অভিনেত্রীদের বিয়ে সমাচার

ঢাকা, সোমবার   ১৪ জুন ২০২১,   আষাঢ় ১ ১৪২৮,   ০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

অভিনেত্রীদের বিয়ে সমাচার

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৯ ১৩ মে ২০১৯   আপডেট: ১৩:৩২ ১৩ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ছোট ও বড় পর্দা মিলে এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তারকার আবির্ভাব ঘটেছে। এদের অনেকেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছলেও ব্যক্তিজীবনে সংসার নিয়ে হোঁচট খাওয়ার সংখ্যাও কম নয়। আর এ কারণে ওই তারকাদের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে বারবার। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে এমন কিছু অভিনেত্রীদের বিয়ের খবর, যা হয়তো অনেকের অজানা। আবার অনেকে জানলেও পুরোপুরি জানেন না। 

চলুন জেনে নেয়া যাক তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত-

চিত্রনায়িকা ময়ূরী: বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম বিখ্যাত অভিনেত্রী ময়ূরী। অশ্লীল বা অর্ধনগ্ন পোশাকে অভিনয় করার জন্য তিনি বেশ সমালোচিত হয়েছেন। তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুনমুন। দুজনের বিরুদ্ধেই অশ্লীল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অভিযোগ রয়েছে। ময়ূরী প্রায় ৩০৯টি বাংলা চলচ্চিতে অভিনয় করেছেন।

২০০৭ সালের পর থেকে বাংলা চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি কমে যায়। কিছুদিন পর তিনি সার্কাস দলে যোগ দেন। তবে বর্তমানে চলচ্চিত্র, সার্কাস ইত্যাদি ছেড়ে ইসলাম প্রচার করেন। এখন তিনি ময়ূরী থেকে খাদিজা ইসলাম নাম ধারণ করেছেন। তবে তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন চিত্রনায়িকা ময়ূরী। স্বামী মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ, একজন মাদরাসা শিক্ষক। 

এদিকে ময়ূরীর প্রথম স্বামী রেজাউল করিম খান মিলন ছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি মারা যান ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। এরপর ময়ূরী দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করেন শ্রাবণ শাহ নামের এক চলচ্চিত্র অভিনেতাকে। কিন্তু সেই সংসারও টেকেনি। পরে এই নতুন সংসার শুরু করেছেন তিনি। এখন বেশ সুখেই আছেন এই অভিনেত্রী।

অপি করিম: পুরো নাম সৈয়দা তুহিন আরা অপি করিম। তবে তিনি অপি করিম নামেই মিডিয়ায় পরিচিত। বিশিষ্ট বাংলাদেশি মডেল এবং অভিনেত্রী অপি করিম প্রথম ১৯৯৯ সালে লাক্স ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় মিস ফটোজেনিক খেতাব অর্জন করেন।

তিনি বাংলা টেলিভিশন নাটকে এবং বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নাটক, টেলিফিল্ম, উপস্থাপনা, সিনেমা, মঞ্চ, বিজ্ঞাপন, নাচ আবার পড়াশোনা- সব ক্ষেত্রেই তার দ্যুতি ছড়ানো প্রতিভা। এছাড়া তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর আর্কিটেকচারের একজন অনুষদ সদস্য। 

এই অভিনেত্রীও ব্যক্তি জীবনে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন। তার বর্তমান স্বামী নির্মাতা এনামুল করিম নির্ঝর। এর আগে, ২০০৭ সালের ২৭ অক্টোবর সম্পূর্ণ পারিবারিক পছন্দে অপির বিয়ে হয়েছিল জাপান প্রবাসী অধ্যাপক ড. আসির আহমেদের সঙ্গে। ঠিক এক বছরের মধ্যে মাথায় অপির সেই সংসার ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের পর ২০১১ সালে ফের বিয়ে করেন নাট্যনির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জলকে।

রুমানা খান: মডেল ও অভিনেত্রী রুমানা খান। তিনি একজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেত্রীও বটে। কারণ ক্যারিয়ারে দুই-চারটি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এই শিল্পী ২০১০ সালে ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না ছবিতে তার ভূমিকার জন্য পার্শ্বচরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি মার্কিন নাগরিক ব্যবসায়ী এলিন রহমানের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এর আগে, রুমানার প্রথম বিয়ে হয় উপস্থাপক ও নির্মাতা আনজাম মাসুদের সঙ্গে। পরে সে বিয়ে ভেঙে গেলে দ্বিতীয় বিয়ে হয় ব্যবসায়ী সাজ্জাদের সঙ্গে।

সুবর্ণা মুস্তাফা: সুবর্ণা মুস্তাফা হলেন একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও প্রযোজক। তিনি প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার কন্যা এবং ক্যামেলিয়া মোস্তফার বোন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে আফজাল হোসেন এবং হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক দর্শক সমাদর লাভ করে। এছাড়া তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা কোথাও কেউ নেই ও আজ রোববার টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি ২২ বছর মঞ্চেও অভিনয় করেন।

সুবর্ণা ১৯৮৩ সালে নতুন বউ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হলো- ঘুড্ডি (১৯৮০), নয়নের আলো (১৯৮৪), পালাবি কোথায় (১৯৯৭) ও গহীন বালুচর (২০১৭)। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

এই অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৮৪ সালে অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। ২০০৮ সালে সুবর্ণা ডিভোর্স দেন হুমায়ুন ফরীদিকে এবং এর পরপরই বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে। সুর্বণা মুস্তাফার চেয়ে বয়সে ১৪ বছরের ছোট এই স্বামী।

শমী কায়সার: শমী কায়সার একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রী এবং প্রযোজক। তিনি নব্বই-এর দশকের একজন নামকরা অভিনেত্রী। তার বাবার নাম শহীদুল্লাহ কায়সার ও মাতার নাম পান্না কায়সার। তার মা একজন লেখিকা এবং সাবেক এমপি। শমীর একজন ছোট ভাই আছেন, অমিতাভ কায়সার। বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কি উএম বদরুদ্দুজা চৌধুরীর স্ত্রী মায়া পান্নার বোন। ফলে শমী এবং রাজনীতিবিদ মাহি বি. চৌধুরী খালাতো ভাই-বোন।

ব্যক্তিগত জীবনে শমী ১৯৯৯ সালে ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী অর্নব ব্যানার্জী রিঙ্গোকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন। তবে পরবর্তীতে রিঙ্গো তার নিজের ধর্মে ফিরে গেলে দুই বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মোহাম্মদ আরাফাতকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তার সঙ্গেই সংসার করে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

বিজরী বরকত উল্লাহ: বিজরী বরকতুল্লাহ একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী এবং মডেল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমনকে। তাদের ঘরে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি সে সংসার। ইমনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিজরী বিয়ে করেন অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে। বর্তমানে তার ঘরণী হয়ে সংসার করছেন তিনি।

সাদিয়া জাহান প্রভা: সাদিয়া জাহান প্রভা একজন বাংলাদেশি মডেল এবং অভিনেত্রী। মিডিয়ায় তার আগমন ঘটে মূলত মডেলিংয়ের মাধ্যমে। পরে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার পর তিনি কয়েকটি খণ্ড নাটকে অভিনয় করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির কারণে কিছু সময়ের জন্য তার অভিনয় কর্মজীবন বাধাপ্রাপ্ত হয়।

মডেল ও অভিনেত্রী প্রভার প্রথম বিয়ে হয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে। বিয়ের পর সাবেক প্রেমিক রাজিবের সঙ্গে তার স্ক্যান্ডাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রভাকে তালাক দেন অপূর্ব। পরে মাহমুদ শান্ত নামে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন প্রভা। সে সংসারও বেশীদিন টেকেনি। এখন দুজন আলাদা হয়ে একা থাকছেন প্রভা।

কবরী সারোয়ার: কবরী সারোয়ার হলেন একজন বাংলাদেশি অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিবিদ। তিনি বিংশ শতাব্দীর ষাট ও সত্তরের দশকের বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। এক সময়ের মিষ্টি নায়িকা কবরীর মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল প্রযোজক চিত্ত ঘোষের সঙ্গে। বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সে সংসার। ১৯৭৮ সালে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী শামীম ওসমানের চাচা বাবু সারোয়ারকে বিয়ে করেন নায়িকা। ৩০ বছর ঘর করার পর নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে দ্বন্দ্বে ২০০৮ সালে কবরীকে তালাক দেন বাবু সারোয়ার। এরপর থেকে একাই থাকছেন প্রবীণ এই অভিনেত্রী।

নওশীন নেহরিন মৌ: নওশীন নেহরিন মৌ। মিডিয়ায় তার প্রথম কাজ শুরু হয় আরজে হিসেবে। পরে তিনি টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। এক পর্যায়ে সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি টিভি নাটকেও নিয়মিত কাজ শুরু করেন। মিডিয়ায় কাজ করতে করতেই অভিনেতা হিল্লোলের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে তার। এরপর হিল্লোল তার স্ত্রী তিন্নিকে ছেড়ে নওশীনকে বিয়ে করেন। তবে এটি নওশীনের প্রথম বিয়ে ছিল না। মিডিয়ায় আসার আগেও তিনি বিয়ে করেন এক্স প্রেমিককে। কিন্তু সেই বিয়ে টেকেনি বেশি দিন। সেই ঘরের একটি সন্তানও রয়েছে নওশীনের। যার এখন দেখভাল করছেন হিল্লোল।

সুজানা জাফর: পুরো নাম সুমাইয়া জাফর সুজানা। মিডিয়ায় তাকে চেনে সুজানা নামে। তিনি একজন বাংলাদেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী। ২০০১ সালে মডেলিং এর মাধ্যমে মিডিয়ায় পদার্পণ করেন। ২০০৩ সালে লাক্স সুন্দরী হন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন।

মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা ২০০৬ সালে প্রথম বিয়ে করেন একটি বায়িং হাউজের কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদকে। চার মাসের মাথায় ভাঙে সেই সংসার। এরপর তিনি ২০১৫ সালে নিজের থেকে সাত বছরের ছোট গায়ক হৃদয় খানকে বিয়ে করেন। মাত্র চার মাস পরে ভাঙে সে সংসারও। এরপর থেকে বিয়ের ব্যাপার ঝেড়ে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী।

নাদিয়া হোসেন: বাংলাদেশের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাদিয়া হোসেন। টিভি পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। মূলত ছোট পর্দার খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকের অভিনয় নিয়ে রয়েছে তার ব্যস্ততা। 

তবে অভিনয়ে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনে সংসার নিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে দুবার। ২০০৮ সালে অভিনেত্রী নাদিয়া বিয়ে করেন অভিনেতা মনির খান শিমুলকে। পাঁচ বছর পর তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর ২০১৫ সালে হয় তাদের ডিভোর্স। পরে ২০১৬ সালে নাদিয়া বিয়ে করেন অভিনেতা নাঈমকে। বর্তমানে তার সঙ্গেই সংসার করছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই