শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ

ঢাকা, সোমবার   ২৩ মে ২০২২,   ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২১ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

শাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৪২ ১৬ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২২:৫১ ১৬ জানুয়ারি ২০২২

শাবিপ্রবি’র মেইন গেট। ফাইল ফটো

শাবিপ্রবি’র মেইন গেট। ফাইল ফটো

টানা তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর তালা ভেঙে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের ওপর এসময় লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্রলীগ ও আন্দোলনকারীসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

এ ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বেগম সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্ট পদ্যাত্যাগ করেছেন।

শাবিপ্রবি উপাচার্য এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাতে জরুরি সিন্ডিকেট মিটিং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছি। এছাড়া আগামীকাল সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদেরকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, বেগম সিরাজুন্নেসা হলে নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা এম এ ওয়াজেদ মিয়া ভবনের সামনে জড়ো হয়। এ সময় কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে ৫টা ১০ মিনিটের দিকে কোষাধ্যক্ষ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। কোষাধ্যক্ষ ভেতরে ঢোকার জন্য আন্দোলনকারীরা তালা খুলতে যাওয়ার মুহূর্তে পেছনের দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশের সদস্যরা। পরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র-ছাত্রীরা। 

এতে পুলিশ আন্দোলকারীদের ধাওয়া করলে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে পাল্টা ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ২৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে বলে জানা যায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল ছোড়েন পুলিশ সদস্যদের ওপর।

আরো পড়ুন: পাঠচক্র: অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনেকে আহত হন। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, মাউন্ড এডোরা হসপিটাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জহিরউদ্দিন আহমেদসহ প্রায় ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও দুজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অধ্যাপক জহিরউদ্দিনকে মাউন্ট এডোরা হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কর্মী বলেন, পুলিশ ছাত্রলীগের এক সদস্যকে পুকুরে ফেলে দেন। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করেন পুলিশের সদস্যরা। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরে ৫টা ৫০ মিনিটের সময় তালা ভেঙে এম এ ওয়াজেদ মিয়া ভবনের তৃতীয় তলার ৩৩৩ নম্বর কক্ষ থেকে উপাচার্যকে উদ্ধার করে পুলিশ।

উপাচার্যকে উদ্ধারের সময় গণমাধ্যমকর্মীদেরকে সিলেট মেট্রোপুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর উত্তেজিত হলে আমরা তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেই। 

এ বিষয়ে এসএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল ওয়াব বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবীরকে এ বিষয়ে একাধিকবার কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করে আছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর

English HighlightsREAD MORE »