির দশকে প্রচারিত ১০টি পত্রিকার বিজ্ঞাপন ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:-

তিব্বত বার: স্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পর কোহিনূর কোম্পানির তিব্বত বার উৎপাদন শুরু হয়। সেই বার দিয়েই কাপড় পরিষ্কার করার কাজ করা হতো। কাপড় বেশি পরিষ্কার, উজ্জ্বল, ধবধবে করার প্রত্যাশায় সাবানের চেয়ে সস্তা বলা হয়েছিল বিজ্ঞাপনটিতে। এক ছেলে, এক মেয়েসহ স্বামী-স্ত্রীকে বিজ্ঞাপনটিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল যা বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

পেপস টুথপেস্ট: ‘সুন্দর আর মজবুত দাঁতের জন্য’ স্লোগানে পেপস টুথপেস্ট তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। ফাইসন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের এ পণ্যটির বিজ্ঞাপনে ছোট ছেলে ও তার মায়ের আনন্দের মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। ছোট ছেলে তার দাঁতের পরিষ্কার ও উজ্জ্বলতা নিয়ে মাকে প্রশ্ন করে। এতে মায়ের উত্তর বিজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়। আর এ বিজ্ঞাপন মানুষের মনে বেশ দাগ কেটেছিল।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: স্বাধীন পরবর্তী দেশে বিমানে যাতায়াতের চাহিদা বেড়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক অনেক বিমান বাংলাদেশে আসা-যাওয়া শুরু করে। তাই দেশীয় এয়ারলাইন্সটি দেশের লোকদের সেবা দিতে দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। ‘ছোট হয়ে আসছে পৃথিবী’ শিরোনামের সেই বিজ্ঞাপনটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ফলে দেশের মানুষ দেশীয় বিমান ব্যবহার করতে শুরু করেন।

ক্লক ব্লেড: ৯০ শতকের দিকে দেশে বিদেশি সংস্কৃতির বেশ প্রভাব বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে স্বাধীন দেশের মানুষ নিজেদের স্মার্ট হিসেবে উপস্থাপন করার দিকে ঝুঁকে। তাই পশ্চিমাদের অনুকরণে নিজেদের মুখমণ্ডল শেভ করতে শুরু করে। তখন ক্লক ব্লেড নামক ব্লেড-এর বিজ্ঞাপন পত্রিকার পাতায় শোভা পেত।

টিবি লটারি: নাটাব পরিচালিত টিবি লটারির বিজ্ঞাপন এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। ১৯৮০ সালের ১ মে সেই টিবি লটারি অনুষ্ঠিত হয়। তখন প্রথম পুরস্কারের মূল্য ছিল দুই লাখ টাকা।

রাজা কনডম: বিজ্ঞাপনে ছোট ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আনন্দে আত্মহারা স্বামী-স্ত্রী। ‘ওদের নিশ্চিত বিশ্বাস সামনে সুদিন’ শিরোনামে বর্ণনামূলক লেখাও বিজ্ঞাপনে রয়েছে। তখন রাজা কনডমকে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে বিজ্ঞাপনটিতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

সৌদিয়া এয়ারলাইন্স: ১৯৮০ সালের ৪ এপ্রিল সৌদিয়া এয়ারলাইন্স দেশের একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। তখন সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সেবা বেশ চমৎকার ছিল। ওই বিজ্ঞাপনের ডান পাশে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৬টি গন্তব্যস্থল তুলে ধরা হয়। ওই সালের ৪ এপ্রিল থেকে রিয়াদ, জেদ্দা, দাহরান, করাচি ও ঢাকার ফ্লাইটের শিডিউল বা সময়সূচি ওই বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ফিলিপস ২৪ ইঞ্চি টিভি: স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচার চালুর পর আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠে টেলিভিশন। তখনকার সময় ‘দীর্ঘ স্থায়ীত্ব এবং আনন্দের চিরন্তন সঙ্গী ২৪ ইঞ্চি ফিলিপস শিরোনামে বিশাল আকৃতির টেলিভিশনের প্রতিচ্ছবি প্রদর্শন করা হয়েছিল বিজ্ঞাপনটিতে। ফিলিপস টেলিভিশনের স্লোগান ছিল, যখনই ফিলিপস তখনই অনাবিল আনন্দ।

তিব্বত স্নো, ৫৭০ সাবান, চান্দা ড্রাই সেল: কোহিনূর কোম্পানির উৎপাদিত তিব্বত স্নো, ৫৭০ কাপড় ধোয়ার সাবান, চান্দা ড্রাই সেলের একটি বিজ্ঞাপন পত্রিকা দেয়া হয়েছিল। তখন কাপড় ধোয়ার জন্য ৫৭০ কাপড় ধোওয়ার সাবানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। আর ত্বককে মসৃণ করতে তিব্বত স্নো তরুণী ও নববিবাহিতদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছিল। আর চান্দা ড্রাই সেল ব্যাটারি বেশ আকর্ষণ করেছিল দেশীয় মানুষকে। পরে সানলাইট ব্যাটারি বাজারে এসে চান্দা ড্রাই সেল ব্যাটারির বাজার দমিয়ে দেয়।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র: জাতীয় সঞ্চয় বিভাগ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র গ্রহণের বিজ্ঞাপন দেয়া হয় তখনকার পত্রিকায়। ‘সময়ই অর্থ!’ শিরোনামের সেই বিজ্ঞাপনে কর্পোরেট বেশভূষায় এক ব্যক্তিকে দেখা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ