পথে পথে হাত পাতছেন কাঙালিনী সুফিয়া

ঢাকা, শনিবার   ২৯ জানুয়ারি ২০২২,   ১৫ মাঘ ১৪২৮,   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

Beximco LPG Gas

পথে পথে হাত পাতছেন কাঙালিনী সুফিয়া

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২০ ৮ নভেম্বর ২০২১  

শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ গুণী এই শিল্পীকে হাত পেতে সাহায্য চাইতে দেখা যায়।

শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ গুণী এই শিল্পীকে হাত পেতে সাহায্য চাইতে দেখা যায়।

একটা সময় গান গেয়ে মন জয় করেছেন গণমানুষের। তার গান দেশের নানা প্রান্তের মানুষের সুরো-বেসুরো কণ্ঠে শোনা যায় আজো। দেশের সংগীতাঙ্গনে তার অবদানও অনস্বীকার্য। তবে বেশ কিছু বছর যাবৎ তার কণ্ঠ থেমে গেছে।

বলছি কাঙালিনী সুফিয়ার কথা। দূর থেকে তার গান শুনে কারো বুঝতে দেরি হতো না এই কণ্ঠ সুফিয়ার। সবাই ভিড় জমাতো তার গানের আসরে। এখন এই শিল্পীকে শারীরিক অসুস্থতা ঘিরে ধরেছে। চলতে হয় লাঠি ভর করে। চেহারায় এতটাই দীনতার ছাপ যে পথের মধ্যে কেউ সামনাসামনি দেখলেও তাকে চিনতে পারা যায় না।

শনিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ গুণী এই শিল্পীকে চলাফেরা করতে দেখা যায়। হাত পেতে সাহায্য চাইতে দেখা যায়।

তবে অনেকেই তাকে চিনতে পারেননি। একা-একাই ঘুরে ঘুরে সাহায্য চাইতে দেখা গেছে তাকে।

কাঙালিনী সুফিয়া এই প্রতিবেদককে জানান, সাভারের জামসিং এলাকায় মেয়ের সঙ্গে একরকম মানবেতর জীবনযাপন করেন তিনি। কিডনি, হার্ট ও মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন বেশ কয়েক বছর। এ জন্য নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয় তার।

আর্থিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাই। সে টাকায় ওষুধ ও নিজের ভরণপোষণ খুব কষ্ট করে চলে। মাঝে মাঝে ঋণ বা ধার করে চলতে হয়। অভাব তাকে হাত পাততেও বাধ্য করে বলে জানান তিনি।

গুণী এই শিল্পী আক্ষেপের সুরে বলেন, এখন আর সেভাবে গান গাইতে পারি না। তাই আমার গান আর কেউ শুনতে চায় না।

অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে পারলে আবারও সবাইকে তার চিরাচরিত রূপে গান শোনাতে চান বলেও জানান তিনি।

আর্থিক সাহায্য কেন চাইছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ভারতের আজমির শরিফের ওরসের জন্য সাহায্য চাইছি।

১৯৬১ সালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে কাঙালিনী সুফিয়ার জন্ম। প্রকৃত নাম টুনি হালদার।

‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের শিল্পী তিনি।

গ্রামের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ১৪ বছর বয়সে মানুষের নজর কেড়েছিলেন। একসময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি পান।

তার গানের গুরু ছিলেন গৌর মহন্ত ও দেবেন খ্যাপা। হালিম বয়াতির কাছেও গান শিখেছিলেন তিনি। এ পর্যন্ত ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। সুফিয়ার মোট রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ৫০০।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

English HighlightsREAD MORE »