বাস্তবে প্রেমিক পর্দায় বাবা, লোকচক্ষুর আড়ালে অজানা প্রেমকাহিনী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৩ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১৯ ১৪২৭,   ১৬ রবিউস সানি ১৪৪২

বাস্তবে প্রেমিক পর্দায় বাবা, লোকচক্ষুর আড়ালে অজানা প্রেমকাহিনী

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৬ ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৮ ২১ অক্টোবর ২০২০

নানা পটেকর এবং মনীষা কৈরালা

নানা পটেকর এবং মনীষা কৈরালা

বলিউডে রিয়েল লাইফ রোম্যান্সে এক সময় তুফান তুলেছিল নানা পটেকর আর মনীষা কৈরালার প্রেমকাহিনী। মনগড়া বলিউডি কাহিনি না হলেও তাতে ছিল সব রকমের ফিল্মি মশলাই। প্রেম, বিরহ, আক্রোশ সবই বাসা বেঁধেছিল নানা-মনীষার রিয়েল লাইফে। তবে সে প্রেম টেকেনি। কেন ভেঙে গেল নানা-মনীষার সম্পর্ক? কী রকমই বা ছিল তাদের রসায়ন?

নানা পটেকরের সঙ্গে মনীষা কৈরালার প্রেমের শুরুটা হয়েছিল পার্থ ঘোষের ফিল্ম ‘অগ্নিসাক্ষী’র সেটে। ১৯৯৬ সালে সেই থ্রিলারের শুটিংয়ের মাঝেই নাকি নানা-মনীষার মধ্যে সারা হয়ে গিয়েছিল মন দেয়া নেয়া। তবে সেই সময় তখনকার গসিপ ম্যাগাজিনে তেমন একটা চর্চা হয়নি।

‘অগ্নিসাক্ষী’র তৈরির সময় নানা-মনীষার প্রেম চলছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। দু’জনের সিক্রেট ডেটিংয়ের খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়নি। এমনকি তা নিয়ে গুঞ্জনও ছড়ায়নি বলিউডি মহল্লায়।

নানা পটেকর এবং মনীষা কৈরালা

নানার সঙ্গে জুটি দানা বাঁধার আগে অবশ্য মনীষার জীবনে ছিলেন বিবেক মুশরান। সুভাষ ঘাইয়ের ওই ব্লকবাস্টার ফিল্ম রিলিজ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। বিবেক এবং মনীষা  দু’জনেরই প্রথম ফিল্ম। পর্দায় তো বটেই, তার বাইরেও প্রেম জমেছিল হিরো-হিরোইনের মনে।

বিবেকের সঙ্গে প্রেমের শুরুটা হলেও তা বেশিদিন টিকেনি মনীষার জীবনে। নানার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তা ভেঙে গিয়েছিল। সেই বিরহের মাঝেই মনীষার জীবনে এসেছিলেন নানা।

বলিউডি হিরোর চকোলেট লুকস কখনই ছিল না। তবে স্ক্রিন প্রেজেন্সে যেকোনও বলিউডি হিরোকে এক কথায় মাত দিতে পারতেন নানা পটেকর। তার ক্যারিশ্মায় মোহিত হয়েছিলেন মনীষাও। ফলে বিবেকের সঙ্গে সদ্য ভাঙা সম্পর্কের ব্যথা ভুলতে সময় লাগেনি তার। সেই শুরু। এর পরের কয়েক বছরে জোরদার প্রেম জমেছিল নানা-মনীষার।

গোড়ার দিকে নানা-মনীষার প্রেম নিয়ে গুঞ্জন না হলেও তা খুল্লমখুল্লা হতে শুরু করে সঞ্জয়লীলা বানসালীর ফিল্ম ‘খামোশি’ তৈরির সময় থেকে। সালটা ১৯৯৬। ‘খামোশি’-তে মনীষার বিপরীতে সালমান খান। হিরোইনের বাবার চরিত্রে নানা পটেকর। তবে পর্দায় বাইরে গাঢ় হয়েছিল নানা-মনীষার সম্পর্ক। সে সময়ই ফিল্মি ম্যাগাজিনের পাতায় উঠে আসে তাদের কাহিনী। 

বানসালীর ফিল্মের শুটিংয়ের সময় নানা-মনীষার প্রেমের গুঞ্জনে হাওয়া লেগেছিল। মনীষার প্রতিবেশীরাও জানিয়েছিলেন, হিরোইনের সঙ্গে বেশ সময় কাটাচ্ছেন নানা। হিরোইনের বাড়িতেও নাকি প্রায়শই দেখা যেত তাকে। যা শুনে একটি সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন, মনীষাও আমার মা এবং ছেলের সঙ্গে সময় কাটায়। মনীষাকে বেশ পছন্দও করে ওরা।

নানা পটেকর আর মনীষা কৈরালা

নানা-মনীষার প্রেমের খবরেই যে ফিল্মি ম্যাগাজিন ভরে উঠেছিল, তেমনটাই শুধু নয়। তাদের ঝগড়াঝাঁটির খুঁটিনাটিও জায়গা করে নিয়েছিল সেখানে। মনীষাকে নাকি হাজারও বিধিনিষেধের ঘেরাটোপ বেঁধে ফেলেছিলেন নানা। স্বল্পবাস নয়। ফিল্মের পর্দায় হিরোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া চলবে না। তা সত্ত্বেও নানা-মনীষার সম্পর্কে চিড় ধরেনি সে সময়।

সম্পর্কে এক সময় চিড় ধরেছিল বটে। শোনা যায়, মনীষার সম্পর্কে সিরিয়াস হলেও তাকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না নানা। মনীষাও নাকি সে সময় জানতেন না, তাদের সম্পর্ক কোন দিকে এগোচ্ছে! এই দোলাচলের সময়ই আয়েশা জুলকার সঙ্গে নানাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মনীষা। তা নিয়ে জলঘোলাও কম হয়নি। শোনা যায়, প্রকাশ্যেই নাকি আয়েশাকে রীতিমতো কটূক্তি করেন মনীষা। নানার সঙ্গে সম্পর্কে সেখানেই ইতি ঘটে মনীষার। এরপর ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়েও আসেন তিনি।

সম্পর্ক ভেঙে গেলেও নানা-মনীষার মধ্যে তার রেশ থেকে গিয়েছিল দীর্ঘদিন। তবে এরই মাঝে আলাদা পথে চলা শুরু করেন দু’জনে। একদিকে, ডেটিং করতে শুরু করেন মনীষা। অন্যদিকে, আয়েশা জুলকার সঙ্গে লিভ-ইন করতে থাকেন নানা।

মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও তার প্রতি অনুভূতি বোধহয় কমেনি নানার। একটি সাক্ষাৎকারে মনীষাকে নিয়ে নানা বলেছিলেন, এখানকার সময়ের সবচেয়ে সেনসিটিভ অভিনেত্রী মনীষা। ওকে কারো সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে না। ওর সব রয়েছে এবং সেটাই যথেষ্ট।

মনীষার সঙ্গে ব্রেক আপ নিয়েও নিজের অনুভূতি মেলে ধরেছিলেন নানা। তিনি বলেছিলেন, ব্রেক আপের সময়টা খুবই কঠিন ছিল। সে ব্যথা বুঝতে হলে ওই ধরনের অভিজ্ঞতা হতে হবে আপনার। কী যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম, তা বলে বোঝাতে পারব না। দয়া করে এ নিয়ে কথা বলবেন না। আমি মনীষাকে মিস করি!

ব্রেক আপ নিয়ে নানার মতো এতটা স্পষ্টভাবে অবশ্য মুখ খোলেননি মনীষা। তবে একাধিক ডেটিংয়ের পর ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করলেও টিকেছিল মাত্র বছর দুয়েক। এর পর ডিভোর্স।

নানা-মনীষার সম্পর্ক আর জোড়া লাগেনি। ক্যানসার জয়ের পর মনীষা মন দিয়েছেন অভিনয়ে। আয়েশাকে ছেড়ে নানা ফিরে গিয়েছেন তার স্ত্রী নীলকান্তির কাছে। তবে দু’জনের রাস্তা আলাদা হয়ে গেলেও নানা-মনীষার প্রেমের কাহিনী এখনো ভেসে ওঠে বহু অনুরাগীর মনে!

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস