চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টে গেলো হলের নাম!
15-august

ঢাকা, শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২,   ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টে গেলো হলের নাম!

চবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:৪১ ৩০ জুন ২০২২  

চারতলা উঁচু হলটির পুরোটা জুড়েই ‘বিজয়’ লেখা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চারতলা উঁচু হলটির পুরোটা জুড়েই ‘বিজয়’ লেখা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এই মামা, বিজয় হলে যাবেন? অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন রিকশাচালক। উল্টো জিঙ্গেস করলেন, বিজয় হল কোথায়? এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি)।

গত বছর ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলের নাম নিয়ে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসিক একটি হলের খাতা-কলমে নাম এএফ রহমান হল। তবে দূর থেকে যে কেউ দেখলে মনে করবে এটি ‘বিজয় হল’। শুনতে কেমন লাগলেও সেই হল দেখলে বোঝার উপায় নেই এটি যে এএফ রহমান হল। 

দেখা যায়, ৪ তলা উঁচু হলটির পুরোটা জুড়েই ‘বিজয়’ লেখা। শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতরেও একই চিত্র। দেয়ালজুড়ে বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয়ের চিকায় হলের চেহারাই যেন পাল্টে গেছে। অন্যান্য হলেও চিকা মারা দেখা যায় তবে এএফ রহমান হলের মতো অতো বেশি নয়।

বর্তমানে চবির আবাসিক হলগুলো দখলে রয়েছে বগিভিত্তিক গ্রুপগুলোর কাছে। যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে। অন্যথায় কোনো একটি গ্রুপের অনুসারী হিসেবে হলে উঠতে হয় শিক্ষার্থীদের। এছাড়া দীর্ঘদিন হলের আসন বরাদ্দ না হওয়ায় এমন হল দখলের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

ছাত্রদের আবাসিক হলগুলোর মধ্যে বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয়ের দখলে রয়েছে সর্বোচ্চ তিনটি হল এএফ রহমান, আলাওল এবং সোহরাওয়ার্দী হল, সিক্সটি নাইনের দখলে শাহজালাল হল, সিএফসির দখলে শাহ আমানত হল, এছাড়া শহিদ আব্দুর রব হলে রয়েছে বাংলার মুখ, ভিএক্স ও কনকর্ডসহ কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীরা। সূর্যসেন হলে রয়েছে এপিটাফ গ্রুপের অনুসারীরা। বছরের বিভিন্ন সময় বগি ভিত্তিক গ্রুপগুলো ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় চিকা মেরে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ বলেন, ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্য অনেকগুলো হল আছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। আরও হল নির্মিত হচ্ছে। প্রায় সবগুলো হলই সুন্দর। দেখার মতো। তবে হলে ছাত্রলীগ ছাড়াও অন্যান্য সংগঠনে অপরিকল্পিত চিকা সৌন্দর্য হ্রাস করেছে। শুধু হলই নয় এমনকি অনুষদগুলোতেও এগুলো দেখা যায়। সুন্দর করে কিছু লেখা বা গ্রাফিতি দেখতে ভালো লাগবে যা চবিতে অনেকাংশে অনুপস্থিত। 

আরেক শিক্ষার্থী শুভ্র দেব বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে প্রথমে এই হল দেখে অবাক হয়েছি। সবাই বলছিল এটি বিজয় হল। অবশ্য কাছে গিয়ে আসল নাম দেখতে পাই। এভাবে পুরো হলে নাম লিখে রাখা কেমন অদ্ভুত দেখায়। চিকা বিহীন হলগুলো সুন্দর লাগবে বেশি। 

বিজয় গ্রুপের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক নজরুল ইসলাম সবুজ বলেন, শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক রাজনীতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আগে থেকে চর্চা হয়ে আসছে। আমরা বগিভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে নয়, তবুও হলগুলোর দেয়ালে কর্মীরা হয়তো তাদের আবেগ থেকে চিকা মারে। সেটা শুধু আমাদের গ্রুপ না প্রত্যেক গ্রুপের কর্মীরা এটা করে থাকে। যদি এফ রহমান হলের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকে সেক্ষেত্রে বিষয়টা আমরা গুরুত্বের সাথে দেখবো। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের কথা বলে। আমরা সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষে।

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, বিষয়টা আমাদের চোখে পড়ার  পর আমরা প্রশাসনকে বলেছিলাম বগি ভিত্তিক সংগঠনগুলোর চিকা মুছে দেয়ার জন্য। কিন্তু প্রশাসন এতদিনেও কেন এ বিষয়ে নীরব, এটা আমারও প্রশ্ন। যেহেতু বগি ভিত্তিক সংগঠন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নিষিদ্ধ, তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করতে পারি না আমরা।

এএফ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কাজী এসএম খসরুল আলম কুদ্দুসী বলেন, বছরখানেক আগে আমরা যখন পুরো হলটি পরিষ্কার করলাম। এর পরদিনই হলের দেয়ালে চিকাগুলো মারা হয়েছে। এটা আমার কাছেও ভালো লাগেনি। যেহেতু এখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর চিকা মারা হয়েছে। তাই তাদের নেতাদেরও বিষয়টি দেখা উচিৎ। এছাড়া আমি একা চাইলে তো হবে না, প্রশাসনেরও সহযোগিতা প্রয়োজন চিকা অপসারণ করতে হলে। সর্বোপরি হলের সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »