প্রায় দেড় কোটি বছর আগের গিবনের দাঁত নিয়ে রহস্য

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রায় দেড় কোটি বছর আগের গিবনের দাঁত নিয়ে রহস্য

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৫ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৫৮ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: গিবন

ছবি: গিবন

গিবন বানর শ্রেণির একটি প্রাণী। আবার ভাল্লুক নাকি এই গিবনেরই একটি গোত্র। বহু বছর আগেই এটি বিলুপ্ত হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা মেলে এর। তবে ভারত কিংবা এশিয়া মহাদেশে এর দেখা মিলেছে খুব কমই। 

তবে বিজ্ঞানীরা বেশ আটঘাট বেঁধেই নেমেছেন এর আদ্যোপান্ত খুঁজতে। কেননা প্রমাণ মিলেছে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ বছর আগে এর অস্তিত্ব ছিল ভারতেই। তেমনটাই অনুমান তাদের। ভেবছেন কেন এমনটা অনুমান করছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাচীন জীবাশ্মই জানান দিল একটি অজানা এপ প্রজাতির বিষয়ে। যা এখনকার গিবনের প্রাচীনতম পূর্বপুরুষ বলেই মনে করছেন তারা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ট্রপিক্যাল বনাভূমিতে এদের অস্তিত্ব ছিল একসময়।

মানুষের সঙ্গে এদের বেশ সদভাবকারণ ২০১৫ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের রামনগরে খুঁজে পাওয়া যায় গিবনের জীবাশ্ম। উত্তরাখণ্ডের ওই অঞ্চলে এটি প্রায় এক শতাব্দীতে আবিষ্কৃত প্রথম এপের প্রজাতি। বিজ্ঞানীরা অজানা এই প্রাণীটির নামকরণ করেছেন ‘কাপি রামনগেরেনসিস’। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাচীনতম গিবনের জীবাশ্মের থেকেও ৫০ লাখ বছর আগে এদের বিচরণ ছিল বলেই আভাস পাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

খুঁজে পাওয়া গিবনের দাঁতআরো পড়ুন: মাশরুমের কফিন বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগালো ২৩ বছরের তরুণ   

ভাবছেন, তাহলে এখন কেন এত গবেষণা। মূলত জীবাশ্মটি প্রাণীর নিচের পাটির মোলার দাঁত। প্রাণীটির যে অস্তিত্ব বহু আগেই হারিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি গবেষকদের। অধ্যায়ন এবং বিশ্লেষণের জন্য তোলা হয়েছিল ছবি, করা হয়েছিল সিটি-স্ক্যানও। তারপর সেই তথ্যগুলোকেই এপ-গোত্রীয় জীবিত এবং বিলুপ্ত প্রাণীদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন বিজ্ঞানীরা। শেষ পর্যন্ত আবিষ্কারের পাঁচ বছর পর বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে উপনীত হন, সম্পূর্ণ অজানা প্রজাতি ও গণের জীব ছিল এটি।

সন্তানের দেখভাল করাই স্ত্রী গিবনের কাজ প্রাইমাটোলজিস্ট এবং গবেষকরা এই জীবাশ্মটির মাধ্যমেই খুঁজে পেয়েছেন এপ-গোত্রীয় প্রাণীদের বিবর্তনের নতুন তথ্য। জানিয়েছেন, এই প্রাণীটি থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গিবন-সহ অন্তত ২০টি এপ-প্রজাতির প্রাণীর বিবর্তন ঘটেছে। আফ্রিকা থেকে এশিয়ায় কীভাবে আগমন ঘটেছিল এপের তাও জানান দিতে পারে এই জীবাশ্ম, মনে করছেন গবেষকরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে