‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র জয়গুনের প্রয়াণ দিবস আজ
15-august

ঢাকা, সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২,   ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯,   ০৯ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র জয়গুনের প্রয়াণ দিবস আজ

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৯ ৩ জুলাই ২০২২  

ডলি আনোয়ার

ডলি আনোয়ার

বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের পথযাত্রা যাদের হাত ধরে হয়েছে তাদের ভেতর অন্যতম অভিনেত্রী ডলি আনোয়ার। তিনি ছিলেন সত্তর দশকের জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটক ‘একতলা দোতলা’ দিয়ে তার অভিনয়ের হাতে খড়ি হয়। শুধু অভিনয়ের দক্ষতা দিয়ে তিনি নিজেকে মেলে ধরেননি, করেছেন সম্পাদনাও। আশির দশকে ‘সাতদিন’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মধ্যদিয়ে ডলি আনোয়ারের সিনেমার যাত্রা শুরু হয়। সিনেমাটির প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। আজ এই গুণী অভিনেত্রীর প্রয়াণ দিবস। ১৯৯১ সালের ৩ জুলাই ডলি আনোয়ার বিষপান করে আত্মহনন করেন।

ডলি আনোয়ার ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত নারীনেত্রী ও লেখক ড. নীলিমা ইব্রাহিম এবং প্রখ্যাত চিকিৎসক ও বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের মেয়ে। এই অভিনেত্রীর পারিবারিক নাম পিয়ারা ইব্রাহিম হলেও অভিনয়ে এসে পরিচিতি পান ডলি আনোয়ার নামে। ডলি আনোয়ার সত্তরের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়স থেকে ঢাকার মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের আগেই ডলি বেতার ও টিভিতে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছিলেন অনন্য উচ্চতায়।

ডলি আনোয়ার ১৯৭৯ সালে মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত সূর্য দীঘল বাড়ী চলচ্চিত্রে ‘জয়গুন’ চরিত্রে অভিনয় করেন। এটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি। এতে আরো অভিনয় করে রওশন জামিল, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘সুর্য দীঘল বাড়ি’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

তার দ্বিতীয় ছবি দহন। ১৯৮৬ সালে অভিনয় করেন শেখ নিয়ামত আলী রচিত ও পরিচালিত রাষ্ট্রীয় অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্র দহন-এ। মধ্যবিত্তদের টানাপোড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। ছায়াছবিটির অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন বুলবুল আহমেদ, ববিতা, হুমায়ুন ফরীদি, আসাদুজ্জামান নূরসহ আরো অনেকে। তার তৃতীয় ও শেষ ছবি হুলিয়া। ডলি আনোয়ার অভিনীত হুলিয়া চলচ্চিত্রটি ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায়। 

মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী নির্মিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’-তে অভিনয়ের জন্য ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারী অভিনয়শিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও তিনি চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার ও ফটোগ্রাফিতে জাতিসংঘের ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৭ সালে। 

কিংবদন্তি স্বনামধন্য পরিবার, যশ, খ্যাতির কমতি না থাকলেও ডলি আনোয়ার বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার পর নানা রকম গুজবও উঠেছিলো। যদিও এই গুজবের কোনো সত্যতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। যার জন্য এখনো সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ডলি আনোয়ারের মৃত্যু রহস্যময় হয়ে আছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস

English HighlightsREAD MORE »