মা এবং মাতৃত্বের কথা জানালেন শুভশ্রী

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

মা এবং মাতৃত্বের কথা জানালেন শুভশ্রী

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ৯ মে ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শুভশ্রী গাঙ্গুলি। কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়ুই উৎরাই পার করতে হয়েছে তাকে, পড়েছেন অনেক সমালোচনায়। তবে সেসবে পাত্তা না দিয়ে ৭ মার্চ, ২০১৮ সালে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন তিনি। এরপরে তাদের ঘর আলোকিত করে ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ সালে তাদের সন্তান ইউভানের জন্ম হয়।

আজ বিশ্ব মা দিবস। এদিন ভারতীয় গণমাধ্যমে নিজের মা এবং মাতৃত্বের কথা ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে নিলেন অভিনেত্রী নিজে।

শুভশ্রী বলেন, এখন লিখতে বসে মনে পড়ছে কোন এক ছোটবেলার কথা, আমি তখন থেকেই বড় হয়ে মা হতে চেয়েছিলাম। ভাবলে হয়ত অদ্ভুত শোনাবে, কিন্তু এটাই সত্যি। ডিসকভারি চ্যানেলে যখন দেখাত কীভাবে একটা বাচ্চার জন্ম হয়, আমি হাঁ করে দেখতাম। মা হওয়ার ইচ্ছা নিজের মধ্যে ধারণ করতে করতে আমি বড় হলাম। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক অদ্ভুত ইচ্ছা জাগল মনে। ইচ্ছা তো ছিল অভিনেত্রী হওয়ার। যখন প্রথম বাড়িতে জানিয়েছিলাম সবাই আঁতকে উঠেছিল। বলেছিল, তোর মাথার ঠিক আছে তো? একজন মানুষ শুধু আমার সঙ্গে ছিল। আমার মা। আমার অভিনেত্রী হওয়ার শুরুর দিকে মা সকলের সঙ্গে একা লড়েছিল।

কত কম বয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি! জীবনে অনেক ঝড় বাদলের রাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। লড়াই করেছি বলেই এত ইতিবাচক মন নিয়ে থাকি। রাজের সঙ্গে যে দিন প্রথম মায়ের দেখা হল, সে দিন মায়ের রাজকে খুব পছন্দ হয়েছিল। হবে নাই বা কেন! রাজের মতো অমন ভাল ছেলে, অমন ব্যক্তিত্ব... যে কোনো মানুষ প্রেমে পড়তে বাধ্য।

আমাদের বিয়ে হল। শ্বশুরবাড়ি এসে আর এক মা-কে পেলাম। কোনো দিন আমাকে রান্নাঘরে ঢুকতে দিলেন না। বললেই বলবেন, আমার ছেলেকে কি আমি রান্নাঘরে যেতে বলি? তা হলে তোমায় কেন বলব? তার উপর তুমি নিজের বাড়ি ছেড়ে এসেছ। বরাবর জানবে, তুমি এই বাড়ির সবচেয়ে মূল্যবান ব্যক্তি যাকে আমি আমার ছেলের থেকেও অনেক বেশি যত্নে রাখতে চাই।

সত্যিই এমন শাশুড়ি ভাগ্য করে মেলে।

এর পর ইউভান এলো। আমি অনেক দেরিতে জেনেছিলাম, আমি অন্তঃসত্ত্বা। জীবনের সব আনন্দ একদিনেই যেন পেয়ে গিয়েছিলাম। সেই ছোটবেলার স্বপ্ন সত্যি হল। আমার মতো করে, খুব সুন্দর করে মা হতে চাই আমি। সেই অতিমারির সময় ইউভান আমার শরীরে মিশে গিয়েছিল। বাইরে মৃত্যু দেখছি আর ভিতরে ইউভানের হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছি!

কখনো ওর ঘুমন্ত চোখে, কখনো ওর জেগে থাকা চোখের দিকে তাকিয়ে বলি, ইউভান তুমি এই মৃত্যু উপত্যকায় জীবন্ত প্রাণ। তুমি আমাদের মতো শৈশব পেলে না। জানলে না মাঠের গন্ধ, আকাশে ঘুড়ি ওড়া মুক্তির কথা। একসঙ্গে বসে হুল্লোড় করা।

দেখ, তোমার মা তোমাকে জল, হাওয়া আর বৃষ্টির মধ্যেই বড় করে তুলবে। যা ইচ্ছা হবে, বড় হয়ে তা-ই হবে তুমি। তোমার হয়ে আমি স্বপ্ন দেখব না। কিছু ভেবেও রাখব না।

তুমি নিজেই আলো হয়ে পৃথিবীকে আলিঙ্গন করবে। সেই দিন আসছে ইউভান।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস