আবারো সমালোচনায় রাবি প্রক্টর, অধ্যাপক না হয়েও লিখেন ‘অধ্যাপক’!

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

আবারো সমালোচনায় রাবি প্রক্টর, অধ্যাপক না হয়েও লিখেন ‘অধ্যাপক’!

রাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৪ ২৬ ডিসেম্বর ২০২১  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. লিয়াকত আলী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. লিয়াকত আলী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. লিয়াকত আলী একের পর এক সমালোচনা জন্ম দিচ্ছেন। সমালোচনা যেনো তার পিছু ছাড়ছে না। কিছুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৭টি নির্দেশনার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আলোচনায় আসেন। নতুন করে আবারো সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ‘অধ্যাপক’ না হয়েও নিজের নামের পাশে অধ্যাপক যুক্ত করে।

শুধু অধ্যাপক লেখেনই না প্রক্টর দপ্তরে টাঙ্গানো অনার বোর্ডেও তার নামের আগে যুক্ত করেছেন অধ্যাপক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, লিয়াকত আলী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, তার পদবি সহকারী অধ্যাপক। চলতি বছর ২৭ মে সহকারী প্রক্টর থেকে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রক্টর দপ্তরের টানানো অনার বোর্ডে তার নামের আগে অধ্যাপক লিখে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি আমলে নেননি। একজন সহকারী অধ্যাপক পূর্ণ অধ্যাপকের পদবি ব্যবহার করতে পারবেন কি না সে বিষয়ে নানা মত উঠে এসেছে। 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর লিয়াকত আলী বলেন, আমার নাম তো অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এনটাইটেল করা আছে। এটা লেখা যায়। আমাদের যে লেকচারার থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাসোসিয়েট পর্যন্ত লাইন আছে, এটাতে ওই নামে লেখা যায়। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মো. কামাল পাশা বলেন, প্রফেসর কথাটি এসেছে প্রফেস থেকে, যার অর্থ শিক্ষকতা। সে হিসেবে শ্রেণিকক্ষে অধ্যাপনা করার জন্য যখন কেউ যান, ক্রিয়াপদের বিশেষ্যপদ হিসেবে অধ্যাপক বলা যায়। কিন্তু যখন প্রশাসনিক ব্যাপারটা আসে তখন বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত পদবি ব্যবহার করতে হয়। কারণ পদ ও পদবির সঙ্গে বেতন, ভাতা, সুযোগ-সুবিধাসহ আরও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যাপার জড়িত থাকে। 

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও প্রখ্যাত নাট্যকার মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, শিক্ষকতা আসলে পদ পদবির বিষয় নয়। একজন সম্মান করে অন্যজনকে অধ্যাপক বলতে পারেন। তবে কেউ যদি নিজে তার নামে আগে প্রফেসর বা ডক্টরেট ডিগ্রি লাগায় সেটা সম্মানজনক নয়। 

এবিষয়ে ইতিহাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যখন অন্য এক শিক্ষককে সম্বোধন করেন তখন সে অধ্যাপক বলে ফেলেন। কিন্তু অফিসিয়াল কোন কাগজে সেটা লেখা গ্রহণযোগ্য নয়। নামের আগে কখনো সহকারী বা সহযোগী অধ্যাপক লেখা যায় না। এ টাইটেলগুলো লিখতে হয় নামের পরে। শুধুমাত্র অধ্যাপক হবার পর নামে আগে তা ব্যবহার করতে পারবে। 

তিনি আরো বলেন, সাধারণত বেসরাকরি কলেজের শিক্ষকরা তাদেরকে অধ্যাপক বা প্রফেসর বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন। কিন্তু সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেনো শিক্ষকের সাথে তুলনীয় নয়। পিএইচডি ডিগ্রিহীন একজন সহকারী অধ্যাপক কোনো অনার বোর্ডে অধ্যাপক লিখতে পারেন না। এর মাধ্যমে তো আলাদা কোনো ক্রেডিট তো ক্যারি করে না। শুধু মাত্র তার নাম লিখলেও তো সমস্যা নেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »