দশকের আলোচিত ২১ নাটক, যা না দেখলে মিস

ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৮ জ্বিলকদ ১৪৪২

দশকের আলোচিত ২১ নাটক, যা না দেখলে মিস

ইসমাইল উদ্দীন সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৬ ৮ মে ২০২১  

কিছু নাটক দর্শকের স্মৃতিতে রয়ে যায় চিরকাল। ছবি: সংগৃহীত

কিছু নাটক দর্শকের স্মৃতিতে রয়ে যায় চিরকাল। ছবি: সংগৃহীত

বছরে দেশে কয়টি টিভি নাটক নির্মাণ করা হয়, তার কোনো হিসেব নেই। তবে ধারণা করা হয়, সেই সংখ্যাটা পাঁচশ’র কম হবে না। এত শত নাটকের ভিড়ে কয়েকটা নামই মানুষের মুখে শোনা যায়; যেগুলোর গল্প-চরিত্র মানুষের মাথায় গেঁথে যায়। আবার কিছু নাটক দর্শকের স্মৃতিতে রয়ে যায় চিরকাল।

গত দশকে মনে রাখার মতো কিছু নাটক নির্মাণ হয়েছে, যা এখনো মানুষের মুখে মুখে। সঙ্গে রয়েছে সেই সব নির্মাতাদের আরো কিছু আলোচিত নির্মাণ। যা ভিউ ও গুণগত মান বিচারে আজও দর্শকদের চাহিদার তালিকায় শীর্ষে-

১. বড় ছেলে (৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭): এই দশকের সবচেয়ে আলোচিত ও সর্বোচ্চ ভিউ পাওয়া নাটক মিজানুর রহমান আরিয়ান নির্মিত ‘বড় ছেলে’। ‘বড় ছেলে’র আগেও এই নির্মাতা আলোচনায় এসেছেন ‘ট্রাম্প কার্ড’ ও ‘ইন অ্যা রিলেশনশিপ’ নাটকের মধ্য দিয়ে। তবে ‘বড় ছেলে’র বিশাল সাফল্যের পর তিনি এখন শীর্ষ নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। সেই ধারাবাহিকতায় নির্মাণ করেন ‘বুকের বাঁ পাশে’র মতো আরেক জনপ্রিয় টেলিফিল্ম। মিজানুর রহমান আরিয়ান সাধারনত রোমান্টিক ধারার নাটকই বেশি নির্মান করেছেন। এছাড়া বানিয়েছেন ‘ব্যাচ ২৭’ সিরিজ, ‘কথোপকথন’, ‘২২শে এপ্রিল’, ‘প্রিয় নিতু’, ‘অ্যাংরি বার্ড’সহ আরো অনেক সফল নাটক। তার নির্মিত নাটকে গান নিয়মিত ঘটনা; যা বেশ জনপ্রিয়ও হয়।

২. নীলপরী নীলাঞ্জনা (২০১৩): গত দশকের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টেলিফিল্ম শিহাব শাহিন নির্মিত ‘নীলপরী নীলাঞ্জনা’। তিনি‘ভালোবাসি তাই’ ও ‘ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই’ নির্মাণের পর আলোচনায় আসেন। এরপর একে একে নির্মাণ করেন ‘মনফড়িঙের গল্প’, ‘মনসুবা জংশন’, ‘বিনি সুতোর টান’-এর মতো সফল টেলিফিল্ম। গানের সুব্যবহারের রীতি চালু করে বাংলা নাটকে তিনি রোমান্টিকতার মোড় ঘুরিয়ে দেন।

৩. ল্যান্ডফোনের দিনগুলিতে প্রেম (২৪ মে, ২০১৫): আশির দশকের প্রেক্ষাপটে আশফাক নিপুনের নির্মিত ‘ল্যান্ডফোনের দিনগুলিতে প্রেম’ গত দশকের জনপ্রিয় একটি নাটক। ছবিয়ালের এই সাহসী নির্মাতার ‘খুঁটিনাটি খুনসুটিঁ’, ‘মিস শিউলি’, ‘সুখের ছাড়পত্র’, ‘আল্পনা কাজল’, ‘তুমি না থাকলে’, ‘দ্বন্দ্ব সমাস’, ‘ফেরার পথ নেই’, ‘এই শহরে’, ‘সোনালী ডানার চিল’ একাধারে প্রশংসিত ও আলোচিত নাটক। দেশের চলমান সামাজিক ইস্যু নিয়ে নাটক বানানোর জন্য আশফাক নিপুন খুবই প্রশংসিত। তবে সমকামিতা নিয়ে ‘রেইনবো’ নাটক নির্মাণ করে বিতর্কিত তিনি, যদিও কেউ কেউ এমন সাহসিকতার জন্য বাহবাও দিয়েছিলেন।

৪. @18 অলটাইম দৌড়ের উপর (১৪ এপ্রিল,২০১৩): ছবিয়ালের অন্যতম আবিষ্কারক নির্মাতা আদনান আল রাজিব নাটক বানান একেবারেই কম, বিজ্ঞাপন নির্মাণই করেন বেশি। ‘@18 অলটাইম দৌড়ের উপর’ ছাড়াও তার আরো দুটো কাজ ‘বিকেল বেলার পাখি’ ও ‘মিডলক্লাস সেন্টিমেন্ট’। সবগুলোই দর্শকপ্রিয়তার তালিকায় প্রথমদিকেই রয়েছে। তাই দর্শকরাও নাটকে তার নিয়মিত পদচারণা আশা করেন।

৫. আমাদের গল্প (১৪ এপ্রিল, ২০১২): ইফতেখার আহমেদ ফাহমি নির্মিত ‘আমাদের গল্প’ গত দশকের অন্যতম দর্শকনন্দিত একটি বাংলা নাটক। যৌথভাবে বানিয়ে ‘হাউজফুল’ জনপ্রিয় হবার পর এককভাবে নির্মাণ করেন ‘ফিফটি ফিফটি’। কারো কারো মতে ছবিয়ালের সেরা আবিষ্কারক ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, তবে তাকে নিয়ে দর্শকদের উচ্চাশা কিছুটা অস্তমিত হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘবিরতির পর ‘কিংকর্তব্যবিমুঢ়’ নাটকের মধ্য দিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন। ‘রিলাক্স বক্স’, ‘তুমি থাকো সিন্ধুপাড়ে’, ‘সেলুলয়েড ম্যান’, ‘হাইওয়ে টু হেভেন’, ‘রিং’ ইত্যাদি তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নির্মাণ।

আলোচিত অনেক নাটকের নির্মাতা তারা। ছবি: সংগৃহীত

৬. দেনমোহর (ডিসেম্বর, ২০১৬): ‘দেনমোহর’ নাটক বানান ছবিয়াল থেকে আসা আরেক নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ। গত দশকের দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের মধ্যে তার নির্মাণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ তারই নির্মিত। এছাড়া ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘মাইক’, ‘চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই’, ‘২৬ দিন মাত্র’, ‘হ্যালো ৯১১’, ‘লাভ ইমার্জেন্সি’ নাটকগুলো উল্লেখযোগ্য। চারটি সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। তবে কয়েকবছর ধরে দর্শকদের হতাশার কারণ তিনি আর প্রত্যাশানুযায়ী নাটক বানাচ্ছেন না।

৭. বিহাইন্ড দ্য ট্র্যাপ - পিন্টু-মিন্টু সিরিজ ( ২৮ জুলাই, ২০১৪): নির্মাতা রেদোয়ান রনি, যার ‘হাউজফুল’ ও ‘এফএনএফ’ অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক। ছবিয়ালের প্রতিভাবান এই নির্মাতার ‘পিন্টু-মিন্টু’ সিরিজের সবগুলো ঈদ ধারাবাহিক দর্শকনন্দিত। তার অন্যান্য কাজের মধ্যে ‘ইউটার্ন’, ‘জেগে ওঠার গল্প’, ‘পাঞ্চ ক্লিপ’, ‘ভালোবাসা ১০১’, ‘রেডিও চকোলেট’ অন্যতম।

৮. কথাবন্ধু মিথিলা (১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪): নাটকটি নির্মাণ করেন মাসুদ হাসান উজ্বল; যার ঝুলিতে রয়েছে ‘দ্য প্রেস’, ‘ধুলোর মানুষ’, ‘মানুষের ঘ্রাণ’, ‘কেবিন’, ‘থতমত এই শহরে’-এর মতো প্রশংসিত কয়েকটি নাটক। তবে নিজের প্রথম সিনেমা তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় সম্প্রতি নাটকে সময় দিয়েছেন কম।

৯. লালাই (২৪ আগস্ট, ২০১৮): ‘লালাই’ এইসময়ের জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহর নির্মাণ। প্রথমদিকে তারুণ্য নির্ভর নাটক বানালেও আজকাল ভিন্ন ভিন্ন গল্পের দিকে ঝুঁকেছেন এই নির্মাতা। অধিক সংখ্যার কারণে মানের দিকে মনোনিবেশ করতে না পারলেও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটক তৈরি করেছেন। ‘আইসক্রিমওয়ালা’, ‘হোম টিউটর’, ‘এলিয়েন ও রুম্পার গল্প’, ‘শত ডানার প্রজাপতি’, ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘রুপবান ফিরে এলো’', ‘মাস্তি আনলিমিটেড’, ‘ছেলেটি অবন্তীকে ভালোবেসেছিল’ থেকে হালের ‘আমাদের দিনরাত্রি’, ‘আশ্রয়’, ‘মুগ্ধ ব্যকরণ’ অন্যতম।

১০. এয়ারবেন্ডার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭): ‘এয়ারবেন্ডার’ নির্মাণ করেছেন নির্মাতা তানিম রহমান অংশু’ যিনি মিউজিক ভিডিও নির্মাণেই সময় বেশি দেন। চলচ্চিত্র বানিয়েছেন তিনটি। তার ‘হঠাৎ তোমার জন্য’, ‘দরজার ওপাশে’, ‘লাইফ অ্যান্ড ফিওনা’, ‘আমি তৃণা ও ম্যাজিক’ দর্শকদের নতুনত্বের স্বাদ দিয়েছিল। ‘স্পুক’ টেলিফিল্ম ও ‘আলো’-এর মতো হরর নাটক তৈরি করে দর্শকদের চমকে দিয়েছেন।

১১. হ্যালো বাংলাদেশ (২৯ জুলাই, ২০১৪): জনপ্রিয় টেলিফিল্মটি নির্মাণ করেন দক্ষ নির্মাতা মাহফুজ আহমেদ, অভিনেতা হিসেবেও যিনি সুপ্রতিষ্ঠিত। ‘মায়ের কাছে যাব’, ‘শৈন প্রু’, ‘একজন ছায়াবতী’, ‘বাপের বেটা’, ‘কেবলই রাত হয়ে যায়’, ‘সূর্যাস্তের আগে’ তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য নাটক।

এছাড়া করোনাকালের (২০২০-২১) বেশ কিছু নাটক রয়েছে আলোচনায়-

১. ইতি মা, ভিক্টিম- পরিচালক আশফাক নিপুণ
২. যে শহরে টাকা ওড়ে- পরিচালক সঞ্জয় সমদ্দার
৩. ইরিনা, জন্মদান, রেহনুমা, নির্বাসন- পরিচালক ভিকি জাহেদ
৪. শহর ছেড়ে পরানপুর, উপহার, স্বার্থপর- পরিচালক মিজানুর রহমার আরিয়ান
৫. ব্যাঞ্জনবর্ণ, আমার অপরাধ কি - পরিচালক মাবরুর রাশিদ বান্নাহ
৬. হ্যামলেটের ফিরে আসা- পরিচালক  আশরাফুজ্জামান
৭. এখানে তো কোন ভুল ছিল না- পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা ইমন
৮. এক্সট্রা আর্টিস্ট- পরিচালক জনাব তানভীর আহমেদ
৯. কেন, ভুল এই শহরে মধ্যবিত্তেরই ছিল-  পরিচালক মাহমুদুর রহমান হিমি
১০. অক্সিজেন (শর্ট ফিল্ম)- পরিচালক রায়হান রাফি

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে