চার দফা দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শাবি শিক্ষক সমিতির সংহতি

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

চার দফা দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শাবি শিক্ষক সমিতির সংহতি

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৪৮ ২৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:৫২ ২৩ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সরকারের কাছে চার দফা দাবি পেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।

রোববার রাত আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ চার দফা দাবি পেশ করেন তারা।

শাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চার দফা দাবি পেশ করা হয়। 

চার দফা দাবিগুলো হলো-  

১. ‘শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর বর্বোরোচিত পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে সরকার কর্তৃক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

২. ‘অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর জন্য যা যা করা দরকার তা অনতিবিলম্বে করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’

৩. ‘উপচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। এক্ষেত্রে অতিদ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

৪. ‘শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনোরকম সহিংসতায় সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্য উদ্দাত্ত আহ্বান জানান।’

এদিকে আজ রোববার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনের সামনে মানব দেয়াল তৈরি করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পুলিশ এবং সাংবাদিক ব্যতীত আর কাউকে ভিসি ভবনে ঢুকতে দিচ্ছে না তারা। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিসি বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় শিক্ষার্থীরা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘যতক্ষণ শিক্ষার্থীরা অনশনে থাকবে ততক্ষণ ভিসির বাসভবনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) বেগম সিরাজুন্নেসা হলের অব্যবস্থাপনা ও আনুষঙ্গিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হল প্রভোস্টকে কল দিলে হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। ঐদিন মধ্যরাতে ছাত্রীরা হল প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। পরে রাত আড়াইটার দিকে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বেরিয়ে এসে তাদের আশ্বাস দিয়ে পরদিন সকাল ১১ টায় আসার নির্দেশ দেন। পরদিন শুক্রবার শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে তাদের একটি প্রতিনিধিদল ভিসির কাছে পাঠায়। এসময় ভিসি এক মাস সময় চান। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেয়ার কথা জানায়। এরই মধ্যে গত শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়ে গণআন্দোলনে পরিণত করে। দাবি না মানায় গত রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ভিসির মদদে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ভিসির এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এর জেরে শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ দাবি করে। গত বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভিসিকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়। ঐ সময়ে ভিসি পদত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা অনশন শুরু করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

English HighlightsREAD MORE »