রাবিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে হিমেলকে স্মরণ

ঢাকা, বুধবার   ০৫ অক্টোবর ২০২২,   ২০ আশ্বিন ১৪২৯,   ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

Beximco LPG Gas

রাবিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে হিমেলকে স্মরণ

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৪৭ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় হিমেল নিহত হওয়ার স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন

বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় হিমেল নিহত হওয়ার স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত মাহমুদ হাবিব হিমেলের স্মৃতির স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় হিমেল নিহত হওয়ার স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। প্রজ্জ্বলন শেষে হিমেলের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এরপরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘হিমেল নিহত হওয়ার ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকান্ড। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের সব দাবি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত আমরা একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবিগুলোর লিখিত বাস্তবায়ন চাই।’

আরো পড়ুন>>> হিমেলের বাবা-দাদির মৃত্যুও সড়ক দুর্ঘটনায়, স্মৃতি হারিয়ে বেঁচে রইলেন মা

বক্তারা আরও বলেন, ‘একটা প্রাণের বিনিময় ৫ লাখ টাকা হতে পারেনা। হিমেলের মায়ের চিকিৎসার জন্য যত টাকা লাগবে, যেখানে চিকিৎসা করা লাগবে এর পুরোটার দেখভাল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে করতে হবে। পাশাপাশি আহত রিমেলেরও সব ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।’

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে ট্রাকচাপায় মারা যান কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেল। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। পাঁচ ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই রাতেই শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পরের দিন প্রক্টরকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন প্রক্টর নিয়োগ করা হয়।

আরো পড়ুন>>> পাঁচ লাখ টাকা পেল পরিবার, হিমেলের মা পাবেন আজীবন চিকিৎসা ভাতা

এরপর বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাড়ে ৯টায় হিমেলের মরদেহ চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এরপর পুরো চারুকলা প্রাঙ্গণে নেমে আসে শোকের ছায়া। শিক্ষক এবং বন্ধুবান্ধব কান্নায় ভেঙে পড়েন। হিমেলের মরদেহের কফিনে পুষ্প দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে বেলা ১১টায় প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মামা বাড়ি নাটোরে দ্বিতীয় জানাযা শেষে দাফন করা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হিমেলের পরিবারকে ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করে। এছাড়াও তার মায়ের চিকিৎসা খরচ এবং মাসিক ৩৫ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দেয়। পরে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাশ বাংলাদেশ মাঠে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা হিমেলের পক্ষে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। ভিসি সব দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে হিমেলের নামে নির্মাণাধীন ২০ তলা ভবনের নামকরণ এবং নিহত হওয়ার রাস্তার নাম তার নামে করার ঘোষণা দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »