নারী সঙ্গী পেতে ব্যাঙদের মধ্যেও হয় তুমুল লড়াই

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নারী সঙ্গী পেতে ব্যাঙদের মধ্যেও হয় তুমুল লড়াই

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২০ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: গোলিয়াথ বুলফ্রগ

ছবি: গোলিয়াথ বুলফ্রগ

বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব্যাঙ হলো গোলিয়াথ ব্যাঙ। এটি ‘গোলিয়াথ বুলফ্রগ’ বা ‘জায়ান্ট স্লিপারি ফ্রগ’ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম কনরাউয়া গোলিয়াথদ। 

গোলিয়াথ ব্যাঙের দৈর্ঘ্য ৩২ সে. মি অর্থাৎ ১৩ ইঞ্চি এবং ওজন ৩ দশমিক ২৫ কেজি পর্যন্ত হয়। আফ্রিকার ক্যামেরুন ও নিরক্ষীয় গিনিতে নদী তীরবর্তী অঞ্চলে এই ব্যাঙ দেখা যায়। 

বর্ষাকালে আফ্রিকার এক দৈত্য মাটির তলদেশ থেকে আত্মপ্রকাশ করে। আফ্রিকান জায়ান্ট বুলফ্রগ! এরা আফ্রিকার সর্ববৃহৎ ব্যাঙ। গোলিয়াথ ব্যাঙ খুবই আক্রমণাত্মক। 

আফ্রিকান ব্যাঙপুরুষ ব্যাঙরা মারামারির মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রকাশ করে। সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষ সর্বাধিক নারীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। নারীর সংখ্যা কম থাকায় প্রতিযোগিতা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

সজোরে ধাক্কা অথবা কামড় দিয়ে একে অপরের ছিটকে ফেলার চেষ্টা করে। মনে হতে পারে, এরকম একটি প্রাণী নিশ্চয় নির্দয় হবে। তবে এই পুরুষরাই অত্যন্ত যত্নশীল বাবা। 

প্রজননের পর সাধারণত সবাই বিদায় নেয়। তবে একটি পুরুষ দায়িত্ব নেয় ব্যাঙাচিদের দেখাশোনা করার। সে শুধু নিজের বাচ্চাই না, বাকী সবার বাচ্চারও দেখাশোনার দায়িত্ব নেয়। 

ব্যাঙযখন বংশবৃদ্ধির সময় আসে, পুরুষরা পাথর থেকে পানিতে অর্ধবৃত্তাকার বাসা তৈরি করে যা স্পাউন্ডিং গ্রাউন্ড হিসেবে কাজ করে। এরপর নারী সঙ্গীর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য পুরুষদের মধ্যে রীতিমতো লড়াই শুরু হয়। 

এদের মিলনের মৌসুম জুলাই ও আগস্টে হয়। সঙ্গমের পরে পুরুষটি স্ত্রীকে ছেড়ে যায় এবং তিনি একাই ডিমের যত্ন নিতে বাধ্য হন।

নারীরা সাধারণত অগভীর জলাশয়ে ডিম পাড়ে। পাঁচ দিনের মধ্যে স্ত্রী ব্যাঙ প্রায় দশ হাজার ডিম দেয়। এই প্রজাতির ডিমগুলো বেশ বড়। তাদের ব্যাস কমপক্ষে পাঁচ মিলিমিটার। 

ব্যাঙাচিডিম ছাড়ার জন্য বড়দের উপস্থিত ৭০ দিন সময় লাগে। যখন ডিম থেকে ট্যাডপোলগুলো উপস্থিত হয়। তখন দেহের দৈর্ঘ্য মাত্র আট মিলিমিটার হয় এবং ৪৫ তম দিনে এটি হয় ৪৮ সেন্টিমিটার পরিমাণে। 

এই ধরনের আকারে পৌঁছানোর পরে, ট্যাডপোলগুলো থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তারা স্থলে চলে যায়। স্থলে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ হয়ে যায়।

জলপ্রপাতের একটি শিশু, দিনের বেলা গলিয়াথ শিকার করে। নদীর ধারে শ্যাওলা পাথরগুলোতে বসে তার দ্রুত ছুঁড়ে ফেলা আঁঠালো জিহ্বা দিয়ে পোকামাকড় ধরে। 

বিশালাকার ব্যাঙরাতে নদীর তীরে ঘুরে বেড়ায় এই ব্যাঙাচিরা। তারা বিচ্ছু এবং অন্যান্য ছোট ব্যাঙ ধরে। বন্দী অবস্থায় তিনি সাদা ছাড়া অন্য কোনো খাবার অস্বীকার করেন। গলিয়াথরা শুনতে পায়, তবে তাদের কাছে ভয়েস ব্যাগ নেই যা দিয়ে ব্যাঙগুলো ক্র্যাক করে।

বছরের এই সময়ে সূর্যের আলোর তীব্রতা থাকে চরম পর্যায়ে। ফলে অগভীর জলাশয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডোবায় পরিণত হয়। ব্যাঙাচিরা এখন এক মহাবিপদে। অভিভাবক ব্যাঙটি বিষয়টি লক্ষ্য করেছে। সে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে ব্যাঙাচিরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা পড়বে। 

অভিভাবক মাত্র একটি কাজের মাধ্যমেই শিশুদের বাঁচাতে পারে। সে একটি গভীর ডোবার সঙ্গে অগভীর ডোবাটি সংযুক্ত করে দেয়। প্রবাহিত পানির সঙ্গে ব্যাঙাচিরাও গভীর জলাশয়ে পাড়ি জমায়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস