আবির রঙে রাঙানো বিদায়

ঢাকা, শনিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২২,   ১৫ মাঘ ১৪২৮,   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

আবির রঙে রাঙানো বিদায়

আশিক ইসলাম, রাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৩০ ৮ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৬:৩৩ ৮ নভেম্বর ২০২১

রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৬১তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে এর একাংশ শিক্ষার্থী

রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৬১তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে এর একাংশ শিক্ষার্থী

সকালের কুয়াশার চাদর ভেদ করে আকাশে রক্তিম সূর্য উঁকি দিয়েছে। আস্তে আস্তে তার আলোয় ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। প্রায় জনশূন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবনের সামনের আমতলা। ৬ নভেম্বর (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টা। সেখানে হাজির হলো ৩০ থেকে ৪০ জন সাদা টিশার্ট পরা শিক্ষার্থী। সবাই মেতে উঠছে হাসি আড্ডায়। সামনে যেতেই জানা গেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৬১তম ব্যাচের র‌্যাগ ডে।

ক্যাম্পাসে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে কখন যে জীবনের সেরা দিনগুলো পার হয়ে যায় তা কেউ টেরই পায় না। চারটি বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে বিদায়ের ঘণ্টা। শিক্ষাজীবনের সেই মধুময় দিনগুলোর স্মৃতি হৃদয়ের ফ্রেমে বেঁধে রাখতে, স্মরণীয় করে রাখতে, আনন্দে উচ্ছ্বাসে এক অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়ে র‌্যাগ-ডে উদযাপন করে শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১০টা। আমতলা থেকে সাউন্ড বক্সে গান বাজিয়ে র‌্যালি করে তারা জড়ো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান মাঠে। সেখানে তাদের পরনে থাকা একে অপরের সাদা টি-শার্টে মনের অগোছালো কথাগুলো রঙিন কালি দিয়ে লিখছে। কাছের মানুষগুলোর লেখায় ভরে গেছে। যেনো লেখালেখির উৎসব চলছে। কেউ লিখেছে ‘ভালো থেকো বন্ধু’, লাভার বয়, কিউট বয়, ডানা কাটা পরী আরো কত কি! চার বছরের শিক্ষাজীবনে সহপাঠীদের অনুভূতি, স্বাক্ষর আর রঙে টিশার্ট হয়ে উঠে ভালোবাসার বন্ধনের প্রতীক।

এরপর শুরু হলো রঙের খেলা। একে অপরের আলতো ছোয়ায় লাল, হলুদ, সবুজসহ নানা রঙের আবির মাখাতে থাকে তারা। আর সঙ্গে সাউন্ড বক্সে ডিজে গান আর নাচানাচি। এর মধ্যেই চললো ছবি তোলার উৎসব। বন্ধুদের সঙ্গে শেষ বেলার স্মৃতিগুলো স্মরণীয় করে রাখতে নানা ঢঙে ছবি তুলেন তারা।

বিকালে তারা আবার জড়ো হোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে। সেখান থেকে অটো রিক্সাযোগে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার সারেন তারা। এর আগে রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স কক্ষে মিলিত হয় তারা। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। 

বিভাগের ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান বলেন, দেখতে দেখতে চারটি বছর কেটে গেলো। এরপর অনেকে হয়তো এখানেই মাস্টার্স করবে আবার অনেকে চলে যাবে। জীবন সংগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় পাড়ি জমাবে। এই দিনগুলো আর ফিরে আসবে না। একসঙ্গে বসে আর কখনো আড্ডা দেয়া হবে না। বিশেষ করে আজকের দিনটা খুবই স্পেশাল ছিলো। আমার সহপাঠী, বন্ধুদের এমন একটি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

নাহিদ হাসান শিপন বলেন, মনে হয় এই তো সেদিনই কাম্পাসে পা দিয়েছি। দেখতে দেখতে কেটে গেলো চারটি বছর। কত আনন্দ-বেদনা জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগকে ঘিরে। এত এত স্মৃতি জমেছে তা কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। বিদায়ে ফেলে যাচ্ছি আমাদের অণু গল্পগুলো, অভিমান, সাফল্য-ব্যর্থতা আর ভালোবাসাদের। আর হবে না সেই হাসি-ঠাট্টা, আড্ডা, কান্না, রাগারাগি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »