বেঁচে থাকলে আজ ৫০তম জন্মদিন পালন করতেন ‘স্বপ্নের নায়ক’

ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বেঁচে থাকলে আজ ৫০তম জন্মদিন পালন করতেন ‘স্বপ্নের নায়ক’

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫০ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১  

সালমান শাহ

সালমান শাহ

খুব রাজসিকভাবে তার আগমন হয়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রে। নিজের স্বভাব সুলভ চাহনি, সুদক্ষ অভিনয় আর আধুনিকতায় নিজেকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সুপরিচিত করে তুলেছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ এবং ১৯৯৭ সালে ‘বুকের ভিতর আগুন’ ৪ বছরে ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমা উপহার দেন তিনি। কিন্তু সব ছেড়ে হঠাৎ করেই অতৃপ্ত বাসনায় অদেখা ভুবনে পাড়ি জমান তিনি। বলছি বাংলা সিনেমার অমর নায়ক সালমান খানের কথা। 

নিয়ম করে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে ১৯ সেপ্টেম্বর আসলেও সশরীরে পাওয়া যায় না তাকে। কিন্তু ভালোবাসা দূরত্ব মানে না। হোক না সে মৃতই। মানুষের হৃদয়ে আজও তিনি অমর। তিনি বেঁচে আছেন স্বপ্নে নায়ক হয়েই।

যারা বাংলা সিনেমা ভালোবাসেন, তাদের একমাত্র ভালোবাসার নাম সালমান শাহ। তাইতো বাংলা সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের কাছে এ দিনটি বিশেষ। কারণ এই দিনেই জন্মেছিলেন অমর নায়ক সালমান শাহ।

১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে (১৯ সেপ্টেম্বর) পৃথিবীতে আগমন হয়েছিল তার। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৫০ বছরে পা রাখতেন। তবে মৃত্যুর পরও তার জনপ্রিয়তায় একটুও ভাঁটা পরেনি। এত বছর পরও কালজয়ী এই নায়ক এখনো সমানভাবে আলোচিত, জনপ্রিয়, প্রাসঙ্গিক। সালমান শাহ অভিনীত প্রথম সিনেমা কেয়ামত থেকে কেয়ামত বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা।

প্রথম সিনেমা সফলের পর একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। স্বপ্নের ঠিকানা, অন্তরে অন্তরে, বিক্ষোভ, সত্যের মৃত্যু নেই, তোমাকে চাই, মায়ের অধিকার, স্বপ্নের পৃথিবী, আনন্দ অশ্রুর মতো ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছিলেন। যার বেশিরভাগ সিনেমাই জনপ্রিয় হয়েছিল, কালের প্রবাহে সিনেমারগুলোর চাহিদা যেন বেড়েই চলেছে দর্শকদের কাছে।

প্রথম সিনেমার পর সালমান-মৌসুমীর জুটির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, ব্যক্তিগত দ্বন্ধে তা দীর্ঘায়িত হয়নি। পরবর্তীতে শাবনূরের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন, যা রুপ নেয় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় জুটিতে। চলচ্চিত্রের গানেও রয়েছে এক বিস্ময়কর ঘটনা, ওনার প্রায় সব ছবিতেই রয়েছে একাধিক জনপ্রিয় গান।

তবে কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার মধ্যে দিয়ে সিনেমা জগতে তার অভিষেক ঘটলেও, মূলত আশির দশকে হানিফ সংকেতের ‘কথার কথা’ নামে একটা অনুষ্ঠানে মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে মিডিয়াতে তার যাত্রা শুরু হয়। এছাড়া কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় চরিত্রে না থাকলেও সালমান শাহ’র অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল বিটিভ’তে প্রচারিত ‘পাথর সময়’ নাটকের মাধ্যমে। 

চলচ্চিত্রের দারুন ব্যস্ততার মাঝেও নাটকে অভিনয় করতেন সালমান শাহ। ‘নয়ন’ নামের একটি নাটকের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। নাটকে, টেবিলের উপরে হাত প্রসারিত করে আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ছুরি দিয়ে গাঁথার একটা দৃশ্য ছিল। কথিত আছে, শুধুমাত্র সালমান শাহ’র কারণে এই দৃশ্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সেই সময় তরুণদের ক্রেজ হয়ে গিয়েছিলো টেবিলের উপরে হাত প্রসারিত করে আঙ্গুলের ফাঁকে ছুরি গাঁথা।

কিন্তু সব ছেড়ে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।  রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে তার নিজ বাস ভবনে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। ময়না তদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য এখনো কাটেনি। 

সালমান শাহ এতোটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে তার মৃত্যু সংবাদ শুনে সেদিনই সারা বাংলাদেশে প্রায় ২১ জন মেয়ে আত্মহত্যা করেন। আজ নেই সালমান শাহ। কিন্তু প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দর্শকদের অন্তরে অন্তরে রয়ে গেছেন এই স্বপ্নের নায়ক।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস