লাল-সবুজ ট্রে‌নেই বিমা‌নের সু‌বিধা, বিলাসবহুল সেবার সর্বোচ্চ শিখরে রেল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

লাল-সবুজ ট্রে‌নেই বিমা‌নের সু‌বিধা, বিলাসবহুল সেবার সর্বোচ্চ শিখরে রেল

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪১ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:২৩ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের বিলাসবহুল এসি কেবিন- ছবি: মানসিব মহিউদ্দিন।:

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের বিলাসবহুল এসি কেবিন- ছবি: মানসিব মহিউদ্দিন।:

নতুন আরেকটি যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ রেল। রেল খাতে সরকারের যুগপোযোগী একটি পদক্ষেপ তাক লাগিয়েছে দেশবাসীকে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষকে বিলাসবহুল ও চাকচিক্যময় রেল সেবা দিতে ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে’র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক লাল-সবুজ রঙের ১৪ বগি। এসব বগি দেখেই সহজে অনুমেয় হয়, বিলাসবহুল ও উন্নত রেল সেবায় পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। আর বিলাসবহুল রেল সেবার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস।

এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোণঠাসা থাকা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের বাসিন্দারা অবহেলিত ছিল। রাজধানীর সঙ্গে তাদের ট্রেন যোগাযোগ ছিল না। তাদের দুর্দশার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চোখ এড়ায়নি। তাই ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’র সঙ্গে যুক্ত করিয়েছে অত্যাধুনিক ১৪টি বগি। ৬৩৮টি আসনের এসব বগির মধ্যে একটি এসি কেবিন, একটি এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ারের ১২টি বগি রয়েছে।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের এসি চেয়ার বগির চাকচিক্যময় দৃশ্য- ছবি: মানসিব মহিউদ্দিন

এক সময় যোগাযোগে পিছিয়ে পড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনার মানুষ আজ বিশ্বের অত্যাধুনিক বিলাসবহুল ও চাকচিক্যময় রেল সেবা উপভোগ করছে। এসব বগিতে চড়া মানুষেরা উন্নত বিশ্বের ট্রেন সেবার অনুভূতি পাবেন। 

লাল-সবুজ রঙের ১৪টি বগি ‘মোহনা এক্সপ্রেসে’র সঙ্গে সংযোজন করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি নতুন ১৪টি লাল-সবুজ বগি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাইতো, বৃহস্পতিবার বিকেলে অত্যাধুনিক বগি সংযুক্ত ‘মোহনগঞ্জ ট্রেনটি ‘ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে নেত্রকোনার বড় স্টেশনে পৌঁছালে দলে দলে ট্রেনের বগি দেখতে ভিড় করে মানুষ। 

 অত্যাধুনিক ট্রেনের বগিতে বিলাসবহুল ক্যান্টিন।

বিদেশি আঙ্গিকের বগি দেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন জনতা। গণমাধ্যম ছাড়াও ট্রেনে থাকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ও বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসানও মানুষের উচ্ছ্বাস দেখেছেন। বিলাসবহুল ট্রেন সেবার আনন্দের সাক্ষীও হয়েছেন এমপি হাবিবা রহমান শেফালী, ডিসি কাজি মো. আবদুর রহমান, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, রেড ক্রিসেন্টের সম্পাদক গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু।

যাত্রীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার সুবিধার্থে বিলাসবহুল বেসিন ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রস্তুত করা ১৪টি বগিতে রয়েছে নানা আধুনিক সেবা। প্রথমত, বগির উন্নত চেয়ারে প্রশান্তি পাবেন যাত্রীরা। উন্নত এসি বাসের চেয়ে অত্যাধুনিক চেয়ার ব্যবহার করে অনায়াসেই গন্তব্যে পৌঁছাবেন যাত্রীরা। মাথার উপর রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সঙ্গে থাকা ব্যাগকে মাথার উপরের এসএস স্টিল দিয়ে তৈরি তাকে রাখা যাবে। তাই যাত্রীর ব্যাগ থাকবে দৃশ্যমান। কেউ সহজে ব্যাগ সরাতে পারবে না। বগিগুলোর অত্যাধুনিক টয়লেট সহজেই ব্যবহার উপযোগী।

মোহনা এক্সপ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বগিগুলোতে অত্যাধুনিক হাই-কমোড রয়েছে।

শোভন চেয়ারের বগিতে যাত্রীদের মাথার উপর রয়েছে প্রশান্তির ফ্যান, যা শীতল বাতাস প্রদান করে। এসি চেয়ারের বগিতে রয়েছে মোবাইল চার্জের পোর্ট। সব বগিতেই রয়েছে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাসহ উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

বিলাসবহুল রেল সেবায় স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন যাত্রীরা।

আর এসি কেবিনের দৃশ্য তো অসাধারণ। কেবিনের দুই দিকে থাকা আসনের উপর রয়েছে ফ্যান। এসব ফ্যানের সুইচ রয়েছে হাতের নাগালেই। যেকোনো সময় ফ্যানের গতি বাড়িয়ে বা কমিয়ে নেয়া যেতে পারে। দুই আসনের মাঝে রয়েছে একটি টেবিল। সেখানে নাস্তা থেকে শুরু করে যেকোনো বেলার খাবার অনায়াসেই সম্পন্ন করা যাবে। এমন টেবিলে জমবে নানা ধরণের ইনডোর গেইম। নতুন বগিগুলোতে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার নিয়ে ট্রেন ভ্রমণ হবে কল্পনাতীত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ