বাকৃবিতে ট্রেন থামানোর জোর দাবি শিক্ষার্থীদের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২,   ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

বাকৃবিতে ট্রেন থামানোর জোর দাবি শিক্ষার্থীদের

বাকৃবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:২৩ ১৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৯ ১৫ জানুয়ারি ২০২২

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থাকলেও সেখানে থামে না কোনো ট্রেন। কয়েক বছরের পরিক্রমায় টিকিট কাউন্টার ও সিগন্যাল ইউনিটটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়েই দিব্যি ঢাকা-ময়মনসিংহগামী ১৫টির বেশি ট্রেন চলাচল করে। রেল কেন থামে না তার কারণও অনেকেরই অজানা। 

ইমতিয়াজ আবির (ভিপি, ভেটেরিনারি অনুষদ ছাত্র সমিতি): বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্ল্যাটফর্ম। আশির দশকেও জমজমাট ছিলো এই প্ল্যাটফর্ম, তখন এই প্ল্যাটফর্মে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গগামী সকল ট্রেন থামতো। তখন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য বাহন ছিলো ট্রেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এই প্ল্যাটফর্মটিতে বর্তমানে দু একটা লোকাল ট্রেন ব্যতীত আর কোন ট্রেন থামে না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যেখানে এই প্ল্যাটফর্মের সুযোগ সুবিধা বাড়ার কথা ছিলো, সেখানে উল্টো এই প্ল্যাটফর্মটি এখন দর্শনার্থীদের ছবি তোলার স্থানে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চাইলেই শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বাকৃবি স্টেশনটি সচল করতে পারে।

মুরাদ মুরশেদ (জিএস, ভেটেরিনারি অনুষদ ছাত্র সমিতি): বাকৃবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবিগুলোর অন্যতম পুরাতন একটি দাবি হচ্ছে বাকৃবিতে পূর্ণাঙ্গএকটি রেলস্টেশন স্থাপন। বাকৃবির ভিতর দিয়ে ঢাকার সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগ থাকার পরেও জরুরি প্রয়োজনে ট্রেন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। 

শাহেদ হোসাইন (জিএস, কৃষি অনুষদ): এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার ছাত্রছাত্রী সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও ময়মনসিংহ-ঢাকাগামী ট্রেনে যাতায়াত করেন। বর্তমানে এই রুটের মহাসড়কের জ্যাম এবং রাস্তার বেহাল দশার জন্য ছাত্রছাত্রীরা বাসের বিকল্প হিসেবে ট্রেনে যাতায়াত পছন্দ করেন। তবে ইদানিং প্রায় সকল চাকরি পরীক্ষা ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় ট্রেনের উপর আমরা ছাত্রছাত্রীরা আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। তবে ভোরের ট্রেনে উঠার জন্য আমাদের গভীর রাতে ময়মনসিংহ স্টেশনে যেতে হয়, যেটা আমাদের ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার দূরে। পথমধ্যে প্রায়শই হয়ে যাওয়া ছিনতাই এবং বিশেষ করে এতো রাতে মেয়েদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমাদের প্রধান সমস্যার আলোচ্য বিষয়।

আরএম সাইম (মাস্টার্স শিক্ষার্থী, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ):  ময়নসিংহ রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫ কিলোমিটারের বেশি দূরতে অবস্থিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানাবিধ কাজেই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাতে যেতে হয়। খুব ভোরবেলা (সকাল ৪টা) ট্রেনে রওনা দিয়ে সারাদিন কাজ করে রাতের ট্রেনে ময়মনসিংহে ফিরে আসতে গেলে, স্টেশন থেকে বাকৃবি আসা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠে। 

মতিউর রহমান সুমন (মাস্টার্স শিক্ষার্থী, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ): চাকরি পরীক্ষার্থীদের কষ্টকে বুঝবে? সকাল ১০টায় পরীক্ষা থাকলে ময়মনসিংহ রেলস্টেশন এ ভোর চারটার ট্রেন ধরতে হয়। এই ট্রেনটি ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে ৮ টা, ৮:৩০ টার মধ্যে ঢাকা পৌঁছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাত ৩টায় স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়, পাওয়া যায় না কোন যান অটো কিংবা রিকশা। এতো রাতে থাকে ছিনতাইয়ের ভীতি?

জাকি রিজওয়ান (মাস্টার্স শিক্ষার্থী,  কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ): চাকরিপ্রত্যাশী ভাই বোনের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাকৃবি রেলস্টেশনে  ঢাকা অভিমুখী ৭৩৬ যমুনা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৭৪৩ ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস এর যাত্রাবিরতি  ভীষণভাবে দরকার।

তারেক মাহমুদ উদয় (শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, ভেটেরিনারি অনুষদ): প্রকৃতিকন্যা নামে পরিচিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানী ঢাকা থেকে ১২০ কি.মি. দূরে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড় ঘেঁষে চলে গেছে ঢাকা ময়মসিংহ রেললাইন। কিন্তু তবুও আমরা যারা নিয়মিত ঢাকা যাই এবং আমাদের সিনিয়র ভাইয়া আপুদের চাকরির পরীক্ষার জন্যে রাত ২ টা কিংবা ৪ টায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্টেশন যেতে হয়। এই রাস্তায় ছিনতাই এর ঘটনা প্রায়শই ঘটে। 

রায়হান আবিদ (শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, পশুপালন অনুষদ): বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা পরিবার থেকে দূরে বন্ধু, সহপাঠী আর সিনিয়রদের সান্নিধ্যে হলে থাকা। তবে ছুটির দিন গুলোতে বাড়ি যাবার এক অফুরন্ত আনন্দ মনে জাগে। আমার বাড়ি ঢাকায় হওয়ায় গাজীপুর চৌরাস্তার যানজট উপেক্ষা করতে সবচেয়ে সেরা উপায় হলো রেলওয়ে মাধ্যম। কিন্তু বাকৃবিতে রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম থাকা সত্ত্বেও থামে না ট্রেন, বরং যেতে হয় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ময়মনসিংহ জংশন যা গাঙ্গীনাপাড়ে অবস্থিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »