রাঁধুনী পদে নিয়োগ পেলেন দারোয়ান-পিয়ন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২,   ২১ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হল

রাঁধুনী পদে নিয়োগ পেলেন দারোয়ান-পিয়ন

আহসান জোবায়ের, জবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৮ ১৮ মে ২০২২   আপডেট: ১৯:২৮ ১৮ মে ২০২২

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একমাত্র ছাত্রীহলের রাঁধুনী পদে নিয়োগ পেয়েছেন দারোয়ান ও পিয়ন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই এই ৪ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দারোয়ান ও পিয়ন পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন মনির হোসেন ও কাজী মহিন উল্লাহ। দুটি পদই ২০তম গ্রেডের। কিন্তু দুজনকে নিয়োগ দেয়া হয় ১৮তম গ্রেডের সিনিয়র কুক (রাঁধুনী) পদে।

একইভাবে দারোয়ন মোহাম্মদ জিহান ও পিয়ন জামাল হোসেন স্ব-পদে আবেদন করে নিয়োগ পান ১৯তম গ্রেডের সহকারী কুক (সহকারী রাঁধুনী) পদে। এদিকে এই নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৪তম সিন্ডিকেট সভায় চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারীদের একটি তালিকা করা হয়। তালিকা প্রকাশের ৪ দিন পর ৮ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞপ্তিতে ১৬তম গ্রেডের সহকারী মেকানিক পদে ১ জন, ১৮তম গ্রেডের ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে ১ জন, ১৮তম গ্রেডের লিফট অপারেটর পদে ৪ জন, ১৯তম গ্রেডের মেকানিক হেল্পার পদে ১ জন ও ২০তম গ্রেডের অফিস সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও সমমানের পদে ১৯ জন চাওয়া হয়।

এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ না থাকার পরও ১৮তম গ্রেডের কুক (রাঁধুনী), ১৯তম গ্রেডের সহকারী কুক (সহকারী রাঁধুনী) পদে ৪ জন এবং বাস হেল্পার ও কমনরুর্ম গার্ল হিসেবে আরও ২জন সহ ৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে গ্রেড পরিবর্তন করে ও বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দফতর থেকে বেতন বাবদ বাড়তি অর্থ খরচের ব্যাখ্যা চেয়ে উপাচার্যের নিকট নোট পাঠানো হলে এই ৬ জনের বেতন ভাতা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮৪ তম সিন্ডিকেটের সিরিয়াল ক্রমও ব্যতয় হয়েছে। কুক (রাঁধুনী) পদে নিয়োগ পাওয়া কাজী মহিন উল্লাহের পিয়ন সিরিয়াল ক্রম ৩৬, কমনরুল গার্ল হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রাবেয়া বেগমের পিয়ন ক্রম ৪৩। কুক (রাঁধুনী) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া জামাল হোসেন ছিলেন সঙ্গীত বিভাগের পিয়ন কর্মচারী; তার ক্রম ৬১। দারোয়ান মোহাম্মদ জিহানের দারোয়ান ক্রমে ৭, বাজারকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. ইছহাক শেখ দারোয়ান ক্রম ৮ ও সহকারী কুক (সহকারী রাঁধুনী) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. মনির হোসেনের দারোয়ান পদে ক্রমিক ছিলো ৯। স্ব-স্ব পদে তালিকার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অন্য পদ থেকে পছন্দের ভিত্তিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ কর্মচারিদের। বর্তমান চাকুরি চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক হাজিরাভিত্তিক হওয়ায় চাকুরি হারানোর ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন তারা।

এভাবে চাকুরি পাওয়া একাধিক কর্মচারির সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর রেজিস্ট্রার স্যার আমাদের ডেকে নিয়ে আবেদন করতে বলেন। আমরা আমাদের স্বপদেই আবেদন করি। এখন আমাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রেড ও পদ কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে সেটা জানি না। প্রশাসন আমাদের যেভাবে নিয়োগ দিয়েছে আমরা সেটাই পেয়েছি। এখানে আমাদের তো কোনো দোষ নেই। আমাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই গ্যাড়াকলে পড়ে যদি আমাদের বর্তমান চাকুরিটাও চলে যায়, আমরা তো না খেয়ে মরবো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের কাজী মনির বলেন, কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটা সিন্ডিকেট আছে যারা নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্য করে আসছে। তারা টাকার বিনিমিয়ে সুইপারকে পিয়ন বানায় আবার সুবিধামত পিয়নকে সুইপার বানায়। এবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও তদন্ত কমিটির সদস্য আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান বলেন, নিয়োগে অসচ্ছতা তদন্তে একটা কমিটি হয়েছে। আগামী রোববার আমরা সভা ডেকেছি। যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আমরা সবকিছু যাচাই করবো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, মানবিক কারণে কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি হয়েছে, ওনারা একটা রিপোর্ট দেবেন। এবিষয়ে উপাচার্য মহোদয়কে আমাদের দিক থেকে একটা অবজার্ভেশন দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে

English HighlightsREAD MORE »