বিদেশে আলু ভর্তা-ডাল খেয়ে টাকা পাঠান মাকে, কিশোরের ত্যাগে আলোড়ন সৃষ্টি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৫ ১৪২৭,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিদেশে আলু ভর্তা-ডাল খেয়ে টাকা পাঠান মাকে, কিশোরের ত্যাগে আলোড়ন সৃষ্টি

প্রবাস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০৭ ২৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ২২:৪০ ২৮ আগস্ট ২০২০

প্রবাসী কিশোর রাশেদ।

প্রবাসী কিশোর রাশেদ।

১৭ বছর বয়সে লেখাপড়া, দুরন্তপনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত সময় কাটায় কিশোরেরা। এসব সুখ-আনন্দ ত্যাগ করে আর্থিক দুর্দশায় নিমজ্জিত পরিবারের হাল ধরেছেন কিশোর রাশেদ। নিজের আহ্লাদ ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন সৌদি আরবে। সেখানে আয়ের পাশাপাশি আলুর ভর্তা আর ডাল খেয়ে জমানো টাকাও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন এ কিশোর। এরইমধ্যে রাশেদের ত্যাগের খবরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর রাশেদের ত্যাগের প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা। গত ২৬ আগস্টে ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’ নামক ফেসবুক পেজে রাশেদের সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি প্রকাশ হয়। এরইমধ্যে ওই ভিডিওতে ২২ হাজার লাইক পড়েছে। কমেন্ট করেছেন এক হাজার ৩০০ জন। আর ভিডিওটি দেখেছেন ২১ হাজার মানুষ।

পরিবারের জন্য বিদেশে আসা রাশেদ চার মিনিটের বেশি সময় ভিডিওতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তবে রাশেদের গ্রামের বাড়ির সন্ধান মেলেনি।

ভাইরাল ভিডিওতে রাশেদ জানান, প্রতি মাসে এক হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ রিয়াল আয় করেন তিনি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় হয় ৩৬ হাজার টাকার অধিক। আয়ের সিংহভাগ টাকা দেশে পাঠান তিনি। প্রতি মাসে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ হাজার বা ২৮ হাজার পরিবারের কাছে পাঠান রাশেদ। সদা হাস্যেজ্জ্বল এ ছেলে কখনই দেশে ২৪ হাজার টাকার নিচে পাঠান না।

সাক্ষাৎগ্রহণকারী প্রথম প্রশ্নেই ধাক্কা খান নেটিজেনরা। রাশেদের হাত খরচের কথা জিজ্ঞেস করলেই ১৭ বছরের কিশোর রাশেদ বলেন, প্রতি মাসে তার হাত খরচ ২০ থেকে ৩০ রিয়াল।

এ টাকা মোবাইলের কার্ড কিনতেই চলে যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ বলেন, আমি মোবাইল কার্ড ব্যবহার করি না। ওয়াফাই দিয়ে আমার চলে।

পরের প্রশ্ন শুনে হতবাক নেটিজেনরা। খাবারের কথা জিজ্ঞেস করতেই রাশেদ যে উত্তর দেন তা হাজারো নেটিজেনদের আপ্লুত করেছে।

রাশেদ জানান, সৌদি আরবে কাজে আসার এক মাস চার দিন হয়েছে তার। ডাল আর আলু ভাজি ও ভর্তা খেয়ে দিন পার করেন তিনি। টাকা বেশি খরচ হবে বলে মাছ-মাংস খান না। সৌদিতে আসার প্রথম দিকে মাছ-মাংস খেতেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা বিবেচনা করে মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন রাশেদ। ভিডিও গ্রহণের দিন রাশেদ বেগুন ও আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খেয়েছেন বলেও জানান।

দেশে সবচেয়ে বেশি কাকে মিস করেন? এমন প্রশ্নের উত্তর শোনার পর সবার মন নাড়া দেয়। প্রতিত্তোরে রাশেদ বলেন, মাকে সবচেয়ে মিস করি।

তখন সাক্ষাৎগ্রহণকারী নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের অপারগতা জানিয়ে বলেন, এতো অল্প বয়সে মা-বাবার কর্তব্য পালন করতে যে কষ্ট তুমি করছ তা দেখে বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের সন্তানদের শেখা উচিত।

ভিডিওতে তিনি আরো বলেন, তোমার মতো বয়সের ছেলেরা দোকান বা সড়কে আড্ডা মারে। কিন্তু ১৭ বছর বয়সে পরিবারের জন্য তুমি বিদেশে এসেছো যা সত্যিই অকল্পনীয়।

টাকা দেয়ার ব্যাপারে ভিডিওতে হাসিমুখে রাশেদ বলেন, ভাই ছোট, লেখাপড়া করে। বোনকে বিয়ে দিতে হবে। এ মাসে বাড়তি টাকা পাঠাতে হবে। আর টাকা মায়ের কাছে পাঠাই। পরিবারসহ মায়ের জন্য কষ্ট করছি। মা হাশরে কষ্টের কথা বলবে। মা আমাকে ১০ মাস ১০ দিন কষ্ট করে জন্ম দিয়েছে। আমি মায়ের কষ্ট না বুঝলে কে বুঝবে?

মায়ের মৃত্যু হলে তো সব টাকা আমার কাছেই থাকবে। মায়ের জন্য সবকিছু করছি। সব টাকা মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেই। এখন আমার পকেট খুঁজলে এক টাকাও পাবেন না।

>>ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন<<

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ