ঈদে সিনেমা হল খোলা-বন্ধ নিয়ে ‘নানা মুন্সির’ নানা মত

ঢাকা, শনিবার   ১৯ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮,   ০৭ জ্বিলকদ ১৪৪২

ঈদে সিনেমা হল খোলা-বন্ধ নিয়ে ‘নানা মুন্সির’ নানা মত

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৯ ৬ মে ২০২১   আপডেট: ২২:৪৪ ৬ মে ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রমজান মাসে দেশের সিনেমা হল এক মাস বন্ধ রাখেন হল মালিকেরা। সাধারণ সময়ে এই বন্ধের মধ্যে প্রযোজক ও হল মালিকরা সিনেমার বুকিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু করোনার মধ্যে সিনেমা মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। তাই কোনো পক্ষই উৎসাহ দেখাচ্ছে না সিনেমা মুক্তি নিয়ে।

ঈদকে কেন্দ্র করে সবসময় মুক্তি পায় দেশের সবচেয়ে বড় বাজেটের সিনেমাগুলো। ঈদে সিনেমার ব্যবসা ভালো হওয়ায় প্রযোজকরাও এ সময় সিনেমা মুক্তি দিতে বেশি উৎসাহী থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ সালের ঈদে মুক্তি পায়নি কোনো সিনেমা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে বিপর্যস্ত ২০২১ এর ঈদ। তাই এবারের ঈদটাও মাটি যাবে সিনেমা হল মালিকদের। তবুও আশা ছাড়ছেন না কেউ। এ ব্যপারে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ বলেন, আমাদের সিনেমা হলগুলো আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ। সরকারের কাছে আমাদের দাবীদাওয়াগুলো বলা আছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হলগুলো সেভাবে সিনেমা প্রদর্শন করতে পারছে না। সামনে ঈদুল ফিতর। এখন ঈদে আমরা সিনেমা হল খোলা রাখবো কিনা, এটা সম্পূর্ণ সরকারের উপর নির্ভর করছে। 
ঈদে সিনেমা মুক্তি পেলে সিনেমা হলে চালাবো। কিন্তু একটা বিষয় হচ্ছে দর্শক কি এই পরিস্থিতিতে হলে সিনেমা দেখতে আসবে? এটা নিয়ে সংশয় আছে। আবার প্রযোজকরাও তাদের ছবি মুক্তি দিবেন কিনা, সেটাও দেখার বিষয়। এখন দেখা যাক পরিস্থিতি কি হয়!

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ঈদে সিনেমা হল খোলা থাকার সম্ভাবনা আছে। পাশাপাশি ঈদে যদি ভালো সিনেমা মুক্তি দেয় তাহলে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সিনেমা চালাবো। 

আসলে করোনাকালীন সিনেমা হল মালিকারা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার জন্য আমরা সরকারের কাছে ঋণ প্রস্তাব করেছি। এটা পেলে আমাদের জন্য উপকার হবে।

এদিকে, মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ অনেকটা সংশয় নিয়ে বলেন, করোনার কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার সিনেমা হল বন্ধ রয়েছে। এবার চালু করার ইচ্ছা থাকলেও করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় তা আর সম্ভব হচ্ছে বলে মনে হয় না।

এই পরিস্থিতিতে এখন সিনেমা মুক্তি পেলেও সাধারণ মানুষরা সিনেমা দেখতে আসবে না। তাদের শারীরিক, মানসিক, আর্থিক সবকিছুই তো আগের মতো নেই। একসঙ্গে একটা জায়গায় এতোটা সময় নিয়ে থাকার জন্য তারা আসবে না। তবুও চেষ্টা করবো সিনেমা চালানোর জন্য।


স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সিনেমা হল খোলার সিদ্ধান্তটা অনেকটাই প্রযোজকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযোজকেরা ঈদ উপলক্ষে নতুন সিনেমা মুক্তি দেয় তাহলে সিনেপ্লেক্সগুলো চালাবো। ঈদে আমাদের সিনেপ্লেক্সের সবগুলো শাখা খোলা থাকবে। প্রযোজকরা এখন কি করবেন সেটা দেখার বিষয়।

অনেকটা হতাশা নিয়ে শ্যামলী সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক আহসানউল্লাহ বলেন, আসলে সবকিছু নির্ভর করছে পরিবেশ পরিস্থিতির উপর। জীবন ও জীবিকার জন্য তো রিস্ক নিতে হবে। জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

গত এক বছর হল কতৃপক্ষ আমাদেরকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিয়েছেন। এখনতো আমাদেরকেও তাদের দেয়া উচিত। সরকার যদি সিনেমা হল খুলে দেন তাহলে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সিনেমা চালাবো। দেশে যখন সবকিছু খুলে দেয়া হচ্ছে তাহলে সিনেমা হল বন্ধ রেখে লাভ কি? 

এই পেশাটার সঙ্গে অনেক মানুষ জড়িত, তাদের বেঁচে থাকার জন্য হলেও এটা আমাদের করতে হবে। আশাকরি সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠুক। অনেক ভালো ভালো বিগ বাজেটের ছবি আটকে আছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বড় একটা লোকসানের মুখে রয়েছে। তাই সিনেমা হলগুলো চালু রাখলে এই সিনেমাগুলো দর্শকরা দেখতে পাবেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সিনেমা হল না খোলার সুর দিয়ে পান্না সিনেমা হলের কর্ণধার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজগর হোসেন বলেন, আমি এই পরিস্থিতিতে ঈদে কোনো সিনেমা প্রদর্শন করবোনা। করোনাকালীন সিনেমা হলে নতুন ছবি চালালে কোনো দর্শক আসবে বলে আমার মনে হয় না। তাই আমি ঈদে সিনেমা হল না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমি কোনো রিস্ক না নেয়ার জন্যই আপাতত এই সিদ্ধান্তে আছি। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আমি সিনেমা হল খোলবো। মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এখন সিনেমা চালানো ঠিক হবে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস