হাজারো প্রেম-বিচ্ছেদের সাক্ষী প্যারিস রোড

ঢাকা, রোববার   ২২ মে ২০২২,   ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,   ২০ শাওয়াল ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

হাজারো প্রেম-বিচ্ছেদের সাক্ষী প্যারিস রোড

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১৬ ২৩ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৪:৩৬ ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

হাজারো বিচ্ছেদের সাক্ষী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড।

হাজারো বিচ্ছেদের সাক্ষী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড।

‘একদিন তুমি আমাকে আর খোঁজে পাবে না। যখন মনে পড়বে ওই দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকো। সেখানে অনেক সন্ধ্যা তারা, ভালোবাসা আর আবেগ লুকিয়ে আছে। ঐ আকাশটাই কোটি প্রেমিকের আশা মাত্র। খুব বেশি রাত জাগো না, অল্পতেই তোমার শরীর খারাপ করে। ইনহেলারটা সঙ্গে রেখো, এটাই তোমার শেষ ভরসা। ভালো থেকো।’- এমনই হাজারো বিচ্ছেদের সাক্ষী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড।

শুধু বিচ্ছেদ নয় একই সঙ্গে প্রেয়সীকে প্রেম নিবেদনের সাক্ষ্য বহন করছে রাস্তাটি। এই রাস্তাটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর প্রেমের সূচনা হয়। আবার অনেকের এখানেই নিভে যায় জ্বলে ওঠা প্রেমের আলো। রাস্তাটি প্রতিনিয়ত বুনছে হাজারো প্রেম-বিরহের গল্প। হয়ে আছে প্রেম-বিচ্ছেদের জীবন্ত স্বাক্ষী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে কিছুটা সামনে এগিয়ে গেলেই সামনে জোহা চত্বর ও প্রশাসন ভবন। তার বামপাশে সুবিস্তৃত প্যারিস রোড। যার দুইপাশে সুবিশাল গগনশিরীষ গাছ। গাছগুলো রাস্তাটিকে পরম আদরে মুড়িয়ে রেখেছে। দুইপাশের গাছগুলো একে অপরকে আলিঙ্গন করতে মরিয়া। গাছের সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো আছড়ে পড়ে রাস্তার উপর। যেনো আলো-ছায়ার খেলায় প্রতিমা হয়ে জেগে আছে।

সকাল সন্ধ্যা সব সময় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে প্যারিস রোড। মন চাইলেই প্রিয়জনকে নিয়ে এখানে কাটানো যায় সুমধুর সময়। রাস্তার একপাশে রয়েছে গোলাপ বাগান। আর অন্য পাশে হাঁটার জন্য ছোট ফুটপাত। যেখানে প্রেয়সীর হাত ধরে হেঁটে পাড়ি দেয়া যায় কাল থেকে মহাকালের পথে। বর্ষার কোনো এক বিকেলে প্রিয়তমার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে অল্প বৃষ্টিতে সূর্যাস্তের অপেক্ষা করতে করতে অনেকের সময় কাটে এখানেই।  

বিকেলে প্যারিস রোডের পাশের পুকুরপাড় ছড়ায় আলাদা মুগ্ধতা। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ সোডিয়াম লাইটের আলোয় আলোকিত হয় পুকুরপাড়। সন্ধ্যা হতেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভীড় জমে সেখানে। সেখানের সারিবদ্ধ ছোট বেঞ্চগুলোতে জমে উঠে সুখ দুঃখ, পাওয়া না পাওয়ার গল্পগুলো। রচিত হয় নতুন প্রেম কাহিনী আবার অনেকের বিচ্ছেদ রচিত হয় এখানেই।

                            কবির ভাষায়-
হয়তো সূচনায় যা প্রেম ছিলো,
তার সমাপ্তিটা বিচ্ছেদেই হবে,
এক পৃথিবীর বুকেই দুজন বেচেঁ রবে
তবে দুজন রবে দুজনার দীর্ঘশ্বাসে।
কবিতার মতোই দুজনার দীর্ঘশ্বাসের অসংখ্য স্মৃতি বহন করছে রাবির প্যারিস রোড। ভালোবাসা-বন্ধুত্ব, জীবন-মৃত্যু, হাসি-কান্না, একাকিত্ব কিংবা প্রেমিক যুগলের হাতের উষ্ণ ছোঁয়া যুগের পর যুগ ধরে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সাক্ষী এই রাস্তাটি। কখনো বিদ্রোহে কেঁপে উঠেছে তার বুক, কখনো শীতল হয় ভালোবাসায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, প্যারিস রোডে আমাদের প্রেমের শুরুটা হয়েছিলো। হঠাৎ করে পারিবারিকভাবে ওর (প্রেমিকার) বিয়ে ঠিক হয়। বেকার থাকার কারণে ভালবাসার মানুষকে হারিয়েছি। এত ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও পাওয়া হয়নি তাকে। তার সঙ্গে আমার শেষ দেখাটাও প্যারিস রোডে। সেই স্মৃতি আজো ভুলতে পারিনি। যখনই ক্যাম্পাসে যাই প্যারিস রোডে আমাদের সে কাটানো সময়গুলোকে মিস করি। মনে পড়ে বিচ্ছেদের সেই মুহূর্তকে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পরিচয়টা ফেসবুকে হলোও প্রথম দেখাটা হয় প্যারিস রোডে। নীল শাড়ি পড়ে তার (প্রেমিকের) জন্য অপেক্ষা করছিলাম। সে পড়ে এসেছিলো লাল পাঞ্জাবি আর হাতে ছিলো গোলাপ। এরপর প্রেম শেষে পরিণয়। স্মৃতিগুলো এখনো মনে পড়ে। দশ বছর ধরে এক সঙ্গে রয়েছি আমরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »