স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে 

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রহায়ণ ১৮ ১৪২৮,   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে চাইলে 

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৯ ১৯ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন, মাস্টার্স, পিএইচডি, পোস্ট ডক্টরাল–এই চার লেভেলের ভর্তি প্রক্রিয়া ভিন্ন। আজ আমি আলোচনা করব আন্ডারগ্র্যাজুয়েশনের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে।

বৃত্তির পরিচিতি
স্ট্যানফোর্ডে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করলে স্ট্যানফোর্ড তা দিয়ে থাকে। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি গত কয়েক বছরে আর্থিক সহায়তা নিয়ে স্ট্যানফোর্ডে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে যার যতটুকু খরচ বহন করা সম্ভব, ততটুকু স্ট্যানফোর্ড দিতে বলে। বাকি খরচ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক সহায়তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে থাকে। তবে একটা বিষয় বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্ট্যানফোর্ডের আর্থিক সহায়তার আবেদনের প্রক্রিয়াটা নিড ব্লাইন্ড না। নিড ব্লাইন্ড বলতে আমেরিকার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে বাংলাদেশিরা যদি আবেদন করেন, তাহলে তাঁদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় আনবে না। প্রথমে তাঁদের ভর্তি নেবে কি না, সেটা নির্ধারণ করবে। ভর্তির পর শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুসারে অর্থ দিয়ে সাহায্য করবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি নিড ব্লাইন্ড দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় এবং বলে, আমি বছরে ১০ হাজার টাকার খরচ বহন করতে পারব, তাহলে বাকি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে দেবে। এটা হচ্ছে নিড ব্লাইন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা। তবে স্ট্যানফোর্ড বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নিড ব্লাইন্ড না। কেউ যদি আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করে, তাহলে ওই সামর্থ্যের বিষয়টাকেও তারা বিবেচনায় আনে ভর্তির সময়। তার মানে হচ্ছে, আপনি যদি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করেন তাহলে আপনার ভর্তির সুযোগের সম্ভাবনা কিছুটা কমে যাবে। তবে আমি এবং আমার মতো কয়েকজন বাংলাদেশি আর্থিক সহায়তার স্কলারশিপ নিয়ে স্ট্যানফোর্ডে পড়াশোনা করছি। সুতরাং এটা অসম্ভব না, তবে একটু কঠিন।
 
আবেদনের প্রক্রিয়া
স্ট্যানফোর্ড বা আমেরিকার যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে থাকে কিছু পরীক্ষা, যেমন স্যাট, টোফেল, আইইএলটিএস, স্যাট-সাবজেক্ট টেস্ট পরীক্ষা। দ্বিতীয়ত, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলের নম্বরপত্র জমা দিতে হয়। তৃতীয়ত, কমন অ্যাপ্লিকেশনে একসঙ্গে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায়। কমন অ্যাপে স্ট্যানফোর্ডে আবেদন করতে গেলে বেশ কয়েকটা নিবন্ধ লিখতে হবে। দুই-তিনজন শিক্ষকের রেফারেন্স লেটার জমা দিতে হবে। এ ছাড়া সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে এমন কিছু দেখাতে হবে যা আপনাকে অন্য আবেদনকারী থেকে আলাদা করবে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে স্বতন্ত্র কিছু কার্যক্রম থাকতে হবে। আর এগুলোর মাধ্যমে আপনার প্রোফাইলটি সমৃদ্ধ হবে। কেউ যদি আরও বিস্তারিত জানতে চায় তাদের বলব, গুগল হচ্ছে সবচেয়ে ভালো অপশন। 

কী কী কাগজপত্র লাগবে?

১। স্যাট, টোফেল, আইইএলটিএসসহ বিভিন্ন পরীক্ষার নম্বরপত্র।
২। নবম-দ্বাদশ শ্রেণির বিভিন্ন পরীক্ষার নম্বরপত্র।
৩। শিক্ষকের রেফারেন্স।
৪। নিবন্ধ।
৫। ফাইন্যান্সিয়াল ডকুমেন্টস।
৬। বাবা-মায়ের ইনকাম ডকুমেন্টস।
৭। ট্যাক্স পেয়ার কাগজপত্র (যদি থাকে)।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-মেইল করে জানা যাবে কী কী কাগজপত্র তারা চায়।

সুযোগ-সুবিধা
বৃত্তি পেলে কী সুযোগ-সুবিধা, এটা আসলে নির্ভর করে আপনি কতটুকু বৃত্তি পেয়েছেন তার ওপর। আমি শতাভাগ বৃত্তি পেয়েছি। তাই আমার পড়াশোনায় কোনো খরচ হয় না। আমার টিউশন ফি দেওয়া লাগে না, থাকা-খাওয়ার খরচ লাগে না। তা ছাড়া স্ট্যানফোর্ড বছরে বাংলাদেশে আসার একটা রাউন্ড ট্রিপ টিকিট দেয়। পাশাপাশি আমাকে ল্যাপটপ দিয়ে সাহায্য করেছে। আমার আসলে আমেরিকায় কোনো খরচ নেই। এমনকি আমার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত খরচটিও স্ট্যানফোর্ড দিয়ে থাকে। আমি খুব সৌভাগ্যবান যে এসব সুবিধা স্ট্যানফোর্ড থেকে পাচ্ছি।

তবে এটা আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। যারা বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করে না, তাদের নিজেদেরই খরচ চালাতে হয়। যারা আংশিক বৃত্তি পায়, তাদের কিছু কিছু সুবিধা স্ট্যানফোর্ড দিয়ে থাকে আর কিছু কিছু খরচ নিজেদের বহন করতে হয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট- stanford.edu/admission/

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম