ফেল করেও রাবিতে ভর্তি হলো ৭১ শিক্ষার্থী!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৫ জুলাই ২০২২,   ২১ আষাঢ় ১৪২৯,   ০৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

ফেল করেও রাবিতে ভর্তি হলো ৭১ শিক্ষার্থী!

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১১ ১১ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৪:০৫ ১১ জানুয়ারি ২০২২

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফেল করা ৭১ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর অভিযোগ উঠেছে। পোষ্য কোটায় নীতিমালা পরিবর্তন করে তাদের ভর্তি করানো হয়েছে। এই সুবিধা নিয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মী, মালি থেকে শুরু করে অধ্যাপকও। এতে ভর্তি পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ হারিয়েছে, বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

আরো পড়ুন: ধার করা ক্যামেরায় বানানো সিনেমাটি জিতলো কান চলচ্চিত্র পুরস্কার

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ থেকে ৬ অক্টোবর রাবিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৪ হাজার ১৭৩টি আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮২ শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর (কোটাসহ) পাস নম্বর নির্ধারিত ছিল ৪০। যে হিসেবে পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীরাই ভর্তির সুযোগ পাবার কথা। তবে তাদের অনেকেই ভালো পজিশনে থেকেও পছন্দের বিভাগে ভর্তি হতে পারেনি। অন্যদিকে পোষ্য কোটায় ফেল করেও অনেকে ভর্তি হয়েছে ভালো বিভাগে।

আরো পড়ুন: সরাসরি ক্লাস বন্ধে সরকারি নির্দেশনায় তাকিয়ে রাবি

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে ভর্তি পরীক্ষা উপ-কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় ভর্তি পরীক্ষার পূর্বনির্ধারিত ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করার সিদ্ধান্ত হয়। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের বাড়তি সুবিধা দিতে এ নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তখন অভিযোগ উঠে।

আরো পড়ুন: রাবি চিকিৎসা কেন্দ্রের ‘চিকিৎসা’ প্রয়োজন, বিকল কিউএস মেশিন

ভর্তি পরীক্ষা উপ-কমিটি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা হিসেবে মোট আসনের ৫ শতাংশ বরাদ্দ থাকে। ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করলেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। তবে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য ৭১ শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন অভিভাবকরা। বিশেষ এ সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক রয়েছেন। তালিকায় ৩০ থেকে ৪০ নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ৪৭টি আবেদনের মধ্যে নয়টিই করেছেন শিক্ষক শ্রেণির অভিভাবকরা। এর মধ্যে ছয়জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষক। বাকি তিনজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষক।

আরো পড়ুন: কানে তরুণ নির্মাতা পুরস্কার পেলো রাবি শিক্ষার্থী রাহি

ভর্তিচ্ছুদের অভিযোগ, কোটার আওতায় থাকা শিক্ষার্থীরা এমনিতেই নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এরপর আবার পাস নম্বর কমিয়ে ভর্তি করানোর কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। এবিষয়ে জানতে চাইলে এক ভর্তিচ্ছু বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারে না এমন কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগই দেয়া উচিত নয়। হাড় ভাঙা পরিশ্রমের পরই একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে। অথচ শুধুমাত্র পোষ্য কোটার সুবিধা নিয়ে অযোগ্যরা ভর্তি হবে, এটা মেনে নেয়া যায় না।

আরো পড়ুন: আবারো সমালোচনায় রাবি প্রক্টর, অধ্যাপক না হয়েও লিখেন ‘অধ্যাপক’!

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, গতবারও এভাবে পাস নম্বর কমিয়ে পোষ্য কোটায় ভর্তি করানো হয়েছিল। এবারও তা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে এটি কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এবিষয়ে ভিসি অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, দীর্ঘদিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবে ভর্তি প্রচলিত রয়েছে। এবারও সেটি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আমরা এ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »