গণরুম ব্যবস্থা জাদুঘরে পাঠাবে এমন দক্ষ নেতৃত্ব চায় ঢাবি ছাত্রলীগ 

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

গণরুম ব্যবস্থা জাদুঘরে পাঠাবে এমন দক্ষ নেতৃত্ব চায় ঢাবি ছাত্রলীগ 

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২৮ ২৯ জানুয়ারি ২০২২  

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত বার্ষিক `হল সম্মেলন` নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় এই শীর্ষ দুই নেতা

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত বার্ষিক `হল সম্মেলন` নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় এই শীর্ষ দুই নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের অধিকার আদায়ে কাজ করবে, ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন ও গণরুম ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে জাদুঘরে পাঠাবে এমন কর্মী বান্ধব নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন। 

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল শাখা ছাত্রলীগের সমন্বিত বার্ষিক 'হল সম্মেলন' নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় এই শীর্ষ দুই নেতা। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনক জাহান রাইন। 

আরো পড়ুন: গেস্টরুমে ডেকে নির্যাতন, জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ঢাবি শিক্ষার্থী

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্মেলন আয়োজনের জন্য শুরু থেকেই আমাদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও বৈশ্বিক মহামারি ও নানাবিধ বাস্তবতায় সম্মেলন আয়োজনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বটে। সমন্বিত হল সম্মেলনের আয়োজনকে সফল করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ইতিমধ্যে ১৮টি হলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নেতা কর্মীদের বিভিন্ন বক্তব্য, দাবী দাওয়া, পরামর্শ শুনেছি ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বিভিন্ন কর্মীসভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন এবং ভারাও নেতাকর্মীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।

কেমন নেতৃত্ব আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগের প্রশ্নে আপোষহীন, রাজপথে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর নেতৃত্বে আসবে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা, ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন ও গণরুম ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে জাদুঘরে পাঠাবে এমন কর্মী বান্ধব নেতৃত্ব দিতে পারবে তাদেরকেই নেতা বানাতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবো। যাদের নামে কোনো অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের মামলা রয়েছে, অনৈতিক ও সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িত তাদেরকে অবশ্যই আমরা এই হল নেতৃত্বে দেখতে চাই না। 

আরো পড়ুন: ঢাবিতে হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

নেতা নির্বাচনে কি নীতি মানা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই ১৮টি হলে কর্মীসভা করেছি, সেখানে কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতাদের অবস্থান রয়েছে তাদের বিষয়ে আমরা সাংগঠনিক কোরামে আলোচনা করেই চূড়ান্ত নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। আমরা সকলকে আহ্বান করেছিলাম যে পদপ্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা অসঙ্গতি থাকে তাহলে আমাদের কাছে যেন সরবরাহ করে সে অনুযায়ী আমরা তদন্ত করে নেতা নির্বাচন করবো। আমরা চেষ্টা করবো যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নেতৃত্ব নিয়ে আসা, এক্ষেত্রে অনুপ্রবেশের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। 

তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রমও বন্ধ ছিলো, তাই সেখানে কমিটি গঠনের সুযোগ আমাদের ছিলো না। ফলে আমাদের হল কমিটি দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা সবসময়ই চেয়েছি যাতে দ্রুত হলে দ্রুত কমিটি দিয়ে দেয়া যায় সে লক্ষ্যে করোনার মধ্যেও আমরা কাজ করেছি। এরপরও বিলম্ব হয়ে গিয়েছে। তবে আমরা আশা করবো আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবে তারা যাতে সাংগঠনিক গতিশীলতা রক্ষা করবে। 

আরো পড়ুন: উত্যক্ত করায় ২ বহিরাগতকে আটকালেন জাবি ছাত্রীরা

হল সম্মেলনের কতদিন পর হলের কমিটি ঘোষণা করা হবে সেটি জানিয়ে সনজিত বলেন, আমরা ৩০ জানুয়ারি সম্মেলন করার পরে যতদ্রুত সম্ভব কমিটি ঘোষণা করে দিবো। হয়তো দুই-তিনদিন বা এক সপ্তাহ লাগতে পারে৷ আমাদের ছোট ভাই-বোনরা প্রায় ৫ বছর ধরে অনেক কষ্ট করেছে আমরা তাদের কষ্ট বুঝি তাই দ্রুতই হল কমিটি দিয়ে দিবো। এর মাধ্যমে আমাদের ছাত্রলীগ দ্রুত সাংগঠনিকভাবে সংঘটিত হবে। 

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বরিকুল ইসলাম বাঁধন বলেন, আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে সব হলের কর্মীসভা সম্পন্ন করেছি৷ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো হলে কর্মীরা কাজ করছে৷ এখন উৎসব আমেজ বিরাজ করছে৷ 

আরো পড়ুন: ঢাবির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু

সম্মেলন দোরগোড়ায় তাই শীর্ষ পদ পাওয়ার প্রত্যাশায় নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন হলের নেতাকর্মীরা। ফলে নতুন উদ্যমে জমে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন। নেতা-কর্মীদের স্লোগানমুখর পায়চারি জানান দিচ্ছে হল সম্মেলনের আগমনী বার্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »