শতশত মডেল কারে বাংলাদেশি ছেলের ঘর ভর্তি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শতশত মডেল কারে বাংলাদেশি ছেলের ঘর ভর্তি

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ২১:৫১ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

মডেল কার ও লেগোর সংগ্রাহক রুবাব।

মডেল কার ও লেগোর সংগ্রাহক রুবাব।

ছোটবেলাকে রাঙানোর মোক্ষম উপাদান খেলনা। খেলনার জন্যেই অনেকের ছোটবেলা ভিন্নভাবে রঙিন। ছোটবেলার খেলনায় সবচেয়ে বেশি আধিপত্য বিস্তার করে মডেল কার বা গাড়ি। ছোটবেলায় কার বা গাড়ি নিয়ে খেলেননি এমন মানুষ মেলা দুস্কর। সেই অবুঝ সময়ে কতশত গাড়ি ভাঙা বা নষ্ট করা হয় তার ইয়াত্তা নেই। তবে গাড়ি ভাঙা বা নষ্ট করা তো দূরের কথা, ছোটবেলা থেকেই উপহার পাওয়া বা শখে কেনা মডেল কার ও লেগো পরম যত্নে রেখেছেন বাংলাদেশি রুবাব। এখন তার সংগ্রহে শতশত মডেল কার ও লেগোর বিশাল সমাহার।

মডেল কার মূলত যেকোনো গাড়ির রেপ্লিকা বা প্রতিরূপ। রুবাবের সংগ্রহশালায় বিশ্বের প্রায় সব মডেলের নামীদামি কার সজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ম্যাচ বক্স, হট প্রিন্স, ম্যাজোরিটি, করটি, মার্সিডিজ, ভোগাটি, মর্গান, আলফা রোমিও, সিট্রোয়েন, জেকোরেট-ই টাইপ কার। আর বাদ যায়নি মডেল সামরিক গাড়ির সংগ্রহও। সৌখিন রুবাব মডেল কার সংগ্রহশালাকে ভালোবাসায় মুড়িয়ে রেখেছেন। 

মডেল কারের সমাহার

রুবাব বলেন, ছোটবেলা থেকে কার উপহার পেতাম। সেগুলো কখনো ফেলতাম না। নিজে শখ করে অনেক সময় কার কিনে সংগ্রহ করতাম। ছোটবেলার অনেক কার এখনো আমার সংগ্রহশালায় রয়েছে। ম্যাচ বক্স, হট প্রিন্স, ম্যাজোরিটি, করটি উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, অনেক আগে ইতালি থেকে আমার বাবা একটি জেকোরেট ই টাইপ কার এনেছিলেন। সেই কারটি যত্নে রেখেছি বলে আজও সেটি অক্ষত রয়েছে।

বিলাসবহুল মডেল কার

এরপর রুবাব তার সংগ্রহশালা ঘুরিয়ে দেখান। তার কার সংগ্রহ সত্যিই নজরকাড়ার মতোই। নানা রঙের নানা আকৃতির কার দেখেই মনে হয় যেন বিশ্বের সব কার দেখা হচ্ছে।

লেগোর তৈরি নানা স্থাপনা।

রুবাব শুধু মডেল কার সংগ্রহে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তার সংগ্রহে রয়েছে লেগোর বিশাল সমাহার। রুবারের লেগো সমাহার বেশ প্রশংসনীয়। লেগোর সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, একে ইচ্ছেমতো ডিজাইন করা যায়। আর তাই করেছেন রুবাব। লেগো দিয়ে নানা ধরনের খেলনা বানিয়েছেন তিনি। লেগো দিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে গাছ-গাছালি, বিশাল বিশাল মডেল জাহাজও বানিয়েছেন রুবাব। সংগ্রশালায় লেগোর মাধ্যমে নিজ ঘরে ব্যাটম্যানকেও রেখেছেন তিনি। এখন রুবাব দেশের সবচেয়ে বড় লেগো সংগ্রাহক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

লেগো দিয়ে ব্যাটম্যান বানিয়েছেন রুবাব

লেগোর ব্যাপারে রুবার বলেন, আমি যখন বুঝতে পারি তখন থেকেই বাবা আমাকে ব্লক কিনে দিতেন। সেই সময় থেকে আমি লেগোগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করলাম। ১৯৮৪ সালে বাবা আমাকে লেগো দিয়ে বানানো একটি ট্রেন কিনে দেন। তারপর থেকে লেগো নেয়া শুরু করলাম। সংগ্রহ করতেও শুরু করলাম। পরবর্তীতে বড় হয়েই টেকনিক্যাল লেগো সংগ্রহ করতে থাকি। এসব লগো সবই ছিল ফাংশনাল।

লেগোর সংগ্রশালা

লেগো সংগ্রশালা করে থেমে থাকেননি রুবাব। লেগো প্রেমীদের জন্য গড়েছেন নেটওয়ার্ক। তার নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে পুরো বাংলাদেশের লেগো প্রেমীরা।

রুবাব বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে লেগো ফ্যানরা রয়েছে। তাদের একত্রিত করতেই একটি পেজ খোলা হয়েছে। সেই পেজের নাম ‘লেগো কালেক্টর অ্যান্ড ফ্যানস অব বাংলাদেশ’। এখন লেগো প্রেমীরা সেই পেজে লেগো নিয়ে আলোচনা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ