‘জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে বউ হিসেবে চায় না, সারা রাত এরা ঘুরাফিরা করে’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

‘জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের সহজে বউ হিসেবে চায় না, সারা রাত এরা ঘুরাফিরা করে’

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩৭ ১৯ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:৫৯ ১৯ জানুয়ারি ২০২২

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের কেউ বউ হিসেবে নিতে চায় না এমন মন্তব্যে নতুন বিতর্কে এসেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। 

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক অডিও ক্লিপের মাধ্যমে এ মন্তব্য সবার কাছে পৌঁছে যায়।

আরো পড়ুন: ৪৩তম প্রিলিমিনারির ফল আগামীকাল

ভাইরাল হওয়া অডিওতে ভিসিকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা এই ধরনের দাবি তুলেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় সারা রাত খোলা রাখতে হবে, অবশ্যই এই দাবিটা এসেছে এবং এইটা একটা জঘন্য রকম দাবি। আমরা মুখ দেখাইতে পারতাম না। এখানে আমাদের ছাত্রনেতারা বলছেন যে জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েদের কেউ সহজে বউ হিসেবে নিতে চায় না। কারণ, সারা রাত এরা ঘুরাফেরা করে। বাট আমি চাই না যে আমাদের যারা এত ভালো ভালো স্টুডেন্ট, তারা এখানকার সুন্দর সুন্দর ডিপার্টমেন্টগুলো থেকে পড়ে বিখ্যাত শিক্ষকদের সাহচর্য পেয়ে গ্র্যাজুয়েট হয়, তাদের ওপর এ রকম একটা কালিমা লেপুক।’

অডিও ক্লিপে আরো শোনা যায়, ‘ওই জায়গাটা কেউ চায় না, কোনো গার্জিয়ান চায় না কিন্তু। এখন, আমরা যদি কাউকে বলি তোমার বাবা-মা কাউকে ফোন করবো। তখন তোমরাই তো এটা বাঁধা দিয়ে বলবা, না না, না, এইটা হবে না, দেখো হয়রানি করতেছে। এটা তো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব, তোমাদেরও নৈতিক দায়িত্ব যে, এই মেয়ে কেন রাতের বেলা সোয়া দশটা পর্যন্ত স্যাররে সময় দিছে।’

আরো পড়ুন: মাদকের থাবায় অনিশ্চিত ইবি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন

অডিও ক্লিপটিতে ভিসি আরো বলেন, ‘কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশে সোয়া দশটা পর্যন্ত মেয়েরা অফিসে থাকতে পারে না। তারপরেও আমরা সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তোমরা কেন বল না যে…কী তুমি একদিন রাস্তায় বের হও..তোমরা, এটা বল যে তুমি বারোটা-একটায় কী করতেছ? দুইটার সময় কী করতেছ? আমি মাঝে মাঝে ঢাকা থেকে যখন আসি রাতে বারোটা-একটা বেজে যায়। আমি দেখি যে আমাদের ওয়ান কিলোমিটার রাস্তা দিয়া ছেলেমেয়ে হাত ধরাধরি করে কনসালটিং করতেছে। একটা অঘটন ঘটলে কিন্তু দায়দায়িত্ব ভাইস চ্যান্সেলরকে নিতে হবে। যত দোষ, নন্দ ঘোষ। ভাইস চ্যান্সেলর দায়ী সে জন্য।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য ভাইরাল হওয়ায় অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছেন শাবিপ্রবি ভিসি।

আরো পড়ুন: হল থেকে অস্ত্রসহ আটক ঢাবি শিক্ষার্থী

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের ছাত্রীরা। পরেরদিন শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বর্ষের শিক্ষার্থীরা যোগ দেয়। পরদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ , শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখছে। 

আরো পড়ুন: রাবিতে সশরীরে ক্লাস বন্ধের দাবি

এদিকে আজ দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভিসিকে পদত্যাগ করার আল্টিমেটাম দেয় তারা। আল্টিমেটামের সময় শেষ হলেও ভিসি পদত্যাগ করেন নি। এজন্য শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসছেন। ভিসির পদত্যাগ না হলে তারা অনশন চালিয়ে যাবে বলে জানা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »