অনলাইনে পরীক্ষার সময় ঢাবি শিক্ষার্থী জানলেন, ‘মা আর বেঁচে নেই’

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৫ ১৪২৮,   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

অনলাইনে পরীক্ষার সময় ঢাবি শিক্ষার্থী জানলেন, ‘মা আর বেঁচে নেই’

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৮ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল

সহপাঠীদের সাথে অনলাইন পরীক্ষায় দিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের ছাত্র রাজীব মোহাম্মদ। পরীক্ষা শুরুর তখন আধঘণ্টা, ঠিক তখনই কর্তব্যরত পরিদর্শকের কাছে মায়ের শারীরিক অবস্থা জানিয়ে পরীক্ষা ত্যাগের (লিভ) অনুমতি চাইলেন রাজীব। লিভ নেওয়ার পর দেখলেন তার মা আর বেঁচে নেই। 

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম বর্ষের ইংরেজি বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার সময় ঘটনা ঘটে ঢাবির এ ছাত্রের সাথে। 

লিভ নেওয়ার কিছুক্ষণ পর ফোন করে কর্তব্যরত শিক্ষককে রাজীব কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার মা আর নেই?’ কথাটা শুনতেই এই ব্যাচসহ ও পুরো বিভাগে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজীবের বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের জন্য শোক প্রকাশ করেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহপাঠী আল আমিন সরকার লিখেছেন, অনলাইন পরীক্ষা চলছিল। প্রায় ৩০ মিনিট অতিক্রান্ত হয়েছে এমন অবস্থায়, হঠাৎ কান্নার শব্দ পেলাম। ডিসপ্লেতে তাকিয়ে দেখি বন্ধু রাজীবের চোখে পানি। রাজীব বলতেছে, ম্যাম, ম্যাম....., ম্যাম, আমি কী লিভ নিতে পারি! আমার মায়ের কী যেন হয়েছে। 

এক মিনিট পর লিভ নেয়ার অনুমতি পেলেন তিনি। এইতো কিছুক্ষণ আগে শুনলাম তার মা আর ইহজগতে নেই! আমরা পরীক্ষা শেষ করে কেবলই একটা ফুরফুরে মেজাজে হাসিখুশিতে মেতে উঠছিলাম আর বন্ধুর জীবনে কত বড় পরীক্ষা হয়ে গেল। মৃত্যু কত নিষ্ঠুর কখন ডাক আসবে কেউ জানে না। আল্লাহ উনাকে মাগফিরাত দান করে জান্নাত দান করুক এবং  আমার বন্ধু ও তার পরিবারকে যেন ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন, আমিন। 

রাজীবের এক বন্ধু শরিফ মিয়া ফেসবুকে লিখেন, রাজিবের সাথেই পরীক্ষা দিচ্ছিল গুগলের একই ক্লাসরুমে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র আধঘণ্টা পর কে যেন হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে। লেখা বন্ধ রেখে হঠাৎ মোবাইলের ডিসপ্লের দিকে তাকাতেই দেখি বন্ধু রাজিবের চোখের পানি অঝোরে ঝড়ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম