ধর্ষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে একজোট বাংলাদেশিরা

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১১ ১৪২৭,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ধর্ষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে একজোট বাংলাদেশিরা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৩ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৭ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্কের সচেতন বাংলাদেশিরা এ আয়োজন করে।

মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় সন্ধ্যায় আয়োজিত সভায় সমন্বয়কারী তোফাজ্জল লিটন এর সঞ্চালনায় বক্তাগণ বলেন, ধর্ষণের বিচার না হওয়ায় বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। তাই ধর্ষণের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যেন কেউ ধর্ষণ করার সাহস না পায়। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ না করতে পারলেও যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে হবে। ধর্ষকরা যত শক্তিশালী হোক, এদের প্রতিহত করতে আহ্বান জানান বক্তারা।

সভায় সাপ্তাহিক পরিচয় পত্রিকার সাংবাদিক নাজমুল আহসান বলেন, যারা কু-দৃষ্টি দিয়ে, গালাগাল করে এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে নারীদের মানসিকভাবে ধর্ষণ করে তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সব দেশেই ধর্ষণ হয়- বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে।

নাগরিক আন্দোলনের একটিভিস্ট মুজাহিদ আনসারি বলেন, যারা ইনিয়ে বিনিয়ে ধর্ষকদের সমর্থনে কথা বলেন, পোশাককে দায়ী করে ধর্ষকদের বাঁচাতে চান, তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ধর্ষণ ঘটনার সুষ্ঠ ও সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি আমরা।

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন

সাংবাদিক, লেখক ও গীতিকার দর্পণ কবীর বলেন, এই বৈরী আবহওয়ায় আমরা এখানে ২৫/৩০জন উপস্থিত হলেও আমি মনে করি এখানে পুরো বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। সব বিষয়ে কেনো প্রধানমন্ত্রীকেই হস্তক্ষেপ করতে হবে ? অন্যান্য মন্ত্রী এমপিরা কী করেন ? স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলছেন না কেনো। অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব অপরাধ কমবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

নিউইয়র্ক শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মণিকা রায় বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারী নেত্রীরা আছেন।  অথচ সারা দেশে ক্রমাগত ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। আমি ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।

লেখক ও ছড়াকার ইশতিয়াক রুপু বলেন, নিজেদের ফেসবুকের মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি আমরা প্রতি মূহূর্তে। এই অপরাধদের সামাজিকভাবেও মোকাবেলা করতে হবে।

আবৃত্তি শিল্পী কান্তা কাবির বলেন, আমি শুধু একটাই কথা বলবো, ধর্ষণের শাস্তি হওয়া উচিৎ মৃত্যুদণ্ড।

লেখক আসলাম আহমাদ খান বলেন, দেশে কুকুর নিধনের চেয়ে ধর্ষক নিধন জরুরি।

বাংলাদেশ গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম, লেখিকা শেলী জামান খান, নির্মাতা রহমান টিটো, দেশকণ্ঠ পোর্টালের প্রকাশক সীমা সুস্মিতা, জুয়েল মালিক, জুলিয়েট রোজারিও, বিভাষ মল্লিক, শেখ শোয়েব সাজ্জাদ, ইলা সরকার ও বিউটি খানম প্রতিবাদ ও মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে একাত্বতা ঘোষণা করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশের পোস্টার এঁকেছেন শান্তিনিকেতনের ছাত্র রিফাত বিন সালাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস