র‍্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করায় পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে মারধর

ঢাকা, বুধবার   ০৬ জুলাই ২০২২,   ২১ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

র‍্যাগিংয়ের প্রতিবাদ করায় পাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে মারধর

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৯ ২৩ মে ২০২২   আপডেট: ১৮:৫০ ২৩ মে ২০২২

আহত শিক্ষার্থী নুরুল আমিন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

আহত শিক্ষার্থী নুরুল আমিন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। আহত নুরুল আমিন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

রোববার (২২ মে) রাত প্রায় ১২টার দিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, শুক্রবার (২০ মে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের গণরুমে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যান নুরুল আমিন। সেখানে দেখতে পান ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১৩তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ দিচ্ছে। এ সময় নুরুল আমিন রুমে ঢুকতে বিরক্তিবোধ করায় ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ১১তম ব্যাচের সিনিয়রদের জানায়। ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নুরুল আমিনের প্রতি গণরুমে র‍্যাগিংয়ের প্রতিবাদ এবং ভিডিও করার অভিযোগ এনে রাতে হলের ছাদে তাকে মারধর করে। 

আহত শিক্ষার্থী নুরুল আমিন ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, শনিবার (২১ মে) রাত দশটার দিকে টিউশনি থেকে হলে ফেরার পর জানতে পারি কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে মারার জন্য ঘুরছে। এই ঘটনা শোনার পরপরই ৩১৩ নাম্বার রুমে এক বড় ভাইকে জানাতে যায়। ৩১৩ নাম্বার রুমে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক পোদ্দার, আইসিই বিভাগের শাহ আলম, রুবেল, মিলন, মঞ্জুরুল, ইইই বিভাগের সীমান্তসহ ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী ৩১৩ নাম্বার রুম থেকে ৪ তলার রিডিং রুমের ছাদের উপরে নিয়ে যায়। তারপর সেখানে আমাকে মারধর করা হয়।

নুরুল আমিন আরো জানান, শুক্রবার (২০ মে) গণরুমে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে চলে আসি। কোনো কথা কিংবা ভিডিও করিনি। আমাকে মারধর করার পেছনে র‍্যাগিং একটা ক্লু। এর পেছনে আরো বড় কোনো ইস্যু আছে।

মারধরের ঘটনা শোনার পরপরই রাত ১টায় পাবনা সদর হাসপাতালে নুরুল আমিনকে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হাসিবুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা দফতরের পরিচালক ড. সমীরণ কুমার সাহা। এরপর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড, হাফিজা খাতুন এবং বিকেলে উপ-উপাচার্য ড. এস এম মোস্তফা কামাল খান দেখতে যান।

এই বিষয়ে জানতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম মোস্তফা কামাল খান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা চাই না সামনে এমন কোনো ঘটনা ঘটুক। এরইমধ্যে প্রভোস্টকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি ভিক্টিম এটার সুষ্ঠু বিচার পাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »