চবির শাটল চালু হচ্ছে, ভোগান্তি কমবে কী?

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চবির শাটল চালু হচ্ছে, ভোগান্তি কমবে কী?

রুমান হাফিজ, চবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ১৩ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৬:০১ ১৩ অক্টোবর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শাটল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। তবে ট্রেন চলবে সীমিত পরিসরে। এরইমধ্যে শিডিউল প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু ভোগান্তি লাঘবে ট্রেন চালু করলেও তা যেন থেকেই যাচ্ছে। 

দুপুর দেড়টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয় আকলিমা আকতার এর। শহর থেকে ট্রেন সকাল ৯টায় ছেড়ে যাবে। সেটাতে যেতে পারবেন না আকলিমা। আবার বিকেল সাড়ে চারটায় তার পরীক্ষা শেষ হবে। তখন কোনো ট্রেন থাকবে না। 

তিনি বলেন, আমাদের পরীক্ষার সময়ের সঙ্গে ট্রেনের শিডিউলের বহু তফাৎ। যার ফলে যাওয়া-আসা কোনোটাতেই ট্রেন পাচ্ছি না। অন্তত ফেরার সময় ট্রেন পেলে সুবিধা হত। বিশেষ করে সন্ধ্যা নাগাদ রাস্তায় জ্যাম লেগে যায়। তখন এক ঘণ্টার পথ যেতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগে। আবার বাসের ড্রাইভার, হেলপারদের খুবই খারাপ আচরণ এবং বাড়তি ভাড়া। সব মিলিয়ে অনেক ভোগান্তি। সেজন্য প্রশাসনের নিকট আবেদন যেনো বিষয়গুলো উনারা বিবেচনা করেন।

গত রোববার (১০ অক্টোবর) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান সাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিদিন চট্টগ্রাম নগরীর রেল স্টেশন থেকে সকাল ৮টা এবং ৯টায় দুটি ট্রেন ক্যাম্পাসে আসবে। আবার দুপুর ১টা ৩০ এবং ২টা ৩০ এ পুনরায় ক্যাম্পাস ছেড়ে যাবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, চবির বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৭ হাজারের বেশি। যাদের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে দূরে এবং শহরে বসবাস করেন। তাদের যাতায়াতের একমাত্র বাহন শাটল ট্রেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী শাটলে আসা যাওয়া করেন। 

গত ২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ১৬ অক্টোবর থেকে শাটল ট্রেন চালুর বিষয়ে জানান। তবে শাটলের এমন শিডিউলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। ফয়সাল আলম নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নূন্যতম মূল্যায়ন কি নেই আমাদের? ট্রেন চলবে অথচ আমরা চড়তেই পারবো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কী জানে না কখন পরীক্ষা শুরু এবনহ শেষ হয়? এই শিডিউলে ট্রেন চালু করে লাভ কী হলো? 

কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাইদ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের পরীক্ষা সাড়ে দশটায় শুরু হয় এবং দুপুর আড়াইটায় শেষ হয়। অথচ ট্রেন ছাড়বে ঠিক আড়াইটায়। তাহলে পরীক্ষা শেষ করে ট্রেন ধরে বাসায় ফেরা সম্ভব না। আমাদের মতো আরও অনেক বিভাগের পরীক্ষা হচ্ছে। শাটল চালু হলেও ভোগান্তি তো থেকেই যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে এমন শিডিউল দিয়েছি। কয়েকদিন চলুক তখন দেখা যাবে কি হচ্ছে। প্রয়োজনে শিডিউলে পরিবর্তন আনা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম