বিজু উৎসবে মেতেছে মাভাবিপ্রবির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২,   ১৮ আষাঢ় ১৪২৯,   ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বিজু উৎসবে মেতেছে মাভাবিপ্রবির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীরা

শুভ দে, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৪ ১২ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১৪:৪৪ ১২ এপ্রিল ২০২২

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব ‘বিজু’। বিজুর প্রথম দিন উদযাপন করা হয় ‘ফুল বিজু’ উৎসব। তাই এই উৎসবে নিজেদের রাঙাতে বিজুর প্রথমদিন ‘ফুল বিজু’ উৎসবে মেতেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) ভোরে এই উৎসবকে ঘিরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীরা গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে আনেন। এরপর মেয়েরা ঐতিহ্যের পোশাক লাল-কালো রঙের পিনোন আর ছেলেরা পরেন ধুতি-ফতুয়া/পাঞ্জাবি।

জানা যায়, বিজুর আগের দিন উদযাপন করা হয় ফুল বিজু। আর পহেলা বৈশাখ হিসেবে বিজুকে ‘গোজ্যেপোজ্যে’ দিন হিসেবেও পরিচতি। আজকের দিন তারা কেউ কোনো কাজ করেন না, সারাদিন ঘুরে বেড়িয়ে দিনটি পার করেন।

ফুল হাতে মাভাবিপ্রবির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ভাগ্য জীবন চাকমা বলেন, বাংলা বছরের শেষ দুইদিন ও নববর্ষের প্রথমদিন বিজু পালন করা হয়। চাকমা সম্প্রদায়ে বিজু আদিকাল থেকেই চলে আসছে। বিজু মানে আনন্দ, হইহুল্লোড়, বিজু মানে দল বেধে ঘুরে বেড়ানো। বিজু মানে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা, সর্বোপরি বিজু মানে হলো মিলনমেলা। 

তিনি আরো বলেন, নদীতে ফুল ভাসানোর পর আমরা ঘর সাজিয়ে থাকি হরেক রকম ফুল দিয়ে। তারপরই গ্রামের বৃদ্ধদের স্নান করিয়ে দিই। এতে আমাদের বন্ধন দৃঢ় হয় এবং অশেষ পূণ্য সঞ্চিত।

বিজু উৎসব সম্পর্কে রাবিনা চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উৎসব পালন করে। তবে বিজু উৎসব সবাই একই সময় পালন করে। বিজু প্রতিটি সম্প্রদায়ের কাছে আলাদা নামে পরিচিত। আমরা বলি বিজু, মারমারা বলে সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বলে বৈসুক। শহরাঞ্চলে যা ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত। ত্রিপুরাদের বৈসুক থেকে ‘বৈ’, মারমাদের সাংগ্রাই থেকে ‘সা’, আর চাকমাদের বিজু থেকে ‘বি’, এককথায় ‘বৈ-সা-বি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে শহুরে জীবনে।

ফুল বিজুতে পানিতে ফুল ভাসিয়ে দিচ্ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

অংসিং বার্মা বলেন, ফুল বিজুর দিনে খুব ভোরে উঠে ফুল তুলে নিজেদের ঘরবাড়ি সাজাই। সারা বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে নব উদ্যমে বছর শুরু করার প্রত্যয় নিয়ে আমরা প্রার্থনা করি। এরপর শুরু হয় সাংগ্রাইয়ের ধুম। সাংগ্রাইয়ের আমেজ শুধু আমাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এ দিন আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহপালিত পশুপাখিদের খাবার দিয়ে থাকি, বিশেষ করে হাঁস-মুরগিকে ধান খেতে দিই। 

উল্লেখ্য, চৈত্র মাসের শেষ দিনকে চাকমা সম্প্রদায়ের আমরা বলি মূল বিজু। তার পূর্বে ফুল বিজু পালন করা হয়। মূলত সরকারি ছুটি না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো ক্যাম্পাসেই ফুল বিজু পালন করছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »