ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়া নিয়ে যা বললেন জাফর-ইয়াসমিন দম্পতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২,   ২১ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়া নিয়ে যা বললেন জাফর-ইয়াসমিন দম্পতি

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক দম্পতি

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক দম্পতি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হতে ইচ্ছুক নন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক দম্পতি। 

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদিন এ বিষয়টি জানান।

শাহরিয়ার আবেদিন জানান, বেশকিছু সংখ্যক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাবিতে অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের অবদানের কথা ভেবে তাকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে পাওয়ার জন্য চেয়েছিল। তবে এ বিষয়ে স্যারের কাছ থেকে আগে থেকে মতামত না নেওয়ায় শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রীকে এ বিষয়ে কোন দাবি জানানো হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে স্যারকে জানানো হলে তিনিসহ অধ্যাপক ইয়াসমিন হক ম্যাম সবার প্রতি সম্মান রেখেই শাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক হতে ইচ্ছুক নন বলে জানান।

এদিকে গতকাল রাত নয়টায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে ৫টি দাবি ও ৮টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। দাবিসমূহ হলো- দ্রুততম সময়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে তার পদ থেকে অপসারণ করে একজন গবেষণা মনা, শিক্ষাবিদ ও অবিতর্কিত ব্যক্তিকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা, শাবিপ্রবিতে সকল প্রশাসনিক পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদান, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের সকল অনলাইন লেনদেনের একাউন্ট অবিলম্বে খুলে দিতে হবে, পুলিশি হামলার শিকার শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডুকে এককালীন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণসহ তার যোগ্যতা অনুযায়ী অন্তত ৯ম গ্রেডের স্থায়ী সরকারি চাকরি দিতে হবে।

প্রস্তাবনাসমূহ হলো- দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভ্যন্তরীণ বার্ষিক বাজেটের কমপক্ষে ৩০% গবেষণা খাতে বরাদ্দ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা পিএইচডি ডিগ্রিতে উন্নীত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে সে বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডেমো ক্লাস নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ন্যূনতম এভালুয়েশন মার্ক অর্জন করলেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। নিয়োগকৃত শিক্ষকদের কাজে যোগ দেওয়ার আগে একটা আবশ্যিক ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গোপনীয় কোড ব্যবস্থা চালু করতে হবে যেন শিক্ষার্থীদের কারো পরিচয় জেনে শিক্ষকরা বৈষম্যমূলক মূল্যায়ন করতে না পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পুলিশের জন্য সকল স্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করা। সকল আবাসিক হলগুলোকে বছরের ৩৬৫ দিনই সকল সুযোগ-সুবিধাসহ খোলা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে এবং এসকল কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে উন্মুক্ত স্থাপত্য প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি বেগম সিরাজুন্নেসা হল প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে উদ্ভুত আন্দোলন পরবর্তীতে ভিসি পদত্যাগের আন্দোলনে পরিণত হয়। গত ১৬ জানুয়ারি ভিসি নিজ কার্যালয় থেকে বাসভবনে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ক্যাম্পাসে পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম সহ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ভিসিকে মুক্ত করে নিয়ে যায়। ঐদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ভিসি পদত্যাগের আন্দোলনে নামে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »