ইউক্যালিপটাস: পরিবেশের জন্য মারাত্মক এক গাছ

ঢাকা, রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইউক্যালিপটাস: পরিবেশের জন্য মারাত্মক এক গাছ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২০ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:২৮ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: ইউক্যালিপটাস গাছ

ছবি: ইউক্যালিপটাস গাছ

ইউক্যালিপটাস মূলত একটি কাঠের গাছ। যা প্রকৃতিগত ভাবে অষ্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। যদিও এর আবহাওয়াগত অভিযোজন ক্ষমতার কারণে প্রায় সব মহাদেশেই দেখতে পাওয়া যায়। 

সারা বিশ্বে ইউক্যালিপটাসের প্রায় ৭০০ প্রজাতি আছে তবে পাপুয়া নিউ গিনি ও ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এর প্রাকৃতিকভাবে বিস্তার রয়েছে। পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এর মাত্র ১৫টি প্রজাতি চালু করা উদ্ভিদ হিসেবে। 

ভারতীয় উপমহাদেশের বেশ কিছু জায়গায় উদাহরণস্বরুপ ভারতে, বাংলাদেশে ইউক্যালিপ্টাস গাছকে নীলগিরি বা নীলগিরি গাছ নামে ডাকা হয়। এই গাছের তেলের অনেক ব্যবহার রয়েছে। বিশেষত অ্যান্টিসেপটিক ও পরিষ্কারক হিসেবে, মশা নিধনেও এই তেলের ভূমিকা রয়েছে। 

কাঠ হিসেবে এর রয়েছে ব্যবহার, বেশ সুদর্শন এর পাতা ও মসৃণ কান্ড। এদের ফুল সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ছাড়াও বেশ স্বাদিষ্ট মধু প্রস্তুতে কাজে লাগে। বেশ কিছু ইউক্যালিপটাস এর প্রজাতিতে গাম নিঃসরণের কারণে এদেরকে গাম ট্রি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তবে এর ক্ষতিকর কিছু দিক আছে। এই গাছটিতে অধিক পরিমাণে তেল থাকায় এটা বেশ দাহ্য এবং খোদ এর আবাসভূমি অস্ট্রেলিয়াতে একে অগ্নি সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। 

ইউক্যালিপটাসতাই আবাসিক এলাকায় বা ঘরবাড়ির কাছে এটাকে কম লাগানো হয়। তবে বড় বড় সড়কের ধারে সারিবদ্ধভাবে লাগানো থাকে আর বসন্তে এর চমক লাগানো ফুল দেখে প্রায় চেনাই যায় না যে সারাবছর অনাড়ম্বর থাকা এই বৃক্ষটিকে।

ইউক্যালিপ্টাস গাছ আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে উঠিয়ে দেয়। এই গাছ রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছাড়ে। এর ফলে মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এই গাছের কাঠের গুণাগুণ তেমন ভালো নয়। 

সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি সংসদীয় কমিটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ক্রমশ বাড়তে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের জায়গায় প্রচলিত ফলজ গাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ইউক্যালিপটাস গাছের জায়গায় কাঁঠাল, জাম, নিম বা এ ধরণের গাছ রোপণের পরামর্শ দিয়েছে। তবে ইউক্যালিপটাসের রোপণ নিষিদ্ধ করার পরেও গাছটির বিস্তার সেখানে বাড়ছে।

ইউক্যালিপটাসগাছের ফুলইউক্যালিপটাস কেনো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর

> দৈনিক একটি পূর্ণবয়স্ক এইগাছ ৪০ থেকে ৫০ লিটার পানি শোষণ করে মাটিকে নিরস ও শুষ্ক করে ফেলে। 

> ১০-১২ ফুট সীমানার পানি শোষণ করার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যায়। যা কিনা বিরাট সেচ সমস্যার সৃষ্টি করে।

> অতিরিক্ত পরিমাণ পুকুরের পানি দূষণ করে।

> এর আশেপাশে অন্য প্রজাতির গাছ লাগালে তা অপুষ্টির কারণে জন্মাতে পারেনা। শুধু তাই নয়, এই গাছের শেকড় মাটির গভীরে সর্বোচ্চ ৩০-৩৬ ফুট পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

> এর পাতা এবং রেণু আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর।

> এই গাছগুলি পাখি বাসা বাঁধার উপযোগী নয়।

> বেশি পানি শোষণের ফলে আশপাশের জমি মরুভূমিতে পরিণত হয়। যার কারণে ২০-৩০ বছর পরও পাশাপাশি অন্য কোনো প্রজাতির গাছ জন্মাতে পারে না।

> কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ অতিরিক্ত হওয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে।

> এর পাতা সহজে পঁচে মাটিতে মিশে না। এই কারণে দাবানল সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকট, কাঠেও খুব দ্রুত আগুন ধরে যায়।

ইউক্যালিপটাসএছাড়াও এটি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর। কারণ প্রথমত, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ার কারণে উর্বর জমির উপর নির্ভর করতে হয়। দ্বিতীয়ত, এই গাছ উত্তরবঙ্গে বেশী লক্ষ্য করা যায়। 

এমনিতে শুষ্ক মৌসুমে সেখানে খরার সৃষ্টি হয়, এই প্রজাতির বিস্তার ভয়ংকরতম কাজে পরিণত হয়। সর্বশেষ, বাংলাদেশের অবস্থান সাব-ট্রপিক্যাল রিজিয়নে হওয়ায় এদেশের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের সঙ্গে সুপরিচিত স্থানীয় বৃক্ষাদি জন্মাতে পারেনা।

ইউক্যালিপটাসের কিছু ভালো দিকও আছে-

> এই গাছের তেল এন্টিসেপ্টিক ও পরিষ্কারক উৎপন্নে ববহৃত হয়।

> মশা তাড়াতে কাজে কাজে দেয়।

> এর পাতায় এক ধরণের ওষুধি উপাদান রয়েছে, যার নাম ফরমালিটেড ফ্লোরোগ্লুসিনল।

> দ্রুত উতপাদনশীলতার কারণে কাগজ শিল্পে বেশ কাজে দেয়।

> কেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাতে এই গাছ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আমাদের দেশেও ২০০৮ সালে ইউক্যালিপটাসের চারা উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস