মাধ্যমিকে দুইবার ফেল, এখন গ্রামের সবাইকে ইংরেজি শেখান তিনি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মাধ্যমিকে দুইবার ফেল, এখন গ্রামের সবাইকে ইংরেজি শেখান তিনি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৯ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

অনেকের কাছে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা একটা স্বপ্ন পূরণের মতো। আবার অনেকের কাছে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা স্মার্টনেসের বহিঃপ্রকাশ, সম্মান বৃদ্ধিরও বটে। তবে চাকরি থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক জীবনে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা উড়িয়েও দেয়া যায় না। বিভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে গতানুগতিক বাংলা থেকে ইংরেজি ট্রান্সলেশন নয় বরং বাস্তবিকভাবে ইংরেজি শেখানোর ব্যবস্থা করেছেন আবু রাজন রায়হান।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার বাসিন্দা আবু রাজন রায়হান মাধ্যমিকে ইংরেজিতে দুইবার ফেল করেন। এখন তিনি ইংরেজি গ্রামারের বাইরেও উচ্চারণ, কথা বলা শেখান গ্রামের শিক্ষার্থীদের। এখন পর্যন্ত তার কাছে ৬-৭টি ব্যাচ পড়েছে। অনেকেই এখন শুধু ইংরেজি লেখা আর পড়া না, বলতেও পারেন। এমনকি ইংরেজি শিখিয়েই পরিবার চালান তিনি।

তিনি বলেন, একসময় আমি ইংরেজিতে দুর্বল ছিলাম। এ কারণে অনেক সময়ই লাঞ্ছিত হতে হতো। সেই বিষয়টি উপলব্ধি করেই আমি এই উদ্যোগ নিই। শুধু তাই নয় অর্থের জন্য শহরে যেয়ে পড়াশুনা করতে পারিনি। পরে এইচএসসি এবং স্নাতকে পড়াশুনা করার সময় নিজ উদ্যোগেই ইংরেজি শিখি।

তিনি আরো বলেন, ১০ বছর আগে তখন কলেজেও ভর্তি হইনি আমি বাসায় বসে ডিকশনারি পড়া শুরু করি। একসময় অন্যদের পড়ানোর বিষয়টিও আয়ত্তে চলে আসে। এখন আমি শুধু ইংরেজিই পড়ি।  

রাজনের মতে, আজকাল অনেক বাচ্চারাই ইংরেজি মিডিয়াম বা ভার্সনে পড়ালেখা করে। সে ক্ষেত্রে শিশুটির মা যদি ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন, ওই শিশুটি শিক্ষক হিসেবে পায় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তার মাকে। কিন্তু অনেক মা’ই ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ার কারণে তার বাচ্চাকে সাপোর্ট দিতে পারেন না। তাকে নির্ভর করতে হয় গৃহ শিক্ষকের উপর।

এছাড়াও অনেকের প্রমোশন আটকে যায় ইংরেজিতে দক্ষতা না থাকার কারণে। ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম নাম্বার পায় ইংরেজিতে দক্ষতার অভাবে। আমি চাই না আমার মতো কেউ ভুক্তভোগী হোক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস