১৮ মাস পর জাহাঙ্গীরনগরের হলে জ্বললো আলো

ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৭ ১৪২৮,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

১৮ মাস পর জাহাঙ্গীরনগরের হলে জ্বললো আলো

জাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৪৫ ১৩ অক্টোবর ২০২১  

দীর্ঘদিন পর আবাসিক হলগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দিনে মুখরিত থাকার পাশাপাশি রাতে হলগুলো বাতির আলোয় ঝলমলিয়ে উঠছে

দীর্ঘদিন পর আবাসিক হলগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দিনে মুখরিত থাকার পাশাপাশি রাতে হলগুলো বাতির আলোয় ঝলমলিয়ে উঠছে

দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সবগুলো আবাসিক হল খুলে দেয়া হয়েছে। হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দীর্ঘদিন পর আবাসিক হলগুলো প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দিনে মুখরিত থাকার পাশাপাশি রাতে হলগুলো বাতির আলোয় ঝলমলিয়ে উঠছে। যে দৃশ্য গত দেড় বছরে দেখা যায়নি।

সোমবার রাতে মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র জামিনুর রহমান বলেন, ১৮ মাস পর হলের জানালায় বাতির আলো দেখে মনটা প্রফুল্ল হয়ে গেলো। দীর্ঘদিন পর হল ও ক্যাম্পাসের সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে এই অনুভূতি প্রকাশের মতো না। খুবই ভালো লাগছে। হল ও ক্যাম্পাসের সবার সঙ্গে মিলিত হওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, শেষ পর্যন্ত হল খুলে দেয়া হলো, এর জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের অন্যভাবে বরণ করে নেয়া হয়েছে। এই বিষয়টিও ভালো লাগার মধ্যে।

সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুললেও ২১ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এখন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা ছিল, করোনার টিকার অন্তত একটি ডোজ নিয়েছেন এমন শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া প্রথম বর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা এখনই হলে উঠতে পারবেন না। প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদের হলে উঠতে হবে। যদিও কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরা কিছুটা মনঃক্ষুন্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের হলে উঠনো হয়েছে। তারা যাতে স্বচ্ছন্দ্যে হলে থাকতে পারে সেজন্য আমরা সচেতন রয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গণরুমে উঠতে দিচ্ছি না। তাদের হলে উঠতে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, করোনার টিকা। যেসব শিক্ষার্থী করোনার টিকার অন্তত একটি ডোজ নিয়েছে তারা হলে প্রবেশ করতে পারছে। যারা টিকা পায়নি তাদের জন্য ক্যাম্পাসে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে টিকা নিয়ে শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম