মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে অবদান রাখেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী কবরী

ঢাকা, রোববার   ০৯ মে ২০২১,   বৈশাখ ২৬ ১৪২৮,   ২৬ রমজান ১৪৪২

মুক্তিযুদ্ধে যেভাবে অবদান রাখেন কিংবদন্তী অভিনেত্রী কবরী

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৫০ ১৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ০৯:৫২ ১৭ এপ্রিল ২০২১

কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী- ফাইল ফটো

কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী- ফাইল ফটো

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ১৩ দিন পর সব বন্ধন ছিন্ন করে মারা গেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। কৈশোরকালের মিনা পাল চলচ্চিত্রসহ নানা কর্মকাণ্ডে সারাহ বেগম কবরী নামে অবদান রেখেছিলেন। এ অভিনেত্রীর অবদানের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধও।

সারাহ বেগম কবরী যখন চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তখনই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৯ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রথমে ঢাকা থেকে গ্রামের বড়ি রওনা হন। সেখান থেকে তিনি পাড়ি জমান ভারতে।

জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কবরী বলেছিলেন, ‘তখন তো আমি আওয়ামী লীগের বা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলাম না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে, সাধারণ মানুষ, একজন অভিনেত্রী ও শিল্পী হিসেবে মানবতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। বাবা, মা, ভাই-বোন, সম্পদ, লোভ-লালসা সবকিছুর মায়া ত্যাগ করে আমি ভাষণ দিয়েছিলাম এবং জনসম্মুখে কাঁদছিলাম। আমি চাইছিলাম, পাকিস্তানি বাহিনী যেভাবে হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছিল আমাদের দেশের মানুষের ওপর তার হাত থেকে যেন আমার দেশের মানুষ অতি দ্রুত রক্ষা পায়। সেজন্য আমি মানুষের কাছে, বিশ্ববাসীর কাছে যে আহ্বান জানিয়েছিলাম তার পরিণতি যে কী হতে পারে তা একবারও আমার মনে আসেনি এবং ভাবার কোনো অবকাশও ছিল না।’

সেই সাক্ষাৎকারে কবরী জানান, কলকাতা গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অংশ নেন প্রচুর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

এ সময়ের একটি স্মৃতি তুলে তিনি বলেছিলেন, ‘সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছিলাম। সেখানে আমি তুলে ধরি, কীভাবে আমি আমার মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে ছেড়ে এক কাপড়ে একেবারে কপর্দকহীন অবস্থায় পালিয়ে এসেছি। সেটা বলতে বলতে আমি বিশ্ববাসীর কাছে আমার দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য, আমার মা-বোনকে বাঁচানোর জন্য সাহায্যের আবেদন করি। তারপর আমি কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞানহারা হয়ে পড়ি। আর কিছুই জানি না।’

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারো চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেন কবরী। স্বাধীন দেশে সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ ছবির নায়িকা হিসেবে অভিনয় জীবন শুরু। শতাধিক ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। এমনকি করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাণও। এরপর রাজনীতিতে পা রাখেন কবরী। হয়েছেন জাতীয় সংসদের এমপিও। এ করোনাকালেও তার পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘এই তুমি সেই তুমি’ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। শেষ করেছেন সিনেমার শুটিং। 

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্ম নেয়া মিনা পাল সারাহ বেগম কবরী করোনায় সংক্রমিত হন ১৩ দিন আগে। এ ১৩ দিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ, চলচ্চিত্র, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ