বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের ক্যান্টিনে লাগামহীন খাবারের দাম
15-august

ঢাকা, শুক্রবার   ১২ আগস্ট ২০২২,   ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯,   ১৩ মুহররম ১৪৪৪

Beximco LPG Gas
15-august

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের ক্যান্টিনে লাগামহীন খাবারের দাম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪০ ২১ জুন ২০২২  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সম্প্রতি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিনে খাবারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। খাবারের মান কমে যাওয়ায় পুষ্টিহীনতায় ভোগার কথাও জানান অনেকে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মহামারির পর উপাচার্য ও প্রক্টর বার বার হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান ও দাম পরিদর্শন করলেও কোনো উন্নতি দেখা যায়নি হলের খাবারে। বরং করোনার আগের অবস্থার চেয়ে নিম্নমুখী হয়েছে ক্যান্টিনগুলোর খাবারের মান। যে মাছ শেরে বাংলা হলে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটা বঙ্গবন্ধু হলে ৬০ টাকা। শুধু যে দাম বেড়েছে, তা-ই নয় একইসঙ্গে খাবারের মানও কমে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন বঙ্গবন্ধু হল ঘুরে দেখা যায় আগে মুরগির মাংস ৩৬ টাকায় পাওয়া যেত যার দাম এখন ৪০-৪৫ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন রকমের মাছ গড়ে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ টাকা দাম ধরা হতো যেগুলো এখন ৫০-৬০ টাকা। মাছ-মাংস ছাড়াও সব ধরনের খাবারেই তুলনামূলক দাম বেশি রাখতে দেখা গেছে। শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, প্রশ্ন উঠেছে খাবারের মান নিয়েও। ৩৬ টাকার প্যাকেজ থাকলেও সেটা পর্যাপ্ত নেই। যেটা ৫০ জন শিক্ষার্থীর বেশি খেতে পারবে না। যেখানে একটা হলে শিক্ষার্থী থাকে ৫০০ জন।

মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ শিবলী সাদিক বলেন, এ পর্যন্ত ৩দিন ক্ষুধা পেটে এসে ঘুরে গেছি, দাম দেখেই পেট ভরে গেছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আওলাদ হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হলের ক্যান্টিন ইজারাদাররা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির নামকে উদ্দেশ্য করে স্টুডেন্টদের কাছ থেকে যে পণ্যের দাম অতিরিক্ত মূল্যে নিচ্ছে এর মাধ্যমে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের টিকে থাকা একেবারেই অসম্ভব। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও উপাচার্যের মাধ্যমে ৩৬ টাকার প্যাকেজ নির্ধারিত করা হলেও সেটি তারা বাদ দিয়ে দিছে। কর্তৃপক্ষের বা কোনো নোটিশ ছাড়াই তারা এখন প্রত্যেকটি পণ্যের দাম রাখছে ৫৫ টাকা, ৬০ টাকা। যেটা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এইভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে একটা সময় দেখা যাবে, গুটি কয়েক শিক্ষার্থী ছাড়া অন্যদের না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। হলের প্রভোস্টদের দায়িত্ব এসব বিষয়ে তদারকি করা, কিন্তু তারা কর্ণপাতই করছে না। এখন আমরা পূর্বের দাম ফিরে পেতে চাই।

বঙ্গবন্ধু হলের ডাইনিং পরচালক সাকিব বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা খাবারের দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছি৷ তাছাড়া স্যারদের নির্দেশে ৩৬ টাকা প্যাকেজের ৫০টি (৫০ জনের) খাবার সরবরাহ করি।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মো. আরিফ হোসেন বলেন, এটা সঠিক নয়। দুইটা প্যাকেজ আছে একটা কম দামের, আরেকটা বেশি দামের। যারা বাড়তি খেতে চাই, তারা বাড়তি টাকা দিয়ে খাবে। দাম কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো ক্যান্টিন চালাই না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »