পরিচয় মিলেছে পরীমনিকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সেই ব্যক্তির

ঢাকা, রোববার   ২৫ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১০ ১৪২৮,   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পরিচয় মিলেছে পরীমনিকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী সেই ব্যক্তির

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩০ ১৪ জুন ২০২১   আপডেট: ১২:৪১ ১৬ জুন ২০২১

পরী মণি ও নাছির ইউ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

পরী মণি ও নাছির ইউ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢালিউড ছবির আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনি এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন। রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে বনানীর নিজ বাসায় এ অভিযোগ করেন তিনি। ওই ব্যক্তি ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য (বিনোদন ও সংস্কৃতি) নাছির ইউ মাহমুদ বলে জানান পরীমনি।

এ অভিনেত্রীর অভিযোগ, চার দিন আগে উত্তরায় বোট ক্লাবে নাছির ইউ মাহমুদ তার ওপর চড়াও হয়েছিলেন। ঢাকা বোট ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি একজন আবাসন ব্যবসায়ী। নাছির ইউ মাহমুদ কুঞ্জ ডেভলপারস লিমিটেডের চেয়ারম্যান। উত্তরা ক্লাবেরও সাবেক সভাপতি তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পরীমনি জানান, গত বুধবার (৯ জুন) রাতে পারিবারিক বন্ধু অমি ও পরীর পোশাক ডিজাইনার জিমির সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। রাত ১২টার দিকে অমি তাদের নিয়ে ঢাকা বোট ক্লাবে যাই। সেখানে মদ্যপানরত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পরীর পরিচয় করে দেন অমি। পরে অমি সেখানে থাকা নাছির ইউ মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যায়। সে সময় নাছির ইউ মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাছির ইউ মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারপর নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: পরীমনি ধর্ষণচেষ্টাকারীসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা

পরীমনি বলেন, অমি একজন ব্যবসায়ী এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জেমির স্কুল বন্ধু। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি বলতে চাই, কিন্তু বলতে পারছি না। আমার বলতে ইচ্ছা করছে অনেক। আমি চার দিন ধরে পাগল হয়ে গেছি। আমার জায়গায় থাকলে আপনারা কথা বলতে পারতেন না।

ঘটনার পরপরই বনানী থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন পরীমনি। সে সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা তার অভিযোগ রেকর্ড করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় পুলিশের সাহায্যে পরীমনি হাসপাতাল পর্যন্ত গিয়েও আতঙ্কবশত চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান বলে জানান।

আরও পড়ুন: অভিযোগে নতুন করে যা বললেন পরীমনি, বাসার সামনে পুলিশ মোতায়েন

সংবাদ সম্মেলনে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী। এ সময় একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে তাকে। কথা বলতে গিয়ে বারবার থেমে যাচ্ছিলেন পরীমনি।

সবশেষ পরীমনি বলেন, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। আমি যদি মরে যাই, বুঝবেন মেরে ফেলা হয়েছে। আমি সুইসাইড করতে পারি না, সুইসাইড করব না। আমি আমার বিচার নিয়ে মরব। আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি অন্যায়ের বিচার চাই। তবে এ বিষয়ে মূল অভিযুক্ত নাছির ইউ মাহমুদের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন পরিমনি। 

নড়াইলের মেয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতি চলচ্চিত্রে পরীমনি নাম নিয়ে ২০১৫ সালে নামার পর দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এরই মধ্যে দুই ডজন চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্র রূপায়ণ করেছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এনকে