শূন্য থেকে জনপ্রিয় শামস আফরোজ, জানালেন সফলতার গল্প

ঢাকা, বুধবার   ২৫ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রহায়ণ ১১ ১৪২৭,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

শূন্য থেকে জনপ্রিয় শামস আফরোজ, জানালেন সফলতার গল্প

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৪৫ ১৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৮ ১৯ আগস্ট ২০২০

শামস আফরোজ চৌধুরী- ছবি: সংগৃহীত।

শামস আফরোজ চৌধুরী- ছবি: সংগৃহীত।

পরিচিতি ছিল শূন্যের কোটায়। সমাজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিলেন একেবারেই অপরিচিত মুখ। কিন্তু সেই শূন্য থেকে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন শামস আফরোজ চৌধুরী। নিজের তৈরি মজাদার ভিডিও কনটেন্ট পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর তার কনটেন্টে হয়েছে  লাখ লাখ ভিউ, হাজার হাজার শেয়ার। শামস আফরোজ চৌধুরী এখন 'থটস অব শামস' নামেই বেশি পরিচিত।

নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি নিজের এতদূর উঠে আসার গল্প শেয়ার করেছেন। শামসের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

‘জীবনে যখন আমি দুঃখের সাগরে ডুবে ছিলাম, নানান সমস্যা আর না পাওয়ার ব্যথায় যখন আমি জর্জরিত হয়ে ছিলাম ও প্রতিটা ক্ষেত্রে বারবার রিজেক্ট হয়ে নিজেকে তুচ্ছ মনে করছিলাম, ঠিক তখনই আমি 'Thoughts of Shams' নামের এই পেইজটা খুলি।

প্রথমে শুধু লিখতাম, মনের সব কথা লিখতাম, ভালো লাগতো। পরে আমার লিখার বিষয়গুলো নিয়ে ভিডিও বানানো শুরু করলাম ২০১৮ তে। বাহ্ দারুণ লাগতে শুরু করলো আমার নিজের ভিডিও দেখে, নিজেই হাসতাম আর কিছু সময়ের জন্য ভুলেই যেতাম যে আমার কোনো দুঃখ আছে। অবাক হই ভেবে আমার সমস্যা সমাধান করতে কখনোই কেউ এগিয়ে আসে নি, কেউ কিন্তু কোনোদিন কোনো খোঁজ নেয়নি যে আমার কষ্টটা কোথায়? কারণ আমি কে? আমি তো আর এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ কেউ না!

আরো পড়ুন>> পায়ে চিড় হয়েছে শাওনের, রয়েছেন বিশ্রামে

অথচ আমার ভিডিও নিয়ে আর আমাকে নিয়ে, আমার পরিচিত মানুষগুলোর মধ্যে একটা নাড়া পড়ে যায়। হায়রে সমালোচনা রে! গেসে গেসে শেষ! এই মেয়ে নিচে নামায়া দিচ্ছে সবার মান সন্মান! আরে দেখে যান এই মেয়ে পড়ালেখা শিখে কি সব বলে! এসব বলে বলে আমার জানের চেয়েও প্রিয় নানুকে পর্যন্ত আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়!

আর সো কল্ড ফ্রেন্ডসরা তো হেসেই খুন! আল্লাহ শামস এর এই অবস্থা! ভিডিও বানায়! রাবা হইতে আসছে। ছিঃ!

ওই মুহূর্তে মা ছিলেন পাশে, আর হাসবেন্ড বলল, উচিৎ কথা বলছো তো তাই তোমার পরিচিতদের গায়ে লাগছে! আর ফলোয়ার্সদের কথা কি বলবো! তাদের কাউকেই আমি চিনি না অথচ আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছে। আমার হাসবেন্ড কেও কিন্তু শুনতে হয়েছিল, তোমার ওয়াইফ এগুলা কি করে! বন্ধ করাও এসব ভিডিও!

একবার আমিও ভাবলাম যে হ্যা কি করছি? নাহ মন দিয়ে পড়ি, সরকারি চাকরি বা ব্যাংকের চাকরি পেতেই হবে। বার বার ফাইনাল ভাইভা পর্যন্ত যেয়ে যেয়ে আবার সেই রিজেক্ট হওয়ার কাহিনী শুরু হলো। ভিডিও বানানো বন্ধ। এদিকে মানসিকভাবে আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাওয়া আমি।

আরো পড়ুন>>নিষিদ্ধ পল্লীর বাসিন্দা অপু বিশ্বাস!

একদিন ঠিক করলাম আমি আর ব্যাংকের জন্য চেষ্টা করবো না! ঢুকলাম এক স্কুলে৷ সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আর বেতন ১৫ হাজার টাকা। যা বুঝলাম আর দেখলাম যে টিচারের চেয়ে আমাদের বাসার খালা, যিনি আমার মাকে কাজে সাহায্য করেন, তার মাসিক ইনকাম আর সন্মান আমার চেয়েও বেশি। কিন্তু চাকরিটা তাও করে যাচ্ছিলাম, আর পাশাপাশি টুকটাক ভিডিও।

২০২০ সালে করোনা এসে হাজির। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা। ঘরে বসেই স্কুলের কাজ করছি কিন্তু বেতনের খবর নাই। মেজাজ খারাপ হলো ব্যাটা তুই বেতন দিতে পারতেসিস না আবার একটার পর একটা কাজ চাপায়া দিতেসিস! মা বলল, ছাড় এই ঘোরার ডিমের চাকরি। আল্লাহ ভরসা ভালো কিছুই হবে। আমার জামাই বলে এই ফালতু চাকরি ছেড়ে দাও, তুমি কি না খেয়ে মরবা?

আসলে আমি তো নিজে কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। আমার পরিচিতরা ও তাদের ছেলে মেয়েরা ৪০, ৫০, ৬০, ৭০ হাজার টাকার চাকরি করে। আমারও তো কিছু একটা করতে হবে!

আরো পড়ুন>>‘বিশেষ অনুমতি’তে সৃজিতের কাছে মিথিলা

নাহ্, পরে আম্মুর কথাটাই শুনলাম। চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। একটা কথা বলে রাখি, আমি চাকরি ছাড়ার পরও তিন মাস সেই স্কুলের টিচাররা কোন বেতন পায়নি কিন্তু সেই লোক কোরবানিতে আবার এক লাখ টাকার গরু কিনে ছবি পোস্ট করে দামসহ। এটা কেমন ধর্ম পালন করা হলো সেটা আমার বুঝে আসলো না। তার প্রতিষ্ঠানের মানুষ না খেয়ে মরে আর সে গরু নিয়ে বাহাদুরি করছে।

আমার শেষ মাসের স্যালারিটা আজও সেই প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া হয়নি। কিন্তু আমার যেকোনো আফসোস নেই। চাকরি ছেড়ে একটার পর একটা ভিডিও বানাই আর প্রত্যেকটা ভিডিও সেই লেভেলের ভাইরাল হয়। ইউটিউব আর ফেসবুক থেকে সমানে টাকা আসতে শুরু করলো। চারিদিক থেকে স্পনসরশিপের অফার। আমার জীবন যেন এক পলকে পাল্টে গেল। আমি খুশিতে পাগল হতে যেয়েও পারছি না! যেই ভিডিওর কারণে আমাকে নিয়ে যারা এতো কথা বলেছে তারাই এখন আমার রেফারেন্স দেয়, শামস তো আমার ফ্রেন্ড, আমার আত্মীয়, আমার পরিচিত!

আরো পড়ুন>>পাঁচ মাসও টিকলো না পরীমনির বিয়ে!

আর হ্যাঁ একটা কথা, আজ আমি সেই ব্যাংকগুলোর ভাইভা বোর্ডে বসে থাকা লোকগুলোকে মন থেকে ধন্যবাদ দিতে চাই যারা আমাকে রিজেক্ট করেছিলেন। আপনারা আমাকে রিজেক্ট না করলে আমি হয়তো কখনোই এই জায়গায় আসতে পারতাম না!

ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা বলতে শামস গণমাধ্যমকে বলেন, যতদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকব ততদিন কনটেন্ট বানাবো। কখনো হয়তো ভালো হবে আবার খারাপ হতে পারে। তবে ভিডিও বানানো থামবে না ইনশাল্লাহ।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ