পদ্মায় জেলেদের চিংড়ি ধরার বিচিত্র টোপ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পদ্মায় জেলেদের চিংড়ি ধরার বিচিত্র টোপ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৪৯ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৩৫ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: পদ্মায় চলছে জেলেদের মাছ ধরার আয়োজন

ছবি: পদ্মায় চলছে জেলেদের মাছ ধরার আয়োজন

নদীমাতৃক বাংলাদেশের রূপ বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে এই নদীগুলোই। বড় বড় নদীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নদী পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কুশিয়ারা ইত্যাদি রয়েছে। দেশের মাছের অধিকাংশ চাহিদাই এই নদীগুলোই মিটিয়ে থাকে।  

বহতাই এক নদীর নাম পদ্মা। পদ্মার বুকে মাছ যেমন নানা জাতের তেমনি মাছ ধরার পদ্ধতিও নানা রকম। এখানটায় বিশেষ এক পদ্ধতিতে ধরা হয় ছোট চিংড়ি। বের জালের ঘেরা টোপে ধরা হয় এই মাছ। পানির গভীরতা এবং স্রোতের তোড় তুলনামূলকভাবে কম থাকায় জেলেরা বাঁশের খুঁটিতে বেরা জাল আটকে তৈরি করেছে টোপ। জেলেরা এক বলে ছোপ।

ছোট ছোট চিংড়ি উঠে আসে ছোপের জালেছোপের মধ্যে অনেক সময় গাছের ডালপালা আটকে থাকে। মাছ সংগ্রহের আগে বাঁশের চাই দিয়ে তুলে সেগুলোকে ছোপের বাইরে ফেলে দেয় তারা। জেলেরা প্রচুর ডালপালাগুলো ছোপের মধ্যে দিয়ে রাখে মাছের আনাগোনা বাড়ানোর জন্য।

ডালের ফাঁকে ফাঁকে এসে মাছ বাসা বানায়। মাছদের মধ্যে যাদের ঝোপঝাড় কিংবা কাঁদায় বসবাসের অভ্যাস তারাই সাধারণত বাসা বাঁধে ছোপে। বাসা বানানোর পাশাপাশি সহজে খাবার পাওয়া যায় বলেও মাছেদের ভিড় বাড়ে ছোপে।  

বের জাল দিয়ে ঘিরে তারমধ্যে ডালপালা ফেলে মৎস্যকূলকে আকর্ষিত করার পদ্ধতি একেক জায়গায় একেক নামে পরিচিত। কোথাও বলে বানির ভোগ কোথাও বলে পাঞ্জা। পানির উথাল পাথাল দেখলেই বোঝা যায় এখানে মাছের আনাগোনা আছে বেশ। ছোপ আকারে বেশ বড় হয়।

আর এখানে ডালপালাও দেয়া হয় বেশ অনেক পরিমাণে। মাছ ধরার আগেই সরিয়ে নেয়া হয় এগুলো। না হলে তো জাল ঠিকভাবে গোটানো যাবে না। একদন তলানিতে থাকা ডালপালাগুলো বাঁশের লগি দিয়ে তোলা যায় না। এজন্য ডুব সাঁতার দিয়েই সেগুলো তোলা হয়। 

নৌকাতেই চলছে খাওয়ার আয়োজন ডালপালা পরিষ্কারের পর জাল টানার পালা। কেউ জাল টেনে নৌকায় জমা করছে। কেউ আবার জাল টানায় সাহায্য করছে। বসে নেই পানিতে থাকা জেলেরাও। পানির তলদেশের জাল অবমুক্ত করতে ব্যবহার করা হয় লোহার আকশি লাগানো বাঁশের লগি।

সকলের চেষ্টায় ছোট হয়ে আসতে থাকে ছোপ। ঝাকি দিয়ে দিয়ে জাল টেনে উপরে তোলা হয় আর নিচে জমতে থাকে চিংড়ি। ডালপালার কুটোর মধ্যে ছোট ছোট মাছের লাফালাফি। এবার সেখান থেকে মাছ আলাদা করার পালা। ধরা পরা মাছের মধ্যে চিংড়ি মাছই বেশি।

আরো পড়ুন: বালি খুঁড়ে পাওয়া কয়লায় জীবন বাঁচে তাদের   

প্রাণী বিজ্ঞানীদের কাছে চিংড়ি মাছ নয় পোকা। তবে স্বাদের কারণে একে মাছ হিসেবেই ধরা হয়। বিশ্বের নানা দেশেই এর দারুণ কদর রয়েছে।বাংলাদেশে প্রায় ৫৬ প্রজাতির চিংড়ি পাওয়া যায়। এরমধ্যে ৩৭ টি লবণাক্ত পানির, ১২ টি কম লবনাক্ত এবং সাতটি সাধু পানির চিংড়ি রয়েছে।

জেলেদের ধরা পদ্মার চিংড়ি পাইকারদের মাধ্যমে সারা দেশেই ছড়িয়ে যায়। রান্না হয় মুখরোচক সব খাবার।জেলেদের ছোপে চিংড়ি এবং অন্যান্য ছোট মাছের মধ্যে পোকামাকড়ও উঠে আসে। এগুলো আবার বেছে বেছে ফেলা হয় পানিতে।

জলেভাসা জীবনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিয়েই ওরা দলবেঁধে খোঁজে জীবিকার রসদ মাছ ধরার ফাঁকেই চলে জেলেদের মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন। মাছ ধরা যেমন কষ্টসাধ্য কাজ তেমনি খাটুনিও বেশি। বেলার পর বেলা কেটে যায় মাছ ধরতে। মাঝে মাঝে সপ্তাহখানিক নদীতেই কাটাতে হয় জেলেদের। তাই নিজেদের কাজের শক্তির জোগান পেতে খাওয়ার ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হয়। খাবারের সব উপকরণই সঙ্গে করে নিয়ে আসেন তারা। মাছ ধরার ফাঁকে নৌকাতেই চলে রান্না-বান্নার কাজ। নৌকাতে তাদের ভাসমান গৃহস্থালি। 

দূর দুরান্ত থেকে আসা জেলেদের নদীতে কাটে দিনের পর দিন। জলে ভাসা জীবনের সুখ দুঃখ ভাগ করে নিয়েই ওরা দলবেঁধে খোঁজে জীবিকার রসদ। জল থৈ থৈ পদ্মা নদী দেশের মৎস্য সম্পদের অন্যতম প্রধান যোগানদার। এ নদীর সঙ্গে জেলেদের তাই হৃদ্যতার সম্পর্ক।

পয়মন্ত পদ্মা হরেক রকম মাছের যোগান দেয়ার বেলায় যেমন উদার হস্ত। তেমনি নদীর বুকে মাছ ধরার আয়োজনগুলোও দেখার মতো। একেক মাছ ধরার একেক পদ্ধতি। সেগুলোর আবার রয়েছে বাহারি নাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে