মোমবাতি তৈরির অর্থেই চলছে তাদের পড়ালেখা

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১২ ১৪২৭,   ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মোমবাতি তৈরির অর্থেই চলছে তাদের পড়ালেখা

মোঃ জাফর সবুজ, খাগড়াছড়ি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:২৬ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: মোমবাতি তৈরির অর্থেই তারা পড়ালেখার খরচ চালান

ছবি: মোমবাতি তৈরির অর্থেই তারা পড়ালেখার খরচ চালান

নিজের জীবনকে বর্তমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি মোমবাতি বানিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন কলেজ পড়ুয়া কিছু নারী। মোমবাতি তৈরি করে নিজেদের পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন তারা। তাদের সবাই উচ্চ মাধমিক, অর্নাস ও ডিগ্রিতে পড়ছেন স্থানীয় কলেজে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তারা পড়ালেখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই অবসর সময়ে মোমবাতির কারখানায় কাজ করে। এই মোমবাতি কারখানা থেকে যে অর্থ পায় সেটা দিয়ে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস ও পড়ালেখার খরচ চলে।  

আরো পড়ুন: ৩০ টাকার ‘আনানাস’, ভাগ্য বদলে দিচ্ছে পাহাড়িদের

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রোমা ত্রিপুরা জানান, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। সবসময় অভাব লেগেই থাকতো। পড়ালেখার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হতোনা। তাই এই মোমবাতি কারখানায় কাজ করে যে টাকা পাই সেটা দিয়ে নিজের সব চাহিদা মিটিয়ে পরিবারকেও সহযোগিতা করতে পারি।   

মোমবাতি তৈরি করছে তারাএকাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিজিতা ত্রিপুরা বলেন, নিজের পায়ে সম্মানের সঙ্গে যেন দাঁড়াতে পারি এজন্য শত কষ্টেও পড়ালেখা করছি। তবে পরিবারের অভাবের কারণে পড়ালেখার খরচ তারা বহন করতে পারে না। তাই নিজের খরচ নিজেই বহন করার জন্য এই মোমবাতির কাজ করে থাকি। এতে যা পাই তা দিয়ে সব খরচই করতে পারি।  

জানা গেছে, মোমবাতির কারখানায় কাজ করার আগে তারা মহিলা অধিদফতর থেকে মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এরপর স্থানীয় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মুসলিমপাড়া থ্রী স্টার মোমবাতি কারখানায় কাজ শুরু করেছেন অল্প বেতনে। বর্তমানে তারা চুক্তির মাধ্যমে কাজ করে থাকে। এতে তাদের বেশ ভালো রোজগার হয়।

আরো পড়ুন: অভিশপ্ত গাছের ফুল থেকে তৈরি হয় জনপ্রিয় এক জুস

পানছড়ি কলেজের অর্নাস ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী চেউং মারমা বলেন, যেহেতু প্রতিটি বৌদ্ধ ধর্মালম্বী পরিবারে এবং বৌদ্ধ বিহারে মোমবাতি একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ তাই এটির চাহিদা অনেক বেশি। আমরা এখন চুক্তির মাধ্যমে কাজ করি। এতে করে আমরা যতো বেশি বানাতে পারি ততো আয় বেশি হয়।

মোবাতি তৈরি করছে তারাতারা আরো বলেন, মোম গলানো থেকে শুরু করে মোমবাতি তৈরি করা, মোটা কাগজ কেটে প্যাকেট তৈরি, সুতা কাটা, লেভেল লাগানো সব আমরাই করে থাকি। সারাদিনে যতটুকু সময় পাই চেষ্টা করি বেশি বানানোর জন্য। আমরা যতো বেশি বানাতে পারি তাতে আমাদেরই লাভ।  

কারখানা মালিকরা জানান, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের মধ্যে মোমবাতি অন্যতম। অল্প খরচের মধ্যে আলো পেতে মোমবাতি খুবই উপকারি পণ্য। কাঁচামাল হিসেবে প্যারাফিন ব্যবহার করে খুব সহজে মোমবাতি তৈরি করা যায়। বর্তমানে প্রয়োজনীয় সময়ে আলো দানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে, নানা আকৃতির মোমবাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। 

আরো পড়ুন: পঙ্গপাল নিধনের কার্যকরী উপায় জানালেন বিজ্ঞানীরা

এতে করে মোমবাতির চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমাদের কারখানা নানা বয়সী নারী পুরুষ মোমবাতি বানানোর কাজ করে। এতে তারা যতো বেশি উৎপাদন করতে পারে ততো বেশি আয় হয়। এতে করে অনেক বেকার নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস